কথা বলুন, আমাকে বলতে পারতিস, কেন, কেন এমন করলি- যত ঢপবাজি।
প্রতিবার ডিপ্রেশনের জন্য আত্মহত্যার ঘটনা ঘটার পর আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখতে পাই, কেন আমার ফোন করলি না, আমাদের বলতে পারতিস, কথা বলুন। কিন্তু বাস্তবে কী হয় ?
যে সত্যিই ডিপ্রেশনে ভোগে সে কথা বলার মত মনের অবস্থায় থাকে না, ঘর থেকে বের হতে বা খাবার টেবিলে পরিবারের অন্যজনের সাথে বসে খেতেও ইচ্ছা করে না। বালিশটাকে জড়িয়ে পাখার দিকে তাকায, অথবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখে মাটি কতটা নিচে। তখন আশেপাশে কাউকেই প্রায় খুঁজেই পাওয়া যায় না। লোকে বলে, ও মালটা অন্যরকম হয়ে গেছে, ওকে ডাকলে আড্ডাটা ঘেঁটে দেবে, শালা পাগল হয়ে গেছে, চিল ব্রো, আমাদের সবাইকার সমস্যা আছে!
আর একটা হচ্ছে ডিপ্রেশন নিয়ে ইগনোরেন্স। ডাক্তার দেখিয়ে কী হবে? একবার ওষুধ খেলে সারা জীবন খেতে হবে। এখন তো ভালো আছি,ওষুধ কেন খাব। ডিপ্রেশনটাকে আমরা ট্যাবু বলে দেখি। আমরা ব্লাড প্রেসার, সুগারের ওষুধ খেতে পারি কিন্তু সাইকিয়াট্রির ওষুধ? নৈব্ চ। বিয়ের আগে আমরা পাত্র বা কন্যাপক্ষকে জানাই না ছেলে বা মেয়ে সাইকিয়াট্রিক ওষুধ খায়। না হলে স্ট্যাম্প পরে যাবে পাগলের বংশ। ভাই-বোনদের বিয়ের সম্বন্ধ আসবে না। টিনএজ ছেলে মেয়ে যদি বাবা মাকে বলে মন খারাপ, কান্না পাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে বলে দেবে তোদের সবেতেই বাড়াবাড়ি। আমাদেরও এরকম হয়েছে কিন্তু আমরা নিজেদেরকে সামলে নিয়েছি। মনের জোর রাখো। একবারও বুঝতে চায় না দিনকাল বদলে গেছে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বদলে গেছে। অফিসে অফিসে মেন্টাল হেলথ নিয়ে সেমিনার, লেকচার হবে কিন্তু একটা টক্সিক পরিবেশের মধ্যে সবাইকে রেখে দেবে। মানসিক দুর্বলতা মানে নট ফিট ফর ওয়ার্ক। মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যেই চন্দ্রমৌলিরা হারিয়ে যায় যতক্ষণ না আরেকটা চন্দ্রমৌলি তৈরি হচ্ছে।
তাই প্রতিটা মৃত্যুর পর আদিখ্যেতা না করে আমরা বাস্তবটাকে স্বীকার করতে শিখি। একটু সহমর্মিতা নিয়ে আশেপাশের লোকগুলোকে দেখি, তাদের বুলি না করি। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ট্যাবুগুলো ভাঙি। আর ঠিক সময় চিকিৎসক দেখাই।











