৩ এপ্রিল, ২০২৫
পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ সালের শিক্ষক ও অশিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের ঘোষিত রায়ের ফলে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়! প্রায় ২৬,০০০ স্কুল শিক্ষক চাকরিচ্যুত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোন রকম দুর্নীতির প্রমাণ নেই। এই শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং তাদের পরিবার পরিজনকে এই রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এই সংকটের সম্পূর্ণ দায় রাজ্য সরকার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি)। সরকার ও শাসক দলের অনেক নেতা প্রত্যক্ষ ভাবে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে গ্রেফতার হলেও সি বি আই -এর দীর্ঘসূত্রিতা এবং গাফিলতির কারণে প্রায় ৫ বছর ধরে তদন্ত চললেও সব অপরাধী এখনো চিহ্নিত নয়। চাকরি দেবার নামে লাখ লাখ টাকা খোলাখুলিভাবে তুলে সেই শাসক দলের কেন্দ্রীয় ফান্ডে জমা হয়েছে, যে দল এবং সরকার পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ভিত্তিতে প্রতি মুহূর্তে মারণ আঘাত হানছে।
আমরা চাই সমস্ত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু কোন অজুহাতেই দুর্নীতির দায় চাপিয়ে দেওয়া যাবে না নিরপরাধ শিক্ষক এবং তাদের পরিবারের উপর। আইনের বিচার এমন হওয়া উচিত, যাতে একজন নিরপরাধও সাজা না পায়। যোগ্য অযোগ্য বাছাই করতে না পারার দায় কোনমতেই যোগ্য প্রার্থীর হতে পারে না। যে চরম অমানবিক এবং আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সরকারের অপরাধে বিপুল সংখ্যক জীবিকাচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকা এবং তাঁদের পরিবারের সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করা হল, সেই সরকারকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তীব্র ধিক্কার জানায় অভয়া মঞ্চ। সরকারের অপদার্থতা ও দুর্নীতিকে লাগামহীন প্রশ্রয় দেওয়ার জন্যে বেশ কিছু যোগ্য প্রার্থী শুধু জীবিকাই হারালেন না, তাঁদের সারাজীবন ‘ভুয়ো’ অপবাদ নিয়ে, অসম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে হবে। তাদের প্রতি আমরা সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।
এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির ভয়াবহ শিকার যে শিক্ষক শিক্ষিকারা, অভয়া মঞ্চ তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং তাঁদের জীবিকার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সংহতি জানাচ্ছে। এই অমানবিক পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ও ন্যায়সঙ্গত করে তোলার জন্য আইন এবং প্রশাসন উভয়ের কাছেই আবেদন জানাচ্ছে অভয়া মঞ্চ।
পুণ্যব্রত গুণ, তমোনাশ চৌধুরী, মনীষা আদক
আহবায়ক, অভয়া মঞ্চ










