২৫ শে অক্টোবর, ২০২৫ মৌলালী যুব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হল অভয়া মঞ্চের আহবানে গণ কনভেনশন। অভয়া আন্দোলনের গতিপথ এবং ভবিষ্যত নিয়ে গণসংগঠনগুলির সঙ্গে মত বিনিময়ের উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয় এই সভা। ২০টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন, যোগ দেন অভয়া মঞ্চের অন্তর্ভুক্ত সংগঠনগুলি।
অভয়া মঞ্চের অন্যতম আহবায়ক ডঃ পুণ্যব্রত গুণ সমগ্র কনভেনশনটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন। একটি অসাধারণ ভিডিও ক্লিপ দিয়ে কনভেনশনের সূচনা হয়। অভয়া আন্দোলনের বিভিন্ন মাইলস্টোন এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের অসামান্য চিত্রায়ন এই ভিডিও টি।
সংগ্রামের দলিলচিত্র প্রদর্শনের পর মঞ্চের আহ্বায়ক মণীষা আদক এই কনভেনশনের খসড়া প্রস্তাবনা পাঠ করেন। সভাপতি মণ্ডলীতে ছিলেন হীরালাল কোনার, সৌম্য দত্ত, অসিত ভট্টাচার্য, স্বাতী চক্রবর্তী, ইলোরা দেবনাথ, নন্দা মুখার্জি এবং সীমা মুখার্জি।
সভাপতি মণ্ডলীর পক্ষ থেকে অসিত ভট্টাচার্য অভয়া হত্যার বিচারহীন ৩৫১ তম দিনে স্বাধীনোত্তর ভারতের এই অভূতপূর্ব গণজাগরণকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য পেশ করার জন্য আহ্বান করেন। সব বক্তারাই তাঁদের বক্তব্যে সাংগঠনিক ভাবে অভয়া মঞ্চের পাশে থাকা এবং ৯ অগাস্ট কালিঘাট চল অভিযানে আংশ গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে পারমিতা দাশগুপ্ত বলেন রাজ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ। অভয়া হত্যাকাণ্ডের পরেও একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। অভয়া মঞ্চ ঠিক পথে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। রাজ্য কেন্দ্রের সেটিংকে ভাঙার জন্য আরো বেশি করে সিবিআই-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করা উচিত, আরো বেশি সিবিআই ভবন অভিযান করা দরকার। অভয়া মঞ্চের আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়ে উঠুক তিনি এই কামনা করেন।
কংগ্রেস উইমেন্স সেল এর পক্ষ থেকে কল্যাণী চক্রবর্তী বলেন তাঁরা প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনে আছেন। গত বাইশে জুলাই জাস্টিস অ্যান্ড সেফটি ফর উইমেন উপলক্ষে কর্মসূচি করেছেন। এই ভয়ংকর অন্যায়ের বিচার এবং সমস্ত মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ও রাজ্যে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাঁরা অভয়া আন্দোলনের সঙ্গে থাকবেন ও অভয়া মঞ্চের সমস্ত কর্মসূচিতে সর্বাত্মকভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন এর পক্ষ থেকে সৃজিত গাঙ্গুলী বলেন ৩৪ বছর ধরে তাঁরা বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাচ্ছেন। তাঁদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা অভয়া মঞ্চের প্রতিবাদী আন্দোলনের পাশে থাকবেন।
লাল ঝাণ্ডা মজদুর ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে সৌমেন্দু গাঙ্গুলী বলেন অভয়া হত্যাকাণ্ডের পর যে দর্পিত স্লোগান মানুষকে উদ্দীপিত করেছিল ‘অভয়ার ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই’- সেই স্লোগানকে সঙ্গে নিয়ে আজ পর্যন্ত লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েনি অভয়া মঞ্চ। এর জন্য অভয়া মঞ্চকে অভিনন্দন জানান তিনি । তিনি মনে করিয়ে দেন গণআন্দোলন শুধু শাসক পরিবর্তনের লড়াই নয়, ঐতিহাসিক যুগ সন্ধিক্ষণে শোষণ ও নির্যাতনের বুনিয়াদি কাঠামোকে ভেঙে ফেলার আহ্বান না করলে আন্দোলন সফল হবে না। তিনি আশা করেন অভয়া আন্দোলন সেই দিকেই পরিচালিত হবে।
AITUC র পক্ষ থেকে লীনা চক্রবর্তী ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান সমগ্র ভারতবর্ষে মেয়েদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা কি ভয়ংকর ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। ২০২২ শে গুজরাটে বিলকিস বানো ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বীরের সম্মান দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উন্নাও হাথরসের ঘটনা উল্লেখ করে প্রশাসনিক মদতে নারী নির্যাতনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন তিনি। রাজ্যে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুলিশের হাত থেকে সমাজবিরোধীদের ছাড়িয়ে আনার দৃষ্টান্ত তৈরি করেন। পার্কস্ট্রিট ধর্ষণকে সাজানো ঘটনা বলেন। নারী নির্যাতনের বিষয়ে রাজ্য-কেন্দ্র কেউই পিছিয়ে নেই। এই পরিস্থিতিতে মানুষের রাস্তায় নামা ছাড়া নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করার আর কোনো পথ নেই অভয়ার ঘটনা ছিল ‘curtain raiser’। তিনি বলেন যে জনজোয়ার অভয়া কাণ্ডের পরে রাস্তায় দেখা গিয়েছিল সেই জনজোয়ারকে ফিরিয়ে আনতে হবে। AITUC র পক্ষ থেকে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন অভয়া মঞ্চের নয় অগাস্টের কর্মসূচিতে সর্বতোভাবে তাঁরা থাকবেন। ওইদিন ভারতছাড়ো দিবস উপলক্ষে তাদের নিজস্ব কর্মসূচি থাকলেও মঞ্চের কর্মসূচিতেও তাঁরা অবশ্যই থাকবেন।
AICCTU এর পক্ষ থেকে অতনু চক্রবর্তী বলেন শিক্ষাক্ষেত্র ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা এবং গণস্বাস্থ্য এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই লড়াই চালাতে হবে। পরবর্তীকালে এই ধরনের আরও মতবিনিময় সভা আয়োজন করার প্রস্তাব রাখেন তিনি। অভয়া আন্দোলনকে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক উত্থান হিসাবে চিহ্নিত করে তিনি জনগণের দৃপ্ত গর্জন কে আবার ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
ডেমোক্রেটিক অ্যাসোসিয়েশন অফ এলজিবিটি কিউ কমিউনিটির পক্ষ থেকে সুপ্রভা রায় বলেন অভয়া আন্দোলন এল জি বি টি কিউ সম্প্রদায়ের মানুষের দাবিকে সামনে তুলে এনেছে। দেশব্যাপী নারী এবং প্রান্তিক যৌনতার মানুষের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বান্তকরণে কালীঘাট চলো ডাককে সমর্থন করে তিনি বলেন অভয়া আসিফা তামান্নারা হারিয়ে যাচ্ছে শাসকের অত্যাচারে। এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে যে লড়াই কোন প্রলোভনে কেনা যাবে না।
রাজ্য কোঅর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন রাজনৈতিক অপরাধকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে, আক্রমণ যেহেতু বহুমাত্রিক তাই সংঘবদ্ধভাবেই আন্দোলনে নামতে হবে। অধিকার বুঝে নেওয়ার সংগ্রামে রাজ্যের মানুষের বৃহত্তম অংশকে যুক্ত করতে হবে। ‘কালীঘাট চল’ এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে সর্বশক্তি দিয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন ৯ এবং ১৪ অগাস্টের কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা এনে দেবে না কিন্তু স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামকে শক্তিশালী করবে। অভয়ার ন্যায় বিচারের দাবি এক বৃহত্তর গণ সংগ্রামের অংশ।
AIDWA র পক্ষ থেকে শমিতা ধর চৌধুরী বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়ে অনেক ভয়ংকর সামাজিক দুর্যোগের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। অপরাধীদের শাস্তি দিতে কেন্দ্র রাজ্য কোনো সরকারি উদ্যোগ নিচ্ছে না বরং অপরাধীদের আড়াল করছে। তাই পথের আন্দোলনই একমাত্র পথ। ২০১১ র আগের ঘটনাগুলিতে সরকার এইভাবে অপরাধীদের আড়াল করতে চায়নি যেটা এখন হচ্ছে। তিনি বলেন এই আন্দোলন শুধু শহরের নয় গ্রামেও হয়েছে, আরও দুর্বার করে তুলতে হবে আন্দোলন। সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে অভয়া মঞ্চের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
SFI এর পক্ষ থেকে দিথি রায় বলেন আরজি কর আন্দোলনের প্রথম থেকে তাঁরা ছিলেন। পরবর্তীকালে গণজাগরণ ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে ব্যাপকতর হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা এই আন্দোলনে থাকবেন। শুধু অভয়ার ঘটনা নয়, প্রান্তিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলির দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধেও তাঁরা লড়ছেন। কলকাতার উপরে আর জি কর, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ প্রভৃতির ঘটনা প্রতিষ্ঠানগত ভয়াবহ দুর্নীতিকে চিহ্নিত করে। শাসকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গেলে মতপার্থক্য নিয়েই বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে একসঙ্গে রাস্তায় থাকতে হবে ক্যাম্পাসের গণতন্ত্র এবং বৃহত্তর সমাজে সাম্যের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে।
পঞ্চায়েত কর্মচারী সমিতির যৌথ কমিটি র পক্ষ থেকে সন্দীপ রায় বলেন গ্রামীণ কর্মচারীদের মধ্যে কাজ করে তাঁদের সংগঠন। অর্থনৈতিক আন্দোলনকে অন্যান্য দাবি দাওয়ার আন্দোলন এবং সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে চান তাঁরা। তিনি বলেন সব শাসক কে এক ভাবে দেখা ঠিক হবে না। কোন অপরাধ ঘটার পর সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা জরুরি। ২০১২ সাল থেকে পঞ্চায়েত কর্মচারীরা প্রশাসনের আক্রমণের শিকার। এর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি সর্বভারতীয় ধর্মঘট হয়, ২০১৩ সালের ২০ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি আবার সর্বভারতীয় ধর্মঘট হয়। ধর্মঘট করার অপরাধে শহীদ হন রহিকুল হাসান শেখ। ২০১৩ সালে মুর্শিদাবাদে এই অপরাধে হজরত ওমরের কান কেটে নেওয়া হয়। রাজ্য এবং কেন্দ্র দুই সরকারই নারী নির্যাতনকে কায়েম রাখতে চায়। তাই সরকারি নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। সংগঠনের তরফ থেকে আলিপুরদুয়ার থেকে ঝাড়গ্রাম সমস্ত জেলায় অভয়াকে স্মরণ করে ৯ অগাস্ট কর্মসূচি নেওয়া হবে। হাওড়া এবং হুগলি শাখা কলকাতায় অভয়া মঞ্চের জমায়েতে অংশগ্রহণ করবে।
রাতদখল নারী ট্রান্স কুইয়ার ঐক্য মঞ্চ এর পক্ষ থেকে মহাশ্বেতা সমাজদার ১৪ই আগস্ট ২০২৪এর অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতাকে স্মরণ করেন। প্রায় ১৭৫ টি জায়গায় রাত দখল হয়েছিল সারা রাজ্য জুড়ে, নারী ট্রান্স এবংক্যুইয়ার সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই ডাকে বিপুলভাবে সাড়া দিয়েছিলেন। তিনি বলেন সেই স্বতঃস্ফূর্ততা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে, হুমকি সংস্কৃতি এবং পিতৃতন্ত্র এই দুইয়ের বিরুদ্ধেই সমানভাবে লড়াই চালাতে হবে। সমাজে শ্রেণীরাজনীতির মত লিঙ্গ রাজনীতির প্রশিক্ষণ পর্যাপ্ত ভাবে নেই। তাই রাতদখল মঞ্চ বিভিন্ন ওয়ার্কশপ করে লিঙ্গ রাজনীতির ধারণা তৈরি করতে চায়। অভয়া মঞ্চের সমস্ত কর্মসূচিতে থাকবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৪ ই অগাস্ট স্পর্ধার বর্ষপূর্তিতে তিনি সকলকে যোগ দেবার আহ্বান জানান। তিনি বলেন সজাগ নাগরিক সমাজকে প্রসারিত করতে হবে যা সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে l
DYFI এর পক্ষে সরোজ দাস বলেন এতদিনে স্পষ্ট হয়ে গেছে কারা বিচারের পক্ষে আর কারা প্রহসনের পক্ষে। সাংগঠনিক ভাবে অভয়া মঞ্চের পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
IFTU এর পক্ষ থেকে আশিস দাশগুপ্ত বলেন প্রান্তিক মানুষদের অভয়া আন্দোলনে আপাতভাবে কম দেখা গেলেও তাঁরা এই আন্দোলনের সঙ্গে গভীর ভাবে সম্পৃক্ত। আশা কর্মীর অস্থায়ী কর্মচারীরা এই আন্দোলন ও প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। অভয়া মঞ্চ্ এই আন্দোলনকে চলমান রেখেছেন। এই আন্দোলনের সঙ্গে তাঁরা ছিলেন আছেন এবং থাকবেন।
INTUC র পক্ষ থেকে দিব্যেন্দু মিত্র বলেন আন্দোলনে আশাহীনতার জায়গা নেই। অভয়ামঞ্চের উদ্যোগকে সফল করার জন্য সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। এক চুল লড়াইয়ের জমিও ছাড়া চলবে না। নাগপুর থেকে রাজ্য সরকারের অপকর্মের সমর্থন ও স্বীকৃতি আসছে। একদিকে মনুবাদের ধারক বাহক কেন্দ্রীয় সরকার অন্যদিকে রাজ্যে ধর্ষণ ঢাকার চেষ্টা পার্কস্ট্রিট থেকে আর জি কর,কসবা সর্বত্র। তিনি বলেন তাঁরা সব প্রতিবাদী কর্মসূচিতে ছিলেনএবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। সারা ভারত জুড়ে নারী নির্যাতনের অবসান করতে সেটিং কে অস্বীকার করে শ্রমিক কৃষক সব সম্প্রদায় কে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালাতে হবে।
WBMSRU এর পক্ষ থেকে বাসব রায়চৌধুরী বলেন কাউন্টার পলিটিক্যাল ন্যারেটিভ তৈরি করতে হবে। আবার রাতের দখল নিতে হবে, অভয়ার ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ধারাবাহিক নির্যাতন ও দুর্বৃত্তায়নের ফসল- এটা প্রমাণ করতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, বিজেপি নবান্ন অভিযান ডেকেছে কিন্তু তারা সিবিআই দফতর অভিযানে কি থাকবে? তিনি বলেন পার্ক স্ট্রিট কামদুনি কসবা সব টাই এক সূত্রে বাধা। অভয় মঞ্চে নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন এইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছে এবং মেডিক্যাল রিপ্রেসেন্টেটিভ ইউনিয়ন এই মঞ্চের পাশে সর্বতোভাবে থাকবে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (WBJDF) এর তরফে দেবাশিস হালদার বলেন আন্দোলনকে শেষ করে দেবার লক্ষ্যে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সার্বিক হতাশার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। নির্বাচন বন্ধ করে কলেজে সিন্ডিকেটরাজ চালানোর ফলে সর্বত্র যথেচ্ছাচার চলছে। এর বিরুদ্ধে এবং পিতৃতন্ত্র ও ধর্ষণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রত্যেককে ব্যক্তিগত স্তরেও লড়তে হবে। অভয়া মঞ্চের কর্মসূচিকে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়ার ডক্টরস ফ্রন্ট সর্বান্তকরণে সমর্থন জানায়। অভয়া মঞ্চের পরিচালনায় সিজিও কমপ্লেক্স অভিযানে তারা থাকবে এই আশ্বাস দিয়ে জুনিয়ার ডক্টর ফ্রন্ট এর কর্মসূচিতেও অভয়া মঞ্চকে তিনি আহবান করেন। ৮ অগাস্ট অভয়া হত্যার রাতে নটা থেকে মশাল মিছিল যাবে কলেজ স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার, রাতে শ্যামবাজারে অবস্থান, সকালে বিভিন্ন অঞ্চলে রাখি বন্ধন, সন্ধ্যায় অভয়া মঞ্চের ‘কালীঘাট চলো’ কর্মসূচি এবং সেখান থেকে আরজিকর হাসপাতালে ক্রাই অফ দা আওয়ার মূর্তি সংলগ্ন এলাকায় জমায়েত- এই সব কর্মসূচিতে আরো অনেক সংগঠনকে যুক্ত করে যৌথ ভাবে করার আবেদন জানান তিনি।
TUCI এর পক্ষ থেকে প্রিয়ম বসু বিভিন্ন প্রতিবাদীদের এক সূত্রে বাঁধার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন সেটিং গভীর হচ্ছে, আন্দোলনকে তীব্রতর করে সেটিংকে ব্যর্থ করতে হবে দুর্বলতম গ্রন্থিতে আঘাত করে। তিনি বলেন গত ১৪ অগাস্টের ভাঙচুরের ঘটনার তদন্তের দাবি অভয়ামঞ্চের প্রস্তাবনার অংশভূক্ত করা হোক। অভয়া মঞ্চের সঙ্গে তাঁরা সবসময় থাকবেন বলে জানান।
সেন্ট্রাল কোঅর্ডিনেসন কমিটি–র পক্ষে রূপক মুখার্জি অভয়া আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।
পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির পক্ষ থেকে প্রদ্যুৎ চৌধুরী বলেন সর্বতোভাবে অভয়া মঞ্চ আন্দোলনের সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে অভয়া মঞ্চের অন্যতম আহবায়ক তমোনাশ চৌধুরী সমস্ত সংগঠকদের কুর্নিশ জানান। অভয় মঞ্চের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনের পায়ে পা মিলিয়ে চলার যে ঐক্য তৈরি হচ্ছে তা ভবিষ্যতে আন্দোলনকে তীব্রতর করে তুলবে বলে তিনি মনে করেন।তিনি অভয়া মঞ্চের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলি আরেকবার ঘোষণা করেন। সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটের দাবিতে ১ লা অগাস্ট অভয়া মঞ্চ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিজিও কমপ্লেক্স অভিযান করবে। সি জি ও কমপ্লেক্স সাফাই করে সিবিআই অফিসে তালা লাগিয়ে দিয়ে আসবে অভয়া মঞ্চ। তিনি বিরোধী দলনেতাকে প্রশ্ন করেন নবান্ন অভিযান করার আগে বিধান সভায় কতবার তাঁরা অভয়া হত্যার বিচারের দাবি তুলেছেন, কত বার তাঁদের দলের সরকারকে প্রশ্ন করেছেন সি বি আই এর ভূমিকা নিয়ে। এই দলের সঙ্গে নবান্ন অভিযানে যেতে তিনি অস্বীকার করেন। অভয়া মঞ্চের তরফ থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট এর সব কর্মসূচিতে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন ৯ অগাস্ট অভয়ামঞ্চের কালিঘাট চলো কর্মসূচির মেল পেয়ে পুলিশ এই মিছিলকে কলেজ স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত করার পরামর্শ দিয়েছে কিন্তু পুলিশের পরামর্শে তাঁরা আন্দোলন করবেন না। পুলিশকে অগ্রাহ্য করে আদালতের নির্দেশ বার করে যেভাবে দ্রোহের কার্নিভাল হয়েছিল সেই ভাবেই ২০২৫ আগস্ট কালিঘাট চল অভিযান হবে। পুলিশ বাধ্য করলে আইন অমান্য করতে হবে কারণ ১৯৪২ এর মতই এখন ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৪ অগাস্ট ২০২৫ আবার রচনা করবে রাত পুনর্দখলের ইতিহাস।
অনুষ্ঠানের শেষে একটি অসাধারণ ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয় যেখানে সমস্ত জেলার মানুষ অভয়ার বিচারের দাবিকে সমর্থন করে অভয়া মঞ্চের সঙ্গে থেকে ২০২৫ ৯ই আগস্ট এর কর্মসূচিকে সফল করে তোলার আবেদন জানান।









