দিনটা ২৭শে জানুয়ারী। প্রজাতন্ত্র দিবসের পরের দিন। কেন প্রজাতন্ত্র?
আমরা তো ভাবি রাজা নেই। “আমরা সবাই রাজা” অথবা সবাই সাধারণ। আসলে রাজা আছে। তাই তো অভয়ার মা প্রশ্ন করলেন,তার মেয়ের বিচারে জল ঢালছে যে সিবিআই,তার অফিসার পাচ্ছে দেশের সেরার পুরস্কার। রাজার বাড়ি থেকে। এই একই দিনে আরো দুই মা বইমেলায় এসে চোখের জলে ভিজিয়ে দিয়ে গেলেন আমাদের।
তামান্না, এক পরিযায়ী প্রজার মেয়ে। রাজার সেনারা আনন্দ করে, মজা করে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে ছোট্ট সোনার পায়রার বুকের মতো নরম শরীরটাকে। কলিজাটা ফেটে গেছে মা সাবিনার।
আর এক মা রেহানা। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে তার সংগ্রামী পথচলা। নাদিরা আজাদ। এই আজাদি সে নিজে ঘোষণা করেছিল। তাই উত্তরবঙ্গের রাজার কোতোয়ালরা তাকে হুমকি হেনস্থা বয়কট সব করেছিল। মেয়ে তাও অভয়ার বিচার চেয়ে,মেয়েদের অধিকার চেয়ে গলা ফাটিয়েছে। কবিতা লিখেছে “ঘুমের ভেতর ভাতের গন্ধ পাই”।
অভয়া মঞ্চ এবং প্রণতি প্রকাশনী তার লেখা কবিতার বই প্রকাশ করলো। সেই বই আদর করে ছুঁয়ে থাকলেন তামান্নার মা, নাদিরার মা। মাঠে যেনো চিৎকার করে কারা বলছে “কেনো চেয়ে আছো গো মা.…”
অভয়া, তামান্না, নাদিরা এরা ফুল ভালবাসত। বারুদ পেয়েছে। রাজার হাতে প্রজার মার খাওয়া চলছেই। একই দিনে আনন্দপুর হত্যাপুর হয়ে গেছে। শ্রমিক প্রজা পুড়ে মরে গেলে, রাজার গায়ে আঁচ লাগে না।
তা বলে কি আমরাও চুপ করে থাকবো? শ্রমিকের মা এর কান্না কি শুনতে পাই আমরা? রাজাদের জেড সিকিউরিটি আর প্রজাদের জিরো সিকিউরিটি।
কোলের মেয়েরা চলে গেছে তাও মা এরা লড়াই করে চলেছে। চোখ মুছে মশাল জ্বালাচ্ছে। আমাদের বুকের ভিতর বারুদ ভরে দিচ্ছে। যে সাধারণ তন্ত্র রাজতন্ত্রের চাকার তলায় পিষে যাচ্ছে, সেই মানুষকে জাগতে হবে। রথের চাকা উল্টোদিকে ঘোরাতেই হবে। শহীদের মা-দের কাছে আমাদের শপথ রইলো সেই কাজেই এ লড়াই চলবে। না হলে অগণিত নির্যাতিত, সোনার পিদিম কন্যারা রাজ্যবাসীকে, দেশবাসীকে ক্ষমা করবে না। সময় এসেছে নিজেকে প্রশ্ন করার “আপনি কোন দিকে”?












লড়াই জারি আছে।