মিসেস দেবনাথ প্রার্থী হলেন।
একমাত্র কন্যাকে হারিয়ে যে অবর্ণনীয় কষ্ট তাঁরা পেয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশের অতীত।
তাঁদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা।
খটকা দুটো জায়গায়।
ওঁরা কিন্তু মেয়ের নাম অভয়া দেন নি!
অভয়া নাম দিয়েছিল সমাজ।
গড়ে উঠেছিল এক আশ্চর্য ঐতিহাসিক আন্দোলন। দলমত নির্বিশেষে মানুষ গর্জে উঠেছিল যাবতীয় নষ্টামি, ভন্ডামি, দুর্নীতি, সেটিং এর বিরুদ্ধে।
তো সেই অভয়া নাম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতীকে ঠিক কী চাইবেন প্রার্থী মিসেস দেবনাথ?
ভোট না বিচার?
যে দলের পতাকা তিনি নিয়েছেন সেই দল, রাজ্যের শাসক দল, সিবিআই আর কলকাতা পুলিশ তো একবাক্যে বলছে শুধু সঞ্জয় খুনি। সেটাই সরকারী মত। দেবনাথ পরিবারের সহমত তো? যদি হ্যাঁ হয় তাহলে কোন বিচার চাইছেন ওঁরা?
কার কাছে?
আর একটা কথা।
যদি উনি ভোটে জেতেন তাহলে কী প্রমাণ হবে?
উনি সিবিআইয়ের সঙ্গে সহমত?
আর যদি হেরে যান? তাহলেই বা কী প্রমাণ হবে?
তাঁর মেয়েকে কেউ মারে নি?
ভোট দাঁড়ানো গণতান্ত্রিক অধিকার অবশ্যই।
তবে নারী সুরক্ষার জন্য কুলদীপ সেঙ্গার,আশারাম বাপু, রাম রহিম বাবার দলের হয়ে ভোট চাওয়ার মধ্যে গণর চেয়ে তান্ত্রিক প্রভাবই বেশি!
২০০৭ সালে মৃত ভাই রিজওয়ানুরের মৃত্যুর বিচার চাইতে ২০২৬ সালে তার দাদা রুকবানুর আবার ভোটে দাঁড়িয়েছে।
মৃত্যু সবসময়েই দুঃখজনক। কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতি তার থেকে প্রার্থী খুঁজে বার করে।
মিসেস দেবনাথের প্রার্থী হওয়াও একটা বিষণ্ণ-বৃত্ত সম্পূর্ণ করলো ।যেখানে বিচার দাবী করার সমগ্র প্রক্রিয়াটি এসে ভোট-প্রার্থনার বৃত্তে সমাপ্তি পায়।
বৃত্তই।
অন্য দিক থেকে দেখলে শূন্য!










