১৩ই এপ্রিল, ২০২৬
সম্প্রতি কলকাতার এক প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (Cardiologist) সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান দিলে তিনি ফি-তে ছাড় দেবেন। ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস’ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
আমাদের মূল বক্তব্যসমূহ
পবিত্র শপথ লঙ্ঘন:
চিকিৎসকদের পেশাগত নীতি অনুযায়ী কোনো রোগীর সঙ্গে ধর্ম, জাতি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আচরণ চিকিৎসার সমস্ত রকম পরিচিতিগত বিভাজনের উর্ধ্বে উঠে সকল রোগীকে সমান চোখে দেখার আদর্শের ওপর চরম আঘাত।
আইনি ও নৈতিক অবক্ষয়:
এনএমসি (NMC) এবং ভারতীয় মেডিকেল কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী, একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কোনোভাবেই ধর্মীয় আচরণের মানদণ্ডে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করতে পারেন না।
সর্বজনীন পরিষেবার নীতি:
দুঃস্থ রোগীদের সাহায্য করা বা ফি মুকুব করা মহৎ কাজ, কিন্তু তার ভিত্তি হওয়া উচিত রোগীর আর্থিক অবস্থা, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান বা সম্প্রদায়-ভিত্তিক পরিচয় নয়।
মঞ্চের অটল অবস্থান:
অতীতেও যখন রাজনৈতিক স্তরে নামী ব্যক্তি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার চালিয়েছেন (চিকিৎসকরা পদবী দেখে চিকিৎসা করেন) জেপিডি (JPD) তার প্রতিবাদ করেছে। আজ আমাদেরই কোনো সহকর্মী যখন সেই একই বিভেদের পথ বেছে নেন, তখন তা গোটা চিকিৎসক সমাজের কাছে লজ্জার বিষয়।
আমাদের আবেদন:
১. চিকিৎসক সমাজের প্রতি: চেম্বারকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে আরোগ্য নিকেতন হিসেবেই পবিত্র রাখা আমাদের আবশ্যিক কর্তব্য। এই ধরনের অনৈতিক আচরণ বর্জন করা জরুরি।
২. রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি: চিকিৎসা পেশাকে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৩. নিয়ামক সংস্থার প্রতি: এন এম সি ও রাজ্য কাউন্সিল এই ধরণের অনৈতিক আচরণের যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক যাতে চিকিৎসা ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ না হয়।
জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টরস দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং সমস্ত সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চায় যে রোগ নির্ণয় বা নিরাময়ে বিজ্ঞানের কোনো ধর্ম হয় না। পেশাগত নৈতিকতার জঘন্য কোনও অবনমন দেখলে, আবারও আমাদের সোচ্চার প্রতিবাদ জারি থাকবে।











