১৩ জুলাই ২০২৬
২০২৪ এর ৯ই আগস্ট আরজি করের নৃশংস খুন ধর্ষণ নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। সেই সময়ে প্রকাশ পেয়েছিল প্রতিবাদী মানুষের নিঃস্বার্থ মানবিক মুখ। সেই ন্যায়বিচার আজও পাওয়া যায়নি। সেই সময় চিকিৎসক সহ বহু সাধারণ মানুষকে মামলা দেওয়া,হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, বদলী করা, সব হয়েছে। এখনও সেই সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। উপরন্তু দরদী চিকিৎসক ডা: পবিত্র গোস্বামীকে ১৪ই জুলাই থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে, যিনি নিজেই আক্রান্ত হয়েছিলেন তৎকালীন শাসক দলের সমর্থক কিছু চিকিৎসকের দ্বারা। ডাক্তার গোস্বামীর বিরুদ্ধে মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। অবিলম্বে সেই সময়ের সকল প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে দেওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করা হোক।
সময় পেরিয়েছে, নারী নির্যাতন কমেনি বরং বেড়েই চলেছে। বারুইপুরের শিশুকন্যার নির্মম, অবিশ্বাস্য, অসহনীয় খুন ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষ পথে নেমেছে আবার। আমরা তদন্তের আগেই গণপিটুনি এবং পুলিশি এনকাউন্টার– দুইয়েরই বিরুদ্ধে।
তবে এ কথা মনে রাখতে হবে, যে জাতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না, সে জাতি অন্ধ, বধির, মৃতপ্রায়। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করাও আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নাহলে যে কোনো অপরাধ ঢাকা পড়ে যায়। আমরা লক্ষ্য করছি এই সময়েও প্রতিবাদীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া অনুচিত, কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই কেউ যদি অপরাধী হয়ে যায় তাহলে তো রবীন্দ্রনাথ, মহাত্মা গান্ধী, ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী সকলেই অপরাধী হয়ে যান। প্রতিবাদী যদি পথে না নামে কাল আমাদের প্রতিটি ঘরের মেয়ে হয়তো অসুরক্ষিত হয়ে পড়বে। কেউ অন্য কারো বিপদে পাশে দাঁড়াতে ভয় পাবে। গণতন্ত্র এবং মানবতার জন্য তা চরম ক্ষতিকর।
আরজি কর এবং বারুইপুরের কোনো প্রতিবাদীর ওপর অযথা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ এই বাংলার সংস্কৃতিকে কলঙ্কিত করছে যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া জরুরী। আমাদের মেয়েদের সুরক্ষা দিতে হলে অবিলম্বে সমস্ত প্রতিবাদীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এই দাবি জানাই।
পুণ্যব্রত গুণ
মনীষা আদক
তমোনাশ চৌধুরী
আহ্বায়ক, অভয়া মঞ্চ











