আজ ৯ আগস্ট, সকালে আর জি কর হাসপাতাল সংলগ্ন খালপারের বস্তি এলাকায় ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (WBJDF)-এর উদ্যোগে আয়োজিত হলো বিশেষ ‘অভয়া ক্লিনিক’। অভয়ার স্মৃতিকে শুধু স্মরণে নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে ধারণ করাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন। অপর্যাপ্ত শৌচালয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে বহু মানুষ চর্মরোগে ভুগছেন। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অসুখ, হাঁটু ও গাঁটের ব্যথার মতো সমস্যা নিয়েও বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য এসেছেন।
ক্লিনিকে রক্তচাপ, রক্তে শর্করাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ওষুধ। তবে এই ক্লিনিক শুধুমাত্র চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল না। প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাঁদের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করা যে স্বাস্থ্যসেবা তাঁদেরও অধিকার, সেটাও ছিল আমাদের দায়িত্বের অংশ।

চিকিৎসা মানুষের জন্য। অভয়ার স্মৃতিও মানুষের মধ্যেই বেঁচে থাকুক।
তার সাথে দু বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বিচারব্যবস্থা, তদন্তকারী এজেন্সি আর প্রশাসনের ব্যর্থতায় অভয়া যে আজও বিচার পেলোনা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটা মাধ্যম ও বটে এই অভয়া ক্লিনিক।।
এরপর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টায় কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা ন্যায়ের দাবিতে প্রতিবাদী মিছিল।
দু’টো বছর পেরিয়ে গেছে। সময় এগিয়েছে, কিন্তু বিচার কতটা এগিয়েছে?
সরকার পরিবর্তনের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তের ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের তদন্তকারী দলের রদবদল এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সাসপেনশন ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। নতুন SIT গঠিত হয়েছে, তদন্তের দায়িত্বে থাকা সীমা পাহুজাকে সরানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা একই:
বিচার কোথায়?
সঞ্জয় রাই ছাড়া আজ পর্যন্ত আর কেউ গ্রেফতার হয়নি। এখনও জমা পড়েনি কোনও সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট।
যাঁদের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত কতদূর এগোল? কেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্টতা নেই? এবং তার চেয়েও বড় কথা এত এত তদন্তের ফলাফল টা কী হচ্ছে? নাকি বিচার শুধুই খবরের চ্যানেলের রোমাঞ্চকর হেডলাইন এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
আর জি করের ঘটনা শুধু একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড নয়, এর সঙ্গে উঠে এসেছে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগও। সেই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণে দীর্ঘসূত্রিতা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আস্থা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তৈরি করছে।
পুরানো শাসক দলের থ্রেট কালচারের বহু মাথা রাই সময় সুযোগ বুঝে নতুন শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হয়েছেন, যে ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা পুরানো সরকারকে গদি থেকে ছুঁড়ে ফেলে নতুন সরকারকে নির্বাচিত করল, সেই আকাঙ্ক্ষার সম্মান রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। ফলেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার ঘুঘুর ভাষা না ভেঙে সেই একই কাঠামো দিয়ে যদি গোটা ব্যবস্থা টা চলে তা এই আকাঙ্ক্ষার প্রতি অপমান। সন্দীপ ঘোষ গ্যাং এর অসংখ্য দুর্নীতি ও অপরাধের সরাসরি পৃষ্ঠপোষক স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাও বহাল তবিয়তে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শীর্ষে বসে আছেন। ভাবার কোনো কারণ নেই যে সাধারণ মানুষ এগুলো লক্ষ্য করছেন না বা খুব ভালোভাবে বিষয়গুলো দেখছেন।
প্রতিবাদী মিছিলে উঠে এল এই বক্তব্যগুলোই স্লোগানে, বক্তব্যে, পথচলায়।
দাবি স্পষ্ট। প্রশ্ন স্পষ্ট। উত্তর এখনও অধরা।
ধর্মতলায় মিছিল শেষে ডোরিনা ক্রসিং এ সহযোদ্ধা সংগঠন অভয়া মঞ্চের প্রতিবাদী জমায়েতে যোগদান করে আমাদের প্রতিনিধিরা সেখানে বক্তব্য রাখেন।
৯ আগস্ট আমাদের কাছে শুধু একটি তারিখ নয়। ভুলতে বা ভোলাতে না দেওয়ার অঙ্গীকারের দিন।
অভয়ার জন্য বিচার চাই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভিতরের দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। দোষীদের শাস্তি চাই। বিচারহীনতার অবসান চাই। আর একটাও অভয়া যাতে না হয় তা সুনিশ্চিত হওয়া চাই।
দাবি আদায় অবধি লড়াই চলবে।










