শিরোনাম দেখেই পিলে চমকে গেল নাকি?
তাহলে নিচে আরো কিছু পাতলা চমক অপেক্ষা করছে। নামুন। নিচের দিকে।
শিক্ষা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের একটি। সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার নয় কিন্তু! যেমন আরো চারটি মৌলিক প্রয়োজন ও সংবিধান অনুযায়ী মৌলিক অধিকার নয়।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই, তাই ওদিকে পা দিচ্ছি না।
নিজেকে মানুষ দাবি করে মৌলিক প্রয়োজন নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করা যাক।
আশা করি, বাকি অংশ পড়ার আগেই অনাবশ্যক উত্তেজিত হয়ে পড়বেন না। শীঘ্র পতিত হলে…যাকগে।
যে পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজন মানুষের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়েছে,
তার মধ্যে অন্ন কে বাদ দেওয়া যাক। কারণ, এটি না থাকলে মানুষ তো দূরের কথা, কোন প্রাণ ই বাঁচবে না। ফেসবুক করা ও বন্ধ হয়ে যাবে। গল্পের গরু গাছে ওঠার আগেই ধপাস….
বস্ত্র পরিধানের আদিম রূপে ফিরে গেলে দেখা যাবে গাছের পাতা ছাল বাকল আছে। তারপর ছোট নেংটির মত ঢাকনা। তারপর ক্রমশঃ প্রায় সারা শরীর ঢাকার প্রথা। তারপর আস্তে আস্তে উল্টোদিকে চলা শুরু হয়েছে।
ফলে বস্ত্র, আদৌ মৌলিক প্রয়োজন কিনা, এ নিয়ে বেশ বড়সড় বিতর্কের জায়গা তৈরি হয়েছে।
অতএব, এটিও বাদ।
বাসস্থান। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার জন্য যে বাসস্থানের ধারণা এসেছে, ক্রমশ সেটি বদলে গেছে।
এমন সময় ও এসেছে, যখন বাসস্থান কে মানুষ নিজের অজান্তেই নিজের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। নিজের ভ্যালিডিটির জন্য ইট কাঠ পাথর রড় সিমেন্ট বালি…
এখনো সেই গালগল্পে অনেকেই বিশ্বাস করে। যদিও ক্রমেই নিজস্ব বাসস্থানের ধারণা থেকে ফ্ল্যাট কালচারে অভ্যস্ত মানুষের কাছে বাসস্থানের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা কতটা অবশিষ্ট আছে, সেটা নতুন করে ভাবা দরকার।
বাকি রইলো দুই। শিক্ষা আর চিকিৎসা।
এই দুটোকে যে বা যারা মৌলিক প্রয়োজন বলে চালিয়ে দিয়েছে, তাদের দুরভিসন্ধি যে মোটেই ভালো ছিল না, এ বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ।
যেমন ধরুন চিকিৎসা। সেই কোন যুগ থেকে চলে এসেছে…বদলে গিয়েছে…তবু সব মিলিয়ে জগাখিচুড়ী বানিয়ে যতই গলাধঃকরণ করুক, চিকিৎসার আল্টিমেট উদ্দেশ্য মানুষের কাছে অধরাই থেকে গেছে।
যতই ক্যান্সার সারিয়ে ফেলুক, যতই কিছু না সারিয়ে ফেলে দিক,
মানুষ অমরত্ব পায়নি!!!
ফলে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর আগে এই গাজর ঝোলানো আর যা ই হোক মানুষের মৌলিক প্রয়োজন হতে পারে না।
একই কারণে চিকিৎসকের কোন প্রয়োজন নেই!
এরপর সবচেয়ে বড় ধাপ্পাবাজি হলো শিক্ষা। খেয়াল করে দেখুন, যারা এই ধান্ধাবাজি টা শুরু করেছিল, তারা অশিক্ষা কুশিক্ষা নামক দুটি মৌলিক প্রয়োজন কে কিভাবে অস্বীকার করেছে!
যদি কেউ শিক্ষা পায়, তাহলে সে কেন অশিক্ষা/কুশিক্ষা পাবে না?
সে কেন অশিক্ষিত/কুশিক্ষিত বলে দাবি করতে পারবে না?
অশিক্ষা কুশিক্ষা যদি শিক্ষার বিপরীত, তাহলে শুধু ই শিক্ষিত হওয়া বা হতে বলা এক ধরনের মৌলবাদী চিন্তা ভাবনা।
এর ফলে একটি নির্দিষ্ট দিকে মানুষের চিন্তা ভাবনাকে ঘুরিয়ে দিয়ে তথাকথিত ‘শিক্ষিত’ তকমা দিয়ে দেওয়া হয়। সার্টিফিকেট ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
অথচ কত কত এমন মানুষ একটুখানি অশিক্ষা কুশিক্ষা র জন্য সমস্ত সার্টিফিকেট পেছনপকেটে নিয়ে হাপিত্যেশ করে বসে থাকে, উদ্ভট ও উৎকট কাজকর্ম করে, বিকট শব্দে বক্তৃতা দেয়… কর্কটের মত ছড়িয়ে পড়ে…মর্কটের মত….
কেউ কেউ সফল ও হচ্ছে বলে উদাহরণ দেবেন না পিলিজ।
অথচ একটু দুটো অশিক্ষা নিকেতন, কুশিক্ষা একাডেমি ইত্যাদি অনায়াসে বানাও যেত!
এ বঞ্চনা কেবলই শিক্ষার বিষফল।
কোন মানুষের মৌলিক প্রয়োজন কে গলা টিপে ধরে, এমন জিনিস কিসের মৌলিক প্রয়োজন?
ফলে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ঠিক কোনটা, এই নিয়ে একটি চেঁচামেচি সভার আয়োজন করব ভাবছি।
ভার্চুয়াল জগতে খামচি চিমটি সুড়সুড়ি লাথি ঘুষি তেমন কাজের জিনিস নয় বলেই….😋🥱











