Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

বাঙালিয়ানা ও উত্তম কুমার: সংস্কৃতির দর্পণে এক অনন্য মহাকাব্য

Screenshot_2026-09-03-07-50-54-01_680d03679600f7af0b4c700c6b270fe7
Sanjoy Mukherjee

Sanjoy Mukherjee

Writer, journalist
My Other Posts
  • September 3, 2026
  • 7:51 am
  • No Comments

বাঙালি মানসের চিরকালীন রোমান্টিসিজম ও এক মহানায়ক

বাঙালিয়ানা কোনো ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ শব্দ নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক মানসিকতা, যাপনচিত্র এবং নান্দনিক চেতনা। এই চেতনার কেন্দ্রে রয়েছে প্রেম, মধ্যবিত্তসুলভ আত্মমর্যাদা, শিল্পবোধ এবং এক ধরণের মায়াবী নস্টালজিয়া। আর বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এসে এই সমস্ত উপাদান যাঁর অবয়বে, চলনে, বলনে এবং হাসিতে মূর্ত হয়ে উঠেছিল, তিনি আর কেউ নন— মহানায়ক উত্তম কুমার। উত্তম কুমার শুধু একজন প্রতিভাবান অভিনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির একটি ঐতিহাসিক মোড়, যা সমকালীন সমাজকে এক অদ্ভুত আধুনিকতার পাঠ দিয়েছিল। উত্তম কুমার মানেই এক চিরন্তন বাঙালিয়ানা, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। তিনি বাঙালিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, ধুতি পরার মধ্যে রাজকীয়তা খুঁজতে শিখিয়েছেন, আবার কোট-টাইয়ের সাহেবিয়ানার ভেতরেও এক খাঁটি বাঙালি মনকে টিকিয়ে রাখতে শিখিয়েছেন। তাই বাঙালিয়ানা এবং উত্তম কুমার— এই দুটি সত্তা একে অপরের পরিপূরক।

দেশভাগ, উদ্বাস্তু সংকট এবং এক ত্রাতার আগমন

উত্তম কুমারের উত্থানকালটিকে বুঝতে হলে তৎকালীন বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অনুধাবন করা জরুরি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ বাঙালি জাতিকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছিল। ওপার বাংলা থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু জীবনের হাহাকার, বেকারত্ব এবং চেনা চেইনের ভাঙন— এই সবকিছু মিলিয়ে এক চরম হতাশা গ্রাস করেছিল বাঙালি সমাজকে। থিয়েটারের চড়া দাগের অভিনয় বা অবাস্তব পৌরাণিক কাহিনীর খোলস ছেড়ে মানুষ তখন এমন কাউকে খুঁজছিল, যে তাদের প্রতিদিনের দুঃখ-কষ্টের ক্ষতে একটু মলম লাগাতে পারে। ঠিক এই সময়ে রুপোলি পর্দায় আবির্ভাব ঘটল এক যুবকের, যাঁর নাম অরুণ কুমার চ্যাটার্জী, যিনি পরবর্তীতে হলেন ‘উত্তম কুমার’। তিনি পর্দায় যে চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুললেন, তারা কোনো অতিমানব ছিল না। তারা ছিল ট্রামের ভিড়ে যাতায়াত করা কেরানি, বেকার যুবক, মেসে থাকা ছাত্র কিংবা আদর্শবাদী ডাক্তার। বাঙালি নিজের ঘরের ছেলেকে, নিজের ভেতরের সত্তাকে উত্তম কুমারের মধ্যে খুঁজে পেল। তিনি হয়ে উঠলেন সেই ঝোড়ো সময়ের এক মানসিক আশ্রয়, এক রূপালী ত্রাতা।

ধুতি বনাম স্যুট: পোশাকের রাজনীতি ও উত্তমের বাঙালিয়ানা

বাঙালিয়ানার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো তার পোশাক। উত্তম কুমার এই পোশাক সংস্কৃতিতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তাঁর আগে বাংলা সিনেমা বা সাধারণ জীবনেও পাশ্চাত্য পোশাকের এক ধরণের অন্ধ অনুকরণ অথবা অতি-ঐতিহ্যবাহী পোশাকের রক্ষণশীলতা ছিল। উত্তম কুমার এসে দেখালেন কীভাবে কুঁচিয়ে ধুতি আর আদ্দির পাঞ্জাবি পরে একজন মানুষ বিশ্বমানের অভিজাত ও আধুনিক হয়ে উঠতে পারেন। ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ বা ‘ভ্রান্তিবিলাস’-এর মতো ছবিতে তাঁর ধুতি পরার ধরন, কাঁধের চাদর সামলানোর ভঙ্গি বাঙালির পুরুষালি সৌন্দর্যের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ করেছিল।

আবার অন্য পিঠে, যখন তিনি ‘নায়ক’, ‘চৌরিঙ্গী’ বা ‘জীবন জিজ্ঞাসা’-র মতো ছবিতে কোট, টাই কিংবা বন্ধগলা স্যুট পরতেন, তখনও তাঁর ভেতরের খাঁটি বাঙালিয়ানা আড়াল হতো না। স্যুট পরিহিত উত্তম কুমারের হাতের সিগারেট ধরা বা চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার মধ্যেও এক ধরণের নিজস্ব সংস্কৃতি মিশে থাকত। তিনি পাশ্চাত্য পোশাককে গ্রহণ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের সংস্কৃতিকে বিসর্জন দিয়ে নয়। এই যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সুষম সমন্বয়, এটাই তো প্রকৃত আধুনিক বাঙালিয়ানা, যার শ্রেষ্ঠ আইকন উত্তম কুমার।

উত্তম-সুচিত্রা: বাঙালির যৌথ অবচেতনের প্রেমকথা

বাঙালির রোমান্টিসিজম আর উত্তম কুমার সমার্থক হওয়ার পেছনে সিংহভাগ অবদান রয়েছে উত্তম-সুচিত্রা জুটির। সুচিত্রা সেন এবং উত্তম কুমার মিলে রুপোলি পর্দায় যে মায়াজাল বুনেছিলেন, তা বাঙালির যৌথ অবচেতনে (Collective Unconscious) স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। ‘হারানো সুর’, ‘সপ্তপদী’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সাগরিকা’— প্রতিটি ছবিতেই এই জুটি বাঙালির প্রেমের এক নতুন ব্যাকরণ তৈরি করেছিল।

এই প্রেম কেবল শারীরিক আকর্ষণের ছিল না, এতে ছিল এক গভীর আত্মিক টান, মান-অভিমান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। উত্তম কুমার যখন সুচিত্রা সেনের চোখের দিকে তাকিয়ে হাসতেন, তখন সেই হাসির আলোয় প্রতিটি বাঙালি প্রেমিক নিজের ভালোবাসাকে খুঁজে পেত। ‘সপ্তপদী’ ছবির সেই বিখ্যাত বাইক চড়ার দৃশ্য এবং “এই পথ যদি না শেষ হয়” গানটি আজও বাঙালির প্রেমের শ্রেষ্ঠ দৃশ্যপট। উত্তম কুমার বাঙালি পুরুষকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে একজন নারীকে চরম শ্রদ্ধা ও গরিমা দিয়ে ভালোবাসা যায়। বাঙালি জীবনের শুষ্ক বাস্তবতার মাঝে এই রোমান্টিকতা ছিল এক পরম মুক্তি।

অভিনয়ের আধুনিকতা:

মেলোড্রামা থেকে বাস্তবতায় রূপান্তর

উত্তম কুমারের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার স্বাভাবিকতা (Natural Acting)। তাঁর সমসাময়িক বা পূর্বসূরি অভিনেতাদের অনেকেই থিয়েটারের প্রভাবে একটু চড়া গলায়, হাত-পা নেড়ে অভিনয় করতেন। উত্তম কুমার প্রথম বুঝলেন যে সিনেমার পর্দা থিয়েটারের মঞ্চ নয়; এখানে চোখের পলক ফেলা বা ঠোঁটের কোণের মৃদু হাসিও অনেক বড় কথা বলে। তিনি সংলাপ প্রক্ষেপণে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনলেন। তিনি যেভাবে কথা বলতেন, মনে হতো তিনি পাশের বাড়ির কোনো মানুষের সাথে গল্প করছেন।

এই মননশীল অভিনয়শৈলী তৎকালীন শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজকে গভীরভাবে আকর্ষণ করেছিল। ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ ছবিতে এক বিশ্বস্ত গৃহভৃত্যের চরিত্রে তাঁর অভিনয়, কিংবা ‘নায়ক’ ছবিতে একজন সুপারস্টারের ভেতরের নিঃসঙ্গতা ও অহংকারকে ফুটিয়ে তোলা— প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন স্টাইলিশ নায়ক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক জাত অভিনেতা। সত্যজিৎ রায় অবলীলায় স্বীকার করেছিলেন যে, উত্তম কুমারকে ছাড়া ‘নায়ক’ বা ‘চিড়িয়াখানা’ তৈরি করা অসম্ভব ছিল। বিশ্ববরেণ্য পরিচালকের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে উত্তমের অভিনয় দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের ছিল।

মধ্যবিত্তের সংকট ও উত্তমের লড়াই

বাঙালিয়ানা মানেই এক ধরণের মধ্যবিত্তসুলভ মূল্যবোধ, যেখানে সততা, আদর্শ এবং লড়াইয়ের একটা বড় ভূমিকা থাকে। উত্তম কুমারের বহু ছবি এই মধ্যবিত্তের সংকটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। ‘ওগো বধূ সুন্দরী’, ‘ধন্যি মেয়ে’ কিংবা ‘মৌচাক’-এর মতো কমেডি ছবিগুলোতেও যেমন মধ্যবিত্তের পারিবারিক মেলবন্ধন ফুটে উঠেছে, তেমনই ‘থানা থেকে আসছি’ বা ‘বিচারক’-এর মতো ছবিতে নৈতিকতার চরম সংকট ও দোদুল্যমানতাকে তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
তিনি যখন পর্দায় কোনো আদর্শবাদী ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারের চরিত্রে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন, তখন সিনেমা হলের অন্ধকার ঘরে বসে থাকা সাধারণ বাঙালি যুবকের মেরুদণ্ড সোজা হয়ে যেত। উত্তম কুমার বাঙালির অবদমিত ক্ষোভ, তাদের অপূর্ণ স্বপ্ন এবং তাদের আত্মমর্যাদাকে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে ভাষা দিয়েছিলেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, অভাবের মধ্যেও কীভাবে নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে বাঁচা যায়।

সঙ্গীতের সাথে একাত্মতা: হেমন্ত-উত্তম মিথ

বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণ হলো সঙ্গীত। আর উত্তম কুমারের সিনেমা মানেই ছিল কালজয়ী সব গান। বিশেষ করে গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং অভিনেতা উত্তম কুমারের যে যুগলবন্দী, তা বাংলা সংস্কৃতির এক সোনালী অধ্যায়। বলা হয়ে থাকে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যখন গাইতেন, তখন মনে হতো উত্তম কুমারই গাইছেন; আবার উত্তম কুমার যখন পর্দায় ঠোঁট মেলাতেন, মনে হতো গানটি তাঁর গলা দিয়েই বের হচ্ছে।
লিপ-সিঙ্কিং বা পর্দায় গানের সাথে ঠোঁট মেলানোর ক্ষেত্রে উত্তম কুমার ছিলেন এক জাদুকর। গানের প্রতিটি অন্তরা, প্রতিটি তান এবং মোচড়ের সাথে তাঁর মুখের অভিব্যক্তি, চোখের চাউনি এবং শরীরের অঙ্গভঙ্গির যে নিখুঁত সামঞ্জস্য থাকত, তা পৃথিবীর খুব কম অভিনেতার মধ্যেই দেখা গেছে। “মুছে যাওয়া দিনগুলি”, “তুমি এলে অনেক দিন পরে” কিংবা “ও নদী রে”— এই গানগুলো যখন উত্তম কুমারের ঠোঁটে বাঙালি শুনেছে, তখন তা কেবল সিনেমা হলের বিনোদন থাকেনি, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির এককান্তের দীর্ঘশ্বাস ও আনন্দের সঙ্গী।

সংস্কৃতিমনস্কতা ও রসবোধ:
আড্ডার বাঙালি

বাঙালির শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার হলো ‘আড্ডা’। উত্তম কুমার ব্যক্তিগত জীবনে এবং পর্দায়— উভয় ক্ষেত্রেই ছিলেন এই আড্ডাবাজ ও রসিক বাঙালির প্রতিচ্ছবি। ‘ধন্যি মেয়ে’ ছবিতে ফুটবল ক্লাব চালানো বা ‘মৌচাক’ ছবিতে চালবাজ কিন্তু দয়ালু বড় ভাইয়ের চরিত্র— বাঙালির এই চেনা রূপগুলোকে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর অভিনয়ে এক ধরণের সহজাত রসবোধ (Sense of Humor) ছিল, যা কখনো স্থূল হতো না।

একই সাথে তিনি ছিলেন চরম সংস্কৃতিমনস্ক। ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ছবিতে কবিগানের লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলার লোকসংস্কৃতিকে যেভাবে তুলে ধরেছিলেন, তা চিরস্মরণীয়। একজন পর্তুগিজ সংস্কৃতির মানুষ কীভাবে বাংলার মাটিতে এসে খাঁটি বাঙালি হয়ে উঠছেন এবং ভোলানাথ ময়রার সাথে টক্কর দিচ্ছেন— সেই রূপান্তরকে উত্তম কুমার নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিলেন। এটিই তো বাঙালিয়ানার আসল শক্তি— অন্য সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা।

উত্তমের ট্র্যাজেডি এবং বাঙালির আত্মদর্শন

বাঙালিয়ানা কেবল আনন্দ আর প্রেমের উৎসব নয়, এর মধ্যে রয়েছে এক গভীর বিষাদ ও ট্র্যাজেডি। উত্তম কুমার তাঁর ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে এমন কিছু চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন যা বাঙালির এই বিষাদগ্রস্ত মনস্তত্ত্বকে স্পর্শ করে। ‘অমানুষ’ বা ‘আনন্দ আশ্রম’-এর মতো ছবিতে সমাজের কপটতার শিকার এক ভাঙা মানুষের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শককে কাঁদিয়েছিল।

আবার সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবির অরিন্দম মুখার্জী চরিত্রটি যেন ছিল উত্তম কুমারের নিজের জীবনেরই এক আয়না। খ্যাতির শীর্ষে থেকেও যে চরম একাকীত্ব, ট্রেনের কামরায় মদ্যপ অবস্থায় নিজের অতীতকে হাতড়ানো এবং নিজের বিবেককে খোঁজার যে আকুলতা— তা বাঙালি সমাজকে এক গভীর আত্মদর্শনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। উত্তম কুমার দেখিয়েছিলেন যে, সাফল্যের পেছনে যে অন্ধকার থাকে, তাকেও কতখানি সততার সাথে স্বীকার করা যায়।

কেন আজও উত্তম কুমারই শেষ কথা?

উত্তম কুমারের প্রয়াণের পর বহু দশক কেটে গেছে। বাংলা সিনেমা ডিজিটাল হয়েছে, প্রযুক্তি বদলেছে, অভিনয়ের ধারা বদলেছে। কিন্তু আজও কেন নতুন কোনো অভিনেতা এলে তাঁর তুলনা উত্তম কুমারের সাথেই করা হয়? কেন আজও বাঙালি পরিবারের ড্রয়িংরুমে রবিবারের দুপুরে উত্তম কুমারের ছবি চললে নতুন প্রজন্মের ছেলেরাও চোখ সরাতে পারে না?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে সেই ‘বাঙালিয়ানা’ শব্দটির মধ্যেই। উত্তম কুমার কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালির স্বাজাত্যাভিমান ও নস্টালজিয়ার এক জীবন্ত দলিল। তিনি বাঙালিকে একটি সুন্দর রূপকথা উপহার দিয়েছিলেন, যে রূপকথায় বাঙালি আজও বাঁচতে চায়। তাঁর সেই ভুবনভোলানো হাসি, সেই ধুতি ও পাঞ্জাবির আভিজাত্য, সেই চোখের মায়া— এই সবকিছু মিলিয়ে তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে পৌঁছানো কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

যতদিন বাংলা ভাষা থাকবে, যতদিন বাঙালির মনে প্রেমের উন্মাদনা থাকবে, যতদিন বর্ষার দিনে এক বাটি খিচুড়ি আর ইলিশ মাছের সাথে গান শোনার আয়েশ থাকবে— ততদিন বাঙালি মানসে উত্তম কুমার প্রাসঙ্গিক থাকবেন। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন— বাঙালিয়ানার চিরকালীন, এক এবং অদ্বিতীয় মহানায়ক।

PrevPreviousআন্দোলন চলবে
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

আন্দোলন চলবে

September 3, 2026 No Comments

প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ২রা সেপ্টেম্বর বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের ডিলিটেড ভোটারদের নিয়ে কর্মসূচি এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে রইল। সম্পদশালী মদগর্বী একদল মানুষ দেশের মানুষকে তাড়াতে

“রং দে গেরুয়া”

September 3, 2026 No Comments

শব্দ যেমন চুরি হয়ে যায়, রঙও তেমনি চুরি হয়ে যায় । উর্বরতার রং লাল । গ্রীক পুরাণে স্ত্রীরা স্বামীর গলা কেটে সেই রক্ত জমিতে দিতেন;

লেনিন দীর্ঘজীবী হোন!

September 2, 2026 No Comments

আচমকাই গুরুপ্রতিম এক অগ্রজ ব্রেখট-এর একখানা কবিতা পড়তে দিলেন। কবিতা বলতে, মূল কবিতার ইংরেজি অনুবাদ। ১৯৩৪ সালে লেখা কবিতা, সুতরাং বলাই যায় যে আমাকে কবিতা

সংগ্রামী গণ মঞ্চের আহ্বানে ২ রা সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে ডেপুটেশন সফল করুন।

September 2, 2026 No Comments

নাগরিকতাহীন কিংবা দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক? ব্রিটিশ সমাজতাত্ত্বিক T.H. Marshall নাগরিকত্বের অধিকারকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন: নাগরিক অধিকার (Civil Rights) রাজনৈতিক অধিকার ( Political Rights)

রাজ্যের বদলে বাঙালিকে শাসন করতে চাইছে শুভেন্দু সরকার

September 2, 2026 No Comments

“হয় আমরা নয় ওরা” ,যে ভাষায় একজন মুখ্যমন্ত্রী হুমকি দিচ্ছেন যে মনে হচ্ছে না তিনি রাজ্যকে শাসন করতে এসেছেন।মনে হচ্ছে, তিনি বাঙালিকে শাসন করতে এসেছেন।গণতন্ত্রে

সাম্প্রতিক পোস্ট

বাঙালিয়ানা ও উত্তম কুমার: সংস্কৃতির দর্পণে এক অনন্য মহাকাব্য

Sanjoy Mukherjee September 3, 2026

আন্দোলন চলবে

Sangrami Gana Mancha September 3, 2026

“রং দে গেরুয়া”

Kanchan Sarker September 3, 2026

লেনিন দীর্ঘজীবী হোন!

Dr. Bishan Basu September 2, 2026

সংগ্রামী গণ মঞ্চের আহ্বানে ২ রা সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে ডেপুটেশন সফল করুন।

Kanchan Sarker September 2, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

672426
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]