প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ২রা সেপ্টেম্বর বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের ডিলিটেড ভোটারদের নিয়ে কর্মসূচি এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে রইল। সম্পদশালী মদগর্বী একদল মানুষ দেশের মানুষকে তাড়াতে চায়, নাগরিক অধিকার হরণ করে সস্তার মজুর বানাতে চায়। তার বিরুদ্ধে উঠলো প্রতিবাদের ঢেউ।
মেট্রোপলিটন এই শহরের বুকে মানহারা গরীব মানুষের দল- আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও মহিলারা নাছোড় জেদ, দুরন্ত সাহস আর অদম্য মনোবল নিয়ে রাজপথ দখল করে নগরীর বুকে স্পন্দন তুলে দিয়ে গেল- তুলনা তার নাই!প্রবল বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে, সংগঠকদের অনুরোধ সরিয়ে বাসে আশ্রয় না নিয়ে, বাসযাত্রীরা অপেক্ষমান মিছিলে কী অদ্ভুত শৃঙ্খলায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়লেন। কোলে বাচ্চা নিয়ে শিয়ালদা চত্বরে আশ্রয় না নিয়ে, কোন উৎকন্ঠাকে আমল না দিয়ে,মায়েরা তুমুল বৃষ্টির মধ্যে রামলীলা ময়দান অভিমুখে যাত্রা শুরু করলেন- কে যেন তাঁদের ডাক দিয়েছে। তেজোদৃপ্ত মিছিলের সামনে ফেস্টুন ধরে সাধারণ মহিলারা কলকাতার রাজপথ কাঁপিয়ে ঝাঁঝালো শ্লোগান তুলে ন্যায়সঙ্গত অধিকারের দাবিতে পথঘাট মুখরিত করে এগিয়ে চলেছেন- অনন্যোপায় প্রান্তিক মানুষের এই অজেয় আন্দোলন কতদিন কলকাতা দেখেনি ! ষড়যন্ত্র করে, উত্তর থেকে দক্ষিণ,রাজ্যের বিশাল সংখ্যক মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। তারই প্রতিবাদে ‘সংগ্ৰামী গণমঞ্চ’ গত কয়েকমাস ধরে প্রস্তুতি গড়ে তুলেছে তিলে তিলে। আজ তা প্রাথমিক রূপ পেল।
রামলীলা ময়দান থেকে এস এন ব্যানার্জী রোড ধরে আবহমান ভারতবর্ষের প্রান্তবাসী মানুষ -মানুষীরা যে কল্লোল তুলে দিয়ে গেল তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল সারা কলকাতায়। কিছুকালের জন্য নগরী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল। সেই গর্জমান ঝাঁঝালো মিছিল ডোরিনা ক্রসিং অতিক্রম করে সদর্পে এসে দাঁড়ালো ওয়াই চ্যানেলে। ওয়াই চ্যানেল তখন ছোটখাটো ইংলিশ চ্যানেল।
জলের উপরে ভাসমান মঞ্চ থেকে তখন এই মঞ্চের অন্যতম ঋত্বিক কুশল দেবনাথ বলে চলেছেন- এই নাছোড় সংগ্ৰামের ইতিকথা। উদাত্ত কন্ঠে ঘোষণা করছেন আগামী দিনে এই লড়াইয়ে বজ্রনির্ঘোষ। চ্যানেলে তখন থিকথিক করছে উদ্গ্ৰীব জনতার গভীর ঔৎসুক্য।তারপর অলিক চক্রবর্তীর জলদর্চি কন্ঠে সংগ্ৰামের নতুন মন্ত্র উচ্চারণ। অন্যদিকে হাইকোর্টের অলিন্দে তখন সুগত রায়ের নেতৃত্বে পশ্চিম বাংলার ডিলিটেড ভোটারদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে রেজস্ট্রার জেনারেলের সাথে চলছে গভীর তর্ক- বিতর্ক। যিনি পারতপক্ষে মানুষকে এড়িয়ে চলেন,তিনি পড়েছেন তুখোড় বুদ্ধিমানদের পাল্লায়। এও এক নতুন অভিজ্ঞতা! সব মিলিয়ে আজকের কলকাতাকে এক নতুন হার না মানা লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে গেল ‘সংগ্ৰামী গণমঞ্চ’।
আন্দোলন চলবে। বিভাজনের রাজনীতিকে পরাস্ত করে ভোটাধিকার ফেরানোর সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যেতে মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সংগ্রামী গণমঞ্চ।











