
সাংবাদিক ও সুলেখক অর্ক ভাদুড়ি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপালে বামপন্থী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, প্যালেস্তাইন, আলবেনিয়ার আন্দোলন নিয়ে অভিজ্ঞতা ও মননে ঋদ্ধ একটি আলোচনা করেন। অর্ক বলেন সারা পৃথিবী জুড়ে নানা জায়গায় স্বতস্ফূর্ত প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠছে, কিন্তু সেই আন্দোলনই দিশা পাচ্ছে, সর্বাত্মক হচ্ছে, যেখানে শ্রমিক শ্রেণীর সক্রিয় অংশ গ্রহণ থাকছে। অর্ক আরও বলেন শুধু দলীয় নাম দেখে বামশক্তি কি না সেটা বিচার করা যাবেনা। ইতিহাস প্রমাণ করবে কারা মুক্তিকামী মানুষকে পথ দেখিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে উদারণ দেখিয়ে অর্ক বলেন যারা লাল পতাকা হাতে মানুষকে দিনবদলের স্বপ্ন দেখিয়ে সেই স্বপ্নকে খুন করেন তারা বুর্জোয়াদের চেয়েও ভয়ঙ্কর। তবে নিহত স্বপ্নের পাশাপাশি আবার নতুন স্বপ্নের কুঁড়িরা পাপড়ি মেলতে শুরু করেছে। নতুন চিন্তা, নতুন বিপ্লবী ধারা গড়ে উঠছে ধীরে ধীরে – এই আশার আলো জাগিয়ে শেষ করেন অর্ক।
প্রিয়স্মিতা চল্লিশের দশকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বাধীনতালাভ এবং সংবিধান রচনা থেকে শুরু করে নব্বই এর দশকে উদারনীতিবাদের প্রবেশ, একচেটিয়া পুঁজি ও ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান, এবং গণতন্ত্রের অভিযোজন নিয়ে একটি অসামান্য আলোচনা করেন। প্রিয়স্মিতা বলেন আইএমএফ এর থেকে ঋণগ্রহণ ভারতের রাজনীতি সমাজনীতিকে আমূল বদলে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক কাঠামো বদলের সূচনাও এই সময় থেকে। এখন সারা পৃথিবীতেই ফ্যাসিবাদী শক্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ভেঙ্গে ফেলার দরকার হয়না। গণতন্ত্রকে ব্যবহার করেই ফ্যাসিবাদ তার আগ্রাসন চালাতে পারে। এখন কোন বিপ্লবী শক্তি যখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরুদ্ধারের কথা বলে তখন ভাবতে হবে কোন গণতন্ত্রের কথা বলব আমরা। প্রকৃত গণতন্ত্র ফেরাতে হলে সংসদীয় দল গুলিকে কর্পোরেট অনুদান নেওয়া বন্ধ করতে হবে। আয় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করতে হবে।প্রিয়স্মিতা বলেন এই সময়ে পরিবর্তনের এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। সময়ের দাবি মেনে আন্দোলনকে যদি আমরা ঠিক পথে পরিচালিত করতে না পারি তাহলে ভবিষ্যৎ আমাদের ক্ষমা করবে না।
এই আলোচনা শেষ করেন পি ডি এস এফ এর রাজ্য সম্পাদক শিল্পক। শিল্পক বলেন কিছু বড় দাবি সামনে রেখে আন্দোলন হয়। কিন্তু প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অগণিত মানুষের ক্ষোভ, প্রতিবাদ এসে মিশে যায় আন্দোলনের জোয়ারে। সব প্রতিরোধকে একত্রিত করে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরিচালিত করাই বৃহৎ গণআন্দোলনের কাজ। শুধু মধ্যবিত্তের ক্ষোভ দিয়ে আন্দোলন বেশি দিন চালানো যাবেনা। শ্রমজীবী মানুষের প্রতিবাদকে যুক্ত করতে না পারলে আন্দোলন গতি হারাবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হিয়া।
এই অনুষ্ঠানের এক অনন্য প্রাপ্তি ‘ঠোঁট কাটা ‘ দলের ( দুর্জয়, সায়ন্তন, রূপকথা, যুবরাজ, শাওন, দীপ্তমান, ঋতব্রত, শুভলক্ষ্মী ও মোহনা) গান। ‘মন্দিরেতে ইন্দ্র থাকেনা ও রামসেনা …ভোটার বিনা ভোট বাঁচে না’, মাদল ব্যান্ডের বিখ্যাত গান ‘ওরে ও প্রিয় মাতৃভূমি আর কত কাল রক্ত দেব তোমার বুকেতে’, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ এর লেখা ‘হাম দেখেঙ্গে ‘ – বিপ্লবী আবেগ, বলিষ্ঠ কণ্ঠ আর কথা ও সুরের গভীরতা শ্রোতাদের আপ্লুত এবং উজ্জীবিত করে। শাহবাগ আন্দোলনকে নিয়ে ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তী রচিত গান – ” হাতে হাত ধরে আয়/ কাঁটা তার ভেঙ্গে যায়/ ঢাকা শহরের মিছিল মিলেছে আমার কলকাতায়” এক সীমান্তহীন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়। দেশ কালের গণ্ডি ভেঙ্গে মানুষের চিরন্তন সংগ্রামের শপথ দিয়ে শেষ হয় এই কর্মসূচি।













