ইতিহাসে প্রথমবার কলকাতার দুর্গা পুজোতে পদপিষ্ট হয়ে উনিশ জন মারা গেলেন। আহতদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই রাত্রে সেই মেডিকাল কলেজেরই প্রাক্তনী বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসে পরামর্শ দেন এপোলো তে রেফার করার। রেফার করতে তো বলিনি সাজেশন দিয়েছি একথা অকপটে স্বীকারও করে নেন। তার এই উক্তিতে এপোলোর মালিক তো খুশিই হবেন, তাছাড়া এক শ্রেণীর তো মনেও হতে পারে এমন কিছু ভুল তো বলেননি। আসলে আমাদের ইন্টার্নশিপে ইমার্জেন্সি ডিউটি চলাকালীন দেখতাম কর্পোরেট হাসপাতালে সর্ব সান্ত হয়ে আসা পেশেন্টদের। আমাদের বারণ ছিল প্রাইভেট হাসপাতালে রেফারেলের ব্যাপারে, এমনকি ব্লাড টেস্টও বাইরে পাঠানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল যা আজও রয়েছে। কোনও মানুষকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা পকেটের পয়সা খরচ করে কেনার পরামর্শ আমরা দিতে পারি না, অন্য কোনও রেফারেল তো অনেক দূরের কথা। এই ছিল আমাদের শিক্ষা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেখলাম নিজের কলেজের জুনিয়রকে মেডিকাল ছাত্রই বলতে তিনি নারাজ। তাদের মেডিকাল কলেজের চেনা ছন্দে অকপটে সত্যি কথা বলার কালচারে তিনি খুবই বিব্রত হয়েছেন।
তার যুক্তি দেখলাম, সব বেডই তো ভর্তি, সবাই তো আর মরে ফিরছে না। উনি হয়তো বিষয়টাকে এভাবেই দেখতে চান। স্বাস্থ্যব্যবস্থার কোয়ালিটির সূচক বলতে তিনি বোধহয় হাসপাতালে রূগীর মৃত্যুহারকে সবচেয়ে বড়ো করে দেখেন। মেডিকাল কলেজের ছাত্ররা বলল জরুরি সময়ে একটা ভায়াল না পাওয়ার অসহায়তার কথা, একটা ভীষণ জরুরি এন্টিবায়োটিক ওয়ার্ডে না থাকার কথা, ট্রেইনিং এর কোয়ালিটি, শিক্ষানবিশ ডাক্তারের কনফিডেন্স, কিছু যন্ত্রপাতি আর স্কিলের অভাবের কথা তারা জানালো, নিউরোসার্জারি কোর্স মেডিকাল কলেজে শুরু করা যায়নি যে কারণে ভীষণ সমস্যা হয়। কিন্তু এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া হলো ওরা ডাক্তারই নয়, দম থাকলে স্বাস্থ্যভবন এসে আমার সামনে এসে এগুলো বলুক। এতেই যে তিনি থেমে গেছেন তা নয়, অকপটে সত্যি কথা বলার অপরাধের শাস্তি কোনওভাবে দেওয়া যায় কিনা তার নির্দেশ দিয়েছেন কতৃপক্ষকে। মেডিকালের ছেলেরা তো সামনে বসেই চোখে চোখ রেখেই পূর্বতন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলে এসেছে আশা করি ভবিষ্যতেও বলবে। যে প্রজন্মের পিঠ দেওয়ালে ঠেকেছে সেই প্রজন্মকে চোখ রাঙালে যে কী হতে পারে তা দেশের রাজধানীর দিকে তাকালেই বোঝা যায়।
মেডিকালের ছাত্রদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিষ্ঠা আরও শিখতে চাওয়ার আকুতি এবং সবথেকে বড়ো কথা সত্যি কথাগুলো ক্যামেরার সামনে অকপটে গুছিয়ে বলতে পারা এই সব দেখে গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে। মেডিকাল পাল্টায়নি, তার প্রাক্তনী বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী পালটে গেছেন।
হতভাগ্য শহর কলকাতার এইসব রেফার টু এপোলো ডিবেটের থেকে বহুদূরে কালাহান্ডিতে আদিবাসী এলাকায় আদানি গোষ্ঠীর বক্সাইট মাইনিং হবে বলে এক তরুণ চিকিৎসক কে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তারের গল্প ভেসে আসে। MD Medicine ব্যাঙ্গালোরের St John’s মেডিকাল কলেজের গ্র্যাজুয়েট সেই Dr Randall কে মেডিকেল চিনবে । এপোলোর মালিককে খুশি করার জন্য মন্ত্রীত্ব হয়তো কেউ কেউ বেছে নেয়, মেডিকেলের জুনিয়রদের কাছে দাদা হওয়ার পরিবর্তে নিজের কলেজে মন্ত্রীর বেশে ঘুরতে হয় তাঁকে, নিজের কলেজের জুনিয়রদের পুজোর সময় শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দতে হয়। কিছু মানুষ এমন পালটে গেলেও মেডিকেল পালটায় না।












খুব সাহসী লেখা। ভালো লাগলো।