“ভূত জি কর” এক কাল্পনিক রুপক ছবি সমসাময়িক বাংলা বা ভারতবর্ষের কোনো প্রতিচ্ছবি যদি এর দর্পণে প্রতিফলিত হয় তা কাকতালীয় মাত্র।
এখানে দৃশ্যমান যে – মানব সমাজ অতিষ্ঠ ভূতের দৌরাত্ম্যে। তাদের পেত্নী রাণী ভয়ঙ্কর শক্তিধর এবং দেশের সর্বময় অধীশ্বরের সাথে তার অদ্ভুত বোঝাপড়া ও তাল মিল। ফলে মানব সমাজে সাম্প্রতিক অতীতে ভূত – পেত্নী যোগে ঘটে যাওয়া অকল্পনীয় একটি মহিলা চিকিৎসক নির্যাতনের ঘটনা এবং সারাদেশে ঘটে চলা এমনই সব হৃদয় বিদারক নির্মম ঘটনাক্রম নির্বিকার প্রতিকারহীন ।
নায্য বিচার কেন অলীক স্বপ্ন? প্রতিকারই বা কি? এ সকল প্রশ্নের অন্বেষণে আর সমাধানের পথ হাতড়িয়ে ভূত তাড়াতে আসছে ভূত জি কর – এমনই প্রত্যাশা এর নির্মাণকার্যে যুক্ত কলাকূশলীদের, ফ্লিমি দুনিয়ায় যারা একদমই অপরিচিত।
এ বাংলার এক কাল্পনিক বিখ্যাত হাসপাতাল, লোক মুখে যা খালপাড়ের হাসপাতাল বলে বেশি পরিচিত, সেই হাসপাতালে ডিউটি করতে করতে এক তরুনী চিকিৎসক উধাও হয়ে যায়। তার সন্ধানে বেরোনো মা – বাবার প্রতি এ সমাজের এক এক স্তম্ভের কুৎসিত নির্লজ্জ আচরন এই ব্যবস্থার পচা গলা চেহারাকে সামগ্রিক ভাবে বেআব্রু করে। প্রতিভাত হয় যে, এ ব্যবস্থা মানুষ নয়, রাজনৈতিক ভূতেদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যার শীর্ষে বসে আছে এক পেত্নী রানী। এই পেত্নীর সাথে ভূত সম্রাট মামদো ভূতের অদ্ভুত বোঝাপড়ায় সমস্ত প্রতিকার দূর অস্ত। নির্বাচিত জন প্রতিনিধি থেকে আইনরক্ষক সর্বত্রই ভূতেরাই সব। খ্যাতনামা সব সংস্থা ও পদ গুলি আজ পরিহাসের পাত্র।
অতঃপর সেই পেত্নী রানীর বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই, সচেতন মানুষের নেতৃত্বে। কিন্তু সেখানেও টাকা আর মেডেলের প্রলোভনে মানুষ দিশেহারা। দিশেহারা সেই সন্তানের সন্ধানে বেরোনো মা বাবাও। সন্যাসী রুপী সমাজের সর্বাধিনায়কের আশ্বাসে দিন দুপুরে তারা স্বপ্ন দেখে মেয়ে ফিরে এসেছে পদ্মাসনে চেপে। কিন্তু সে স্বপ্ন অচিরেই দুঃস্বপ্ন হয়ে উধাও হয়ে যায়।
গল্পের ঠাসা বুননে আঁটোসাটো আর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংমিশ্রণে ভরা, রবীন্দ্র সংগীতের অত্যাশ্চর্য ব্যবহারে সমৃদ্ধ ভূত জি কর এক ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা অবশ্যই।
প্রযোজনা – ছবি ফ্লিমস
কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – ডাঃ পবিত্র গোস্বামী (8336063314)










