পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালে সুচিকিৎসা, ২৪ ঘন্টা এক্সরে, প্যাথলজি, ঠিকঠাক ওষুধ, রোগী চিকিৎসকের সুসম্পর্ক এককথায় হাসপাতালের চিকিৎসার উন্নতির দাবী তুলেছিল এবিজেডিএফ। স্বাস্থ্য আমার অধিকার এই শ্লোগানও ওঠে প্রথমবার। সন্দেহ নেই এতে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতিও হয়। আর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হাসপাতালের দাবীতে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সুচিকিৎসার দাবীতে আন্দোলন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হতে শুরু করে।
পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল প্রধান চিকিৎসা ব্যবস্থা। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারী হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি কর্পোরেট হাসপাতালের দ্রুত উত্থান ঘটে। এটা বাম আমলে শুরু হয়। তৃণমূল আমলে আধিপত্যকারী অবস্থানে চলে গেছে। যদিও দু-একটা বেসরকারি হাসপাতালে তূলনামূলকভাবে কম পয়সায় চিকিৎসা হয়।
এখন সমস্যা অন্যরূপ নিতে চলেছে। সরকারি হাসপাতালে কর্পোরেট চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সেটা করছে মমতা ব্যানার্জি।
পিজিতে আগে উডবার্ন ওয়ার্ড ছিল। সেটা মন্ত্রী সান্ত্রীদের জন্য ছিল। সাধারণ মানুষের তাতে খুব একটা মাথা ব্যথা ছিল না। কিন্তু এবার “গরীব” জনসাধারণের জন্য উডবার্ন ২ চালু হলো। মোট ১৩১ টি কেবিন আছে। তার মধ্যে ১০১ টা ” স্বল্প” মূল্যের ৫০০০ টাকার কেবিন, ৮ টি সুইট ৮০০০ টাকা, ১৫ টি সি সি ইউ ১৫০০০ টাকা। আর চিকিৎসকদের আউটডোর ভিসিট ৩৫০ টাকা। পিজিকে কর্পোরেট হাসপাতালে পরিণত করারই একটা পদক্ষেপ।
কেউ কেউ বলতেই পারেন আপনারা বড় নিন্দুক। কয়েকটি কেবিন মাত্র আনা হয়েছে। উপর থেকে দেখলে তাই মনে হবে। কিন্তু সরকারী জায়গায় কর্পোরেট প্রক্রিয়া যখন শুরু হয় তখন একবারে সবটা হয় না। ধীরে ধীরে চালু করে, পরে এটাই প্রধান দিক হবে। সরকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থা সরকার মুনাফার জন্য বেচছে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। মমতা সেই পথে পিজি হাসপাতালকে নিয়ে যাচ্ছে। নতুন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্নীতি ভয়ঙ্কর, হাসপাতালে অভয়া কান্ড ঘটে। সেসব দূর করার উদ্যোগ নেই, পিজিকে কর্পোরেট হাসপাতালের রূপ দিতে উদ্যোগী মমতা। ভবিষ্যতে এই হাসপাতালে গরীব মানুষের চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে।
সুতরাং হোক প্রতিবাদ।









