প্রতিদিনের এত আয়োজন চলে যাওয়ার জন্যই।
আয়োজন হীনও চলে যায় বেশিরভাগ মানুষ।
প্যালেস্টাইনে নয় মাসে এক লাখ মানুষকে মেরে ফেলা হয়েছে। তার মধ্যে ত্রিশ হাজার শিশু।
পিঁপড়ের মত টিপে টিপে মারা হয়েছে। পাঁজরের হাড় বেরিয়ে যাওয়া শিশুগুলি খালি গায়ে খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। অত্যাধুনিক স্নাইপারের গুলিতে তারা মরে গেছে।আর এই জীবনের জন্যই এত আয়োজন, এত লড়াই, এত ইগো, এত আলাপ- আলোচনা, এত চুরি, এত ক্ষমতার দম্ভ, এত ভোগ্য পণ্য।
ইদানীং লিখতে ভালো লাগে না, পড়তেও ভালো লাগেনা। দৈনন্দিন কাজটুকু করে যাই কোনরকমে।
তেমনই একঘেঁয়ে রোগী দেখছিলাম ভোরবেলার ক্যাম্পে। বারবার চোখ চলে যাচ্ছিল সামনের বেঞ্চে। একজন যুবক সেখানে সমস্যা তৈরি করেছে। সে এসেছে তার বাবার সাথে।
যুবক হলেও তার মনের বয়স শিশুর মত। বাবা তাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বারবার বলছেন, চেঁচাস না।
যুবকের মুখের কোল থেকে লাল গড়াচ্ছে। জড়ানো স্বরে বলছে, কেন? আমি চেঁচাবো। আমার খিদে পেয়েছে।
বাবা বলছেন, এখনই হয়ে যাবে। বাড়ি গিয়ে খাবি।
আমি খাব, আমার খিদে পেয়েছে।
পাশের এক বয়স্ক মহিলা বললেন, আহারে… কত বেলা হয়ে গেছে। দাঁড়াও বাবা, দাঁড়াও।
বৃদ্ধা ঝোলা ব্যাগ থেকে একটা প্লাস্টিকের কৌটো বার করলেন। সেখান থেকে বেরোলো রুটি তরকারি।
বাবা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলেন। বৃদ্ধা হেসে উড়িয়ে দিলেন। তারপর খুব যত্ন করে রুটির টুকরো ছিড়ে তরকারিতে মাখিয়ে খাইয়ে দিতে লাগলেন।
চারদিকের কোলাহল থেমে গেল। অনেকেই মোটা ঘষা কাঁচের চশমার বৃদ্ধাকে দেখছেন। তাঁর সাথে একাত্মবোধ করছেন। একজন জলের বোতল বাড়িয়ে দিলেন।
যুবকটি তৃপ্তি করে খাচ্ছে। খাবার যত সাধারনই হোক যার সাথে ভালোবাসা মিশে থাকে তাই অসাধারণ হয়ে ওঠে।
বৃদ্ধা মহিলা সাধারণ একটা জীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু তিনি জানেন কারো খিদে পেলে তাকে খাবার দিতে হয়, গুলি নয়।
এই সহমর্মিতাই সম্ভবত বেঁচে থাকা।
চুরি করে বড়লোক হওয়া জীবন নয়। অন্যকে মেরে ক্ষমতা দেখানো জীবন নয়। প্রেমের অভিনয় জীবন নয়।
অতি সাধারন ভাবে যারা বাঁচছে, যারা ভালবাসছে, দুঃখ পাচ্ছে, গান গাইছে, অন্যের খিদে পেলে নিজের খাবার তাদের মুখে তুলে দিচ্ছে – তারা মানুষের জীবন কাটাচ্ছে।









