
দেবকী আম্মা এই বছর Unsung Heros ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন কেরলের আলাপ্পুঝা জেলায় প্রায় ৩০০০ সংখ্যক বিরল বৃক্ষ পরিপূর্ণ এক বনভূমি সৃষ্টি ও তাকে সংরক্ষণ করার জন্য। যে দেশে উন্নয়নের নামে হাজার হাজার বৃক্ষচ্ছেদন করা হচ্ছে নির্দ্বিধায়, নির্বিচারে সেখানে দেশের এক বর্ষীয়সী নাগরিকের এমন একটি নীরব প্রয়াস আমাদের অপার বিস্ময়ে আপ্লুত করে। শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে আপনাআপনি।
দেবকী আম্মা পাঁচ একর জমিতে তাঁর হাতে তৈরি এই বনের নাম রেখেছেন কোলাক্কায়িল তপোবনম্ । তপোবন জীবনের শান্তশ্রী থেকে আমরা বহুদিন আগেই নির্বাসিত হয়েছি। তেমনই এক পরিস্থিতিতে দেবকী আম্মার এমন প্রচেষ্টা আমাদের কাছে শুধু একটা খবর নয় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। পদ্ম সম্মানে সম্মানিত হবার যোগ্য কাজই বটে!
দেবকী আম্মা স্কুল কলেজের ঢাউস সাইজের কিতাব পড়া পরিবেশবিদ নন। হালফিলের গ্লোবাল ওয়ার্মিং, সী লেভেল রাইজিং ,ডেজার্টিফিকেশন, এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন, ইমব্যালেন্স ইন ইকোসিস্টেম – এর মতো সব ওজনদার শব্দভাষ্যের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়নি কস্মিনকালেও। বিপুল জাঁকজমকপূর্ণ সেমিনার বা কনভেনশনের আসরে কোনোদিন হাজির হবার কথা মাথায় আসেনি দেবকী আম্মার, সুযোগও মেলেনি। কিন্তু তিনি তাঁর সহজাত প্রেরণা থেকেই শিখেছেন পৃথিবীকে তার প্রত্যাসন্ন বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সবুজ গাছপালার খুব বড়ো ভূমিকা রয়েছে। বিবাহসূত্রে পাশে এসে দাঁড়ালেন গোপালকৃষ্ণ – গোপালকৃষ্ণ পিল্লাই, একজন মাস্টারমশাই। তিনিই দেবকীকে জানিয়েছিলেন পৃথিবীর গভীর অসুখের কথা। দেবকীর পুঁজি বলতে এটুকুই।
গোপালকৃষ্ণ চিরশান্তির দেশে চলে যাবার পরেও এই প্রথা চালু রেখেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আজও তাঁরা দেবকীর হাতে তৈরি বনভূমিতে রোপণ করেন বিচিত্র সব গাছের বীজ। বীজ থেকে চারা, চারা থেকে দ্রুম – বহমান থাকে এক আশ্চর্য পারিবারিক পরম্পরা।
কোনো পুরস্কার বা সম্মানের আশায় দেবীকা আম্মা এই কাজে নেমেছিলেন এমনতো নয়। তাঁর নীরব কর্মকাণ্ডের জেরে আজ জীবনের পরিণতির অন্তিম চরণে এসে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা, তাঁর গ্রামের মানুষজন সকলেই খুব খুশি। খুশি আমরাও। এইসব মানুষেরা কোনো উৎস থেকে প্রেরণা লাভের অপেক্ষায় চুপচাপ বসে থাকেন না, নিজেরাই নিজেদের কর্মসূত্রে বড় মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন। দেবকী আম্মা! আপনাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম। ভালো থাকবেন সবসময়।
জানুয়ারি ২৯,২০২৬










