অভয়ার পরও শিক্ষা নিল না প্রশাসন। আবার সরকারি হাসপাতালের ভিতরে লাঞ্ছিতা এক স্বাস্থ্যকর্মী। নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রয়ে গেল কেবল প্রহসন হিসেবেই।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভেতরেই ঘটল এই ভয়ঙ্কর ও লজ্জাজনক ঘটনা। অভিযোগ, হাসপাতালের এক মহিলা ওয়ার্ডকর্মীকে একটি রুমে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে হাসপাতালেরই বেসরকারি ফেসিলিটি ম্যানেজার। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে –হাসপাতালের ভেতরে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা কোথায়? নির্যাতিতার অভিযোগ, এই ম্যানেজার বহুদিন ধরে একাধিক মহিলা কর্মীকে যৌন হেনস্থা করত, চাকরি কেড়ে নেওয়া ও প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করত। এমনকি এক মহিলা কর্মী সংস্থারই এক অধিকর্তাকে বিষয়টি জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
গত বছর অভয়া কাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোকে নিরাপদ করার। মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রশাসনিক কর্তারা সকলে আশ্বাস দিয়েছিলেন কঠোর পদক্ষেপের। অথচ আজ আবারও হাসপাতালের ভেতরেই ঘটল একই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি। এ শুধু এক নারীর উপর আক্রমণ নয়, এ পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার নিরাপত্তাহীনতার নগ্ন চিত্র।
আমরা স্পষ্ট জানাচ্ছি: হাসপাতাল যদি সুরক্ষিত না হয়, তবে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ রোগী –কেউই সুরক্ষিত নন।
এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে স্বাস্থ্যকর্মীরা ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা হারাবেন।
প্রতিটি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি ও পূর্ণাঙ্গ নজরদারি, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং জরুরি নিরাপত্তা প্রোটোকল অবিলম্বে চালু করতে হবে।
আমরা, West Bengal Junior Doctors’ Front, দাবি করছি পাঁশকুড়া হাসপাতালের ঘটনার দ্রুত বিচার চাই, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, এবং প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাই। দ্বিতীয় অভয়া প্রতিরোধের অঙ্গীকারে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
West Bengal Junior Doctors Front










