Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

গ্যাস কাহিনী

pressure cooker
Dr. Dayalbandhu Majumdar

Dr. Dayalbandhu Majumdar

Eye Surgeon, Snake-bite resource person
My Other Posts
  • March 18, 2026
  • 7:22 am
  • No Comments

তিন – চার হাজার মাইল দূরে যুদ্ধ লেগেছে। আর আমাদের দেশের রান্নাঘরে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। না, আমার নিজের বাড়ীতে এখনই চিন্তায় ফেলে দেওয়ার মত কোন সমস্যার কথা এখনই ভাবছি না। কিন্তু টিভি দেখলে মনে হয়, যুদ্ধ বোধহয় লেগেছে আমাদের দেশেই।

আমাদের পরিণত বয়সে ঠিক মত যুদ্ধ দুইবার দেখলাম। দুটিই পশ্চিম প্রান্তে। পুর্ব প্রান্তে যুদ্ধ লেগেছিল যখন তখন আমি নেহাতই স্কুলে পড়া কিশোর। কোন যুদ্ধেই রান্নার জ্বালানির আকাল আমি দেখিনি। আসলে সেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় জ্বালানি বলতে আমরা জানতাম, বাড়ীর আশে পাশের গাছ থেকে কাটা ডালপালা, শুকনো পাতা, কিছু চেলা কাঠ আর নিজেদের পোষা গোরুর গোবর থেকে পাওয়া ঘুঁটে। গ্যাস নামের কোন জ্বালানি হতে পারে প্রথম দেখেছিলাম, মণ্ডলবাবুদের বাড়ীর গোবর গ্যাস প্ল্যান্ট। সে একটা দর্শনীয় বস্তু ছিল বটে। গ্রামের লোকজন দল বেঁধে দেখতে যেত। ঐ গোবর গ্যাসের আর একটা মজার জিনিস ছিল; সেই গ্যাসে উজ্জ্বল আলোও জ্বলতে দেখেছি। অনেকটা কেরোসিন তেল দিয়ে জ্বালানো হ্যাসাক লাইটের মত। তখনও আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ আসেনি; যাত্রা বা কীর্তন হত ঐ হ্যাসাক লাইটের আলোয়। তারও অন্তত তিরিশ বছর পর পর্যন্ত গ্রামে গোরুর অভাব ছিল না। কিন্তু আর কোন বাড়ীতে গোবর গ্যাস দেখিনি। স্কুলের বোর্ডিং এ কয়লার উনানে রান্না করা হত। হাসপতালের মিত্রা মাসি, বেলা দিদিদের রান্না হত কেরোসিন স্টোভে বা কয়লার উনান এ। আমাদের গ্রামের বাড়িতে খুব ছোটবেলায় কয়লার উনান দেখেছি। তখন কয়লা আনতে হত, পাঁচ মাইল দূরের লোয়াদা বাজার থেকে। আমি নিজেও কয়েকবার লোয়াদা বাজার থেকে কয়লা কিনে এনেছি, এখন সুদূর কোন যুগের স্বপ্নের মত মনে পড়ল সেই সব দিনের কথা। কয়লার আবার দুই- তিন রকমফের ছিল। কাঁচা কয়লা, পাথুরে কয়লা, কয়লার ঘ্যাস। এই ঘ্যাস বা গুঁড়ো কয়লা কি জিনিস আমাদের ছেলে মেয়ে জানেই না। ঐ গুঁড়ো কয়লা দিয়ে গুল তৈরী করেছি। পুকুরের জলের তলায় জমে থাকা কালো পাঁক বালতি করে তুলে আনার পর তার সাথে ঐ গ্যাস কয়লা মিশিয়ে একরকমের কালো সন্দেশের মত জিনিস তৈরী করা হত। ঐ শুকনো কালো গুল দিয়ে উনান জ্বেলে রান্না করা হয়েছে। গুল তো পরে শহরে এসে দেখেছি রীতিমত ওজন দরে বিক্রী করে। আমি ১৯৯৪ সালে রায়গঞ্জে চাকরী করতে গিয়ে কয়েকমাস ঐ গুলের আঁচে রান্নার ব্যবস্থা করেছিলাম। তখন অবশ্য শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণির সব বাড়ীতে গ্যাস এসে গেছে। এই বাড়ীতে গ্যাস আনার এক দীর্ঘ গল্প আছে আমার জীবনে। শুধু এই গ্যাস আমার জীবন দর্শনের এক বিরাট পরিবর্তন করে দিয়েছে। সে কথায় পরে আসছি।

এই রান্নার গ্যাস এর জন্য একটি উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হওয়ায় আমার বেশ কিছু পুরনো স্মৃতিকথা মনে উদয় হয়েছে। সেই প্রায় পঞ্চান্ন ষাট বছর আগে, হাসপাতালে মিত্রা মাসির কোয়ার্টারে ডিমের ঝোল ভাত খাওয়া। মাসী একাই থাকতেন। আমি আর ভাই নিজেদের মধ্যে খেলতে খেলতে, মাসীর স্টোভ জ্বেলে রান্না করার সোঁ সোঁ শব্দ; আজও যেন শুনতে পাই। মাসীর অদ্ভুত পুর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে ঘুঁটেকে “গয়টা” বলা ( কয়লার সাথে মিলিয়ে কি?), স্টোভ বন্ধ করার পর কেরোসিন পোড়ার অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ, সব বাল্য স্মৃতি ভিড় করে আসছে। মাসী মারা গেছেন, সেও তো বোধহয় পঁয়ত্রিশ বছর আগে। মাসীর বান্ধবীরা, আমার বড় দিদি, গ্রামের বড় বৌদি, সবাই এখন ইতিহাস।

মাসীর কোয়ার্টারে রান্নার কথায় মনে এল আমার স্ত্রীর কোয়ার্টারে রান্নার স্মৃতি। বাঁকুড়ার গোদারডি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের টিনের চাল দেওয়া কোয়ার্টারে রান্নার উনানের জ্বালানী ছিল, ইউক্যালিপটাস গাছের শেকড়। পঞ্চায়েত এর লাগানো গাছ কেটে নিয়ে চলে যাওয়ার পর, গ্রামের গরীব বাড়ীর মেয়েরা সেই গাছের শেকড় উপড়ে এনে ঝুড়ি দরে বিক্রী করে কিছু পয়সা রোজগার করত। কয়েক মাস পরে আমার স্ত্রী মেদিনীপুরে চলে এল। তার আগে আমাকে রান্না করে খাইয়েছে, দারোয়ানের স্ত্রী। কয়লার গুলের আঁচে রান্না করতে দেখেছি ওদের। তখনও নিজে গুল ঘুঁটে ইত্যাদী নিজে কিনতাম না; দারোয়ানকে টাকা দিয়ে দিতাম। স্ত্রী আসার পর গ্যাস এর খোঁজ নিতে শুরু করেছিলাম। সেটা ১৯৮৯-৯০ সালের দিকে। তখন এল পি জি গ্যাস পাওয়া প্রায় লটারি জেতার মত একটা খবর ছিল। গ্যাসের সংযোগ নিতে , আমার সেই মিশনারী হাসপাতালের এক মাসের বেতনের টাকা খরচ করে ঠগের পাল্লায় পড়লাম। “পর হস্তগতম ধনম” কাকে বলে, সেই প্রথম টের পেয়েছিলাম। সেটাও একটা বড় গল্পের আকার নেবে। তার আগে একটি ঘটনায় আমার প্রথম জ্ঞান চক্ষু খুলেছিল। তখনও আমার তিরিশ বছর বয়স হয়নি। নিজে তখনও অন্য ডাক্তারবাবুদের প্রায় দেবতার মত সম্মান দিতাম। মিশনারী হাসপাতালের প্রথম চাকরী, রুগীরা যথেষ্ট সম্মান দেয়। কিন্তু ব্যবসায়ী লোকের কাছে টাকাই সবথেকে বড় পূজনীয় বস্তু সেই ব্যপারটি প্রথম জানলাম। সেই অভিজ্ঞতা এই গ্যাস কেনার জন্য হয়েছিল, তাই আজ আবার মনে পড়ল।

এবার তাহলে বলি, এই গ্যাস কি করে আমার জীবন দর্শনের একটা বড় পরিবর্তন এনেছে। সেই ১৯৮৯ সাল নাগাদ , আমি একটা এল পি জি গ্যাসের সংযোগ নিতে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছি। থাকতাম মেদিনীপুর শহরে। সপ্তাহে একদিন করে যেতাম বালিচকে। বালিচকের ছোট্ট নার্শিং হোমের মালিক খোঁজ নিয়ে জানালেন, ওখানকার একজন দালাল শ্রেণীর লোক হাজার টাকা বেশী দিলে, সাথে সাথেই গ্যাস এর ব্যবস্থা করে দিতে পারে। বাস্তবে ঐ লোকটিই তখনও বালীচকের প্রায় সবার গ্যাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছে ঐ ভাবেই; আর সেটা মেদিনীপুরের গ্যাস ডিলারের দোকান থেকেই। আমার তখনকার এক মাসের বেতনের টাকা পুরোটাই দিতে রাজী হয়ে গেলাম। আপনার কপালে যদি ভোগান্তি থাকে, আপনার সবথেকে উপকারী লোকটির হাত ধরেই সেই বিপদটি আসতে পারে। আমি প্রায় দ্বিগুণ টাকা দিয়ে গ্যাস নিচ্ছি জেনে, আমার এক ডাক্তার দাদা বললেন যে ওনার পরিচিত একজন বয়স্ক ডাক্তারবাবুর সাথে গ্যাস ডিলারের খুব ভালো সম্পর্ক, সম্ভবত ঐ ডাক্তারবাবু ঐ ডিলারের প্রয়াত বাবার বন্ধু ছিলেন। তখন তো আর মোবাইল ফোন ছিল না। সেদিন সন্ধ্যায় আমার সেই ডাক্তার দাদা ঐ বয়স্ক ডাক্তারবাবুকে আমার কথা বলেন। উনি বলেন, আচ্ছা, কাল বলে দেব। ঠিক ঐ দিন আমার টাকা নিয়ে বালিচক যাওয়ার কথা। ওখানে গিয়ে বলে দিলাম, মেদিনীপুর থেকে ব্যবস্থা হয়ে গেছে। তার পরদিন আমার সেই ডাক্তার দাদা বললেন, এখন হবে না, খুব কড়াকড়ি চলছে। এ ডি এম প্রতিদিন ডিলারের খাতা পত্র পরীক্ষা করে দেখছে, কোন বে আইনি গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে কি না। পরের সপ্তাহে বালিচকে চেষ্টা করে আর হল না। এবার চন্দ্র কোনা রোডের এক দালালের খপ্পরে পড়তে হল। এ গ্যাসের সংযোগ দেয় ঘাটাল থেকে। একেও আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হল। কিন্তু দিন তিনেক পর থেকে সেই দালাল, আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু করে মাস দুই কাটিয়ে দিল। শেষে আর সেই দালালকে দেখাই গেল না। সেই টাকা আবার “ পর হস্তগতম ধনম “ হয়ে আজ পর্যন্ত আর পুরো টাকা ফেরৎ পাইনি।

এই সব কাণ্ড ঘটার পর , মেদিনীপুর শহরে আমি যে বাড়ীতে চেম্বার করতাম সেই বাড়ীর একটি ছেলে জানাল, সেই দিনই গ্যাসের সংযোগ করিয়ে দিতে পারে। ঐ হাজার তিনেক টাকা লাগবে। কোন প্রস্তুতি ছাড়াই আমাকে তার সাইকেলে চাপিয়ে গ্যাস ডিলারের দোকানের কাছে নিয়ে গেল। আমি পঞ্চাশ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে রইলাম, একজন গ্যাসের লাইন ম্যান বেরিয়ে এসে শুধু আমার থাকার জায়গাটি জেনে নিল। জানিয়ে দিল, সন্ধ্যায় গ্যাস আর ওভেন নিয়ে পৌঁছে যাবে। ঠিক সময় মত এসে ওভেন জ্বালিয়ে দেখিয়ে দিয়ে, টাকা নিয়ে চলে গেল! যে জিনিসের জন্য তিন মাস ধরে, হাজার আড়াই টাকা জলে দিয়ে, মেদিনীপুর, বালীচক, চন্দ্রকোনা রোড, ঘাটাল ঘুরে আবার সেই মেদিনীপুর শহর থেকেই পেয়ে গেলাম, সে যে কী মহার্ঘ বস্তু ছিল আজ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর আগে, এখন বলে বোঝানো যাবে না। কিন্তু সেই ডাক্তার কাকুকে আর জানানো সম্ভব হয়নি যে, টাকা দিয়ে যে কাজ করতে হয়, কোন কাকু জ্যেঠু বা মামা ধরেও সেই কাজ হবে না। টাকার ঐ সার সত্যটি আমি তিরিশ বছর বয়স হতেই বুঝে গেলাম। ঐ প্রায় ব্রহ্মজ্ঞান লাভের জন্য মাত্র আড়াই হাজার টাকা জলে দিয়েছি, এতো খুবই সস্তায় পাওয়া! কি বলেন আপনি?
এত সাধ্য সাধনা করে পাওয়া গ্যাস কিন্তু বছর চারেক পর মেদিনীপুরেই ফেলে রেখে চলে গেলাম, উত্তর বঙ্গের রায়গঞ্জে। আসলে ঐ যে লাইনম্যান গ্যাস আর ওভেন দিয়ে গেল, সে তো আর খাতায় কলমে ওটা আমার নামে বই তৈরী করতে পারেনি। নিয়মিত সিলিন্ডার ভরে দিয়েছে। রায়গঞ্জে চাকরী নিয়ে যাওয়া, সেও আর এক অধ্যায়। মেদিনীপুর আর চন্দ্রকোনা রোড এর চেম্বারগুলি বন্ধ করে , মাত্র তিন দিন এর মধ্যে সব তল্পী তল্পা গুটিয়ে চলে গেলাম। রায়গঞ্জে চাকরীতে যোগ দিয়ে তিনদিন পি ডব্লিউ ডি এর অতিথিশালায় থেকে , মেদিনীপুরে ফিরেছিলাম। ঐ তিন দিনের মধ্যেই একটা ভাড়া বাড়ী ঠিক করে নিয়েছিলাম। কে, কি করে এত কম সময়ে বাসা ঠিক করে দিয়েছিল, আজ আর কিছুই মনে নেই। একটি সাড়ে তিন বছরের আর একটি চার মাসের বাচ্চা নিয়ে সোজা সেই ভাড়া বাড়ীতে গিয়ে উঠেছিলাম। প্রথম দিন সম্ভবত কেরোসিন তেলের স্টোভ জ্বেলে রান্না করা হয়েছিল। পরদিন সকালে মোহনবাটি বাজার থেকে একটি কয়লার উনান কিনে ফেরার সময় সি এম ও এইচ আপিসের বড় বাবুর সাথে দেখা হয়েছিল। উনি নতুন ডাক্তারকে উনুন কিনে ফিরতে দেখে খুব উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন। ওনার উচ্ছাসের কারণ কিন্ত অনেক গভীরে ছিল। সেবার ঐ জেলায় পনের জন ডাক্তারকে পাঠানো হলেও আমরা ছয় জন শেষ পর্যন্ত কাজে যোগ দিয়েছিলাম। আগেও সম্ভবত অনেকেই আপিসে যোগ দিয়ে পরে আর ফিরে যায়নি। তাই, নতুন ডাক্তার কয়লার উনুন কিনেছে দেখেই উনি বুঝেছিলেন, এই ডাক্তারটি জেলায় থেকে গেল। এর থেকেই বোঝা যায় “চাল নেই , চুলা নেই” প্রবাদ বাক্য কতোটা বাস্তব সম্মত কথা।

তিরিশ বছর বয়সে “মুদ্রা রাক্ষস” চিনে নিতে পেরেছিলাম, তাই রায়গঞ্জে গিয়ে একটা গ্যাসের সংযোগ পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আমার স্ত্রী বাঁকুড়ার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরী করার সময়, ইউক্যালিপটাস গাছের শেকড় জ্বালানী করে রান্না করেছে, আপনাদের বলেছি। কিন্তু মাঝে চার বছর গ্যাসে রান্না করে আবার নতুন বাসায় কয়লার উনুনে রান্না করতে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল। তার উপর তখন আমাদের সাথে দুটি শিশু। শিশু সামলানোর জন্য দিদা বা ঠাকুমা কেউ ছিলও না। ক্রমে ক্রমে গ্যাসের সাথে সাথে ইন্ডাকশন কুকার, ক্লিক্স এর ছোট গ্যাস, কত কি কেনা হয়েছে। গত বছর দশেক এল পি জি গ্যাসের সহজলভ্যতা অন্য সকল বিকল্পের কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধের খবর দেখতে দেখতে ইন্ডাকশন কুকার এর কথা মনে পড়ল। বেশ খুঁজে বের করতে হল। ক্লিকস এর স্টোভ কোথায় আছে এখনও পর্যন্ত খুঁজে দেখা হয়নি। মেয়ে দিল্লিতে একা থাকার সময় এই ইন্ডাকশন কুকার নিয়ে গিয়েছিল। কোভিড এর অতিমারীর মধ্যে, দিল্লীর বাড়িওয়ালা ভদ্রলোক এর সহযোগিতায় , প্যাকার্স এন্ড মুভার্স এর লোক গোটা তিনেক পেটি ভরে, মেয়ের বাসার সব জিনিস কলকাতায় দিয়ে গিয়েছিল। সেই ভাবেই বাঁধা অবস্থায় পড়ে ছিল, আজকের মহার্ঘ যন্ত্র, ইন্ডাকশন কুকারটি। চালাতে গিয়ে দেখা গেল, চলছে না। মেয়ে আপিসে যাওয়ার সময় নিয়ে গিয়ে সারিয়ে এনেছে। যে ভদ্রলোক সারিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কাছে এখন প্রতিদিন প্রায় এক ডজন ইন্ডাকশন কুকার সারাতে আনছে লোকে।

আজ একটি বিশাল জাহাজ ছেচল্লিশ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস নিয়ে “ মুন্দ্রা” বন্দরে নোঙর করেছে। এটাই একটা বিরাট খবর, গোটা দেশের জন্য। এই মুন্দ্রার সাথে দেশের বিদেশী মুদ্রার এত সুন্দর সম্পর্কের খবর আমরা কি রাখতাম? চার হাজার মাইল দূরের যুদ্ধ আমাদের রান্না ঘরেও ত্রাহি ত্রাহি রব না তুললে, আমার জীবনের গ্যাস কাহিনী বলার ইচ্ছাও করত না। মনেই ছিল না, গোবরে পদ্মফুল ফুটতে না দেখলেও, গোবর গ্যাসের আলো একদিন আমাদের গ্রামের মণ্ডল বাড়ী আলোকিত করে, আমার মত কত কিশোরকে মোহিত করেছিল।

১৬.৩.২০২৬.

PrevPreviousদিল্লীর যন্তর মন্তরে দিল্লীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপিকা মায়া জন।
Nextআমার নারীদিবস আজও আসেনি।Next
3 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

অর্ধেক আকাশ

March 26, 2026 No Comments

কাঁচা সোনার রঙের একফালি রোদ এসে লুটিয়ে পড়েছে তেতলার ফ্ল্যাটের একচিলতে বারান্দায়। সোমনাথ পায়ে পায়ে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালেন। একটা সিগারেট ধরাবেন নাকি? চট করে পিছন

কেন্দ্র এবং রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা শাসক দলগুলি নারীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ।। #২ পার্ক স্ট্রীট কেস

March 26, 2026 No Comments

অভয়া মানে একজনই নন অভয়া।। প্রলয় গানপন্থী

March 26, 2026 No Comments

“মার্সি পিটিশন”

March 25, 2026 1 Comment

২৩ মার্চ, ২০২৬ একদম গোড়াতেই একটা কথা পরিষ্কার করে নেয়া ভালো যে তাঁর ও তাঁর কমরেডদের মৃত্যুদন্ড ঘোষণার দিন ( ৭ই অক্টোবর, ১৯৩০) থেকে ওই

কেন্দ্র এবং রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা শাসক দলগুলি, নারীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ।। #১ বিলকিস বানো কেস

March 25, 2026 No Comments

সাম্প্রতিক পোস্ট

অর্ধেক আকাশ

Dr. Sukanya Bandopadhyay March 26, 2026

কেন্দ্র এবং রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা শাসক দলগুলি নারীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ।। #২ পার্ক স্ট্রীট কেস

Abhaya Mancha March 26, 2026

অভয়া মানে একজনই নন অভয়া।। প্রলয় গানপন্থী

Abhaya Mancha March 26, 2026

“মার্সি পিটিশন”

Dr. Samudra Sengupta March 25, 2026

কেন্দ্র এবং রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা শাসক দলগুলি, নারীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ।। #১ বিলকিস বানো কেস

Abhaya Mancha March 25, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

614645
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]