২৩ মার্চ, ২০২৬
১৩ মার্চ ২০২৬, সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ দপ্তরের মাননীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ বীরেন্দ্র কুমার লোক সভায় ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি (অধিকার রক্ষা) সংশোধনী বিল পেশ করেন। এই বিল পেশ করা হয়েছে এক তরফা ভাবে কোনো ট্রান্স-ক্যুয়ার মানুষের সঙ্গে পরামর্শ না করে, অংশীদার প্রান্তকায়িত যৌন-সংখ্যালঘু মানুষজনের সঙ্গে আলাপ আলোচনা না করে এবং তাঁদের কোনো এজাহার ছাড়াই। অভয়া মঞ্চ এই প্রক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ।
- এই সংশোধনীটি ট্রান্স নাগরিক ও যাদের কোন লিঙ্গ নিশ্চিত নয় তাদের সকলের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন করেছে, যা নালসা বনাম ভারত রাষ্ট্র (২০১৪) প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায় দ্বারা স্বীকৃত। এই বিলটি সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষা, স্বাধীনতা, সমতা, মর্যাদা এবং সরকারী পরিষেবাগুলিতে সমান প্রবেশাধিকারের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
- ২০২৬ এ প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের শংসাপত্রের আগে একটি মেডিকেল পরীক্ষা করতে হবে, যে মেডিকেল বোর্ডে কোন ডাক্তাররা থাকবেন, তাঁরা ট্রান্স-ক্যুয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন কিনা তা নিয়ে কোনো উল্লেখ নেই। ২০১৭ তে পুট্টুস্বামী বনাম ভারত রাষ্ট্র মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গোপনীয়তার অধিকারের বিধানকে খারিজ করা হয়েছে। এই বিলে ট্রান্সজেন্ডার মানুষের মৌলিক অধিকার লিঙ্গ পরিচিতিকে একটি আভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে না দেখে বাহ্যিক “অর্জিত বৈশিষ্ট্য” (acquirable characteristic) হিসাবে দেখার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। ফলে gender affirmative care ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুযোগ পাওয়া কঠিন হচ্ছে।
- ঐতিহ্যবাহী হিন্দু সামাজিক-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীগুলির বাছাই করা স্বীকৃতি যেমন হিজরা বা কিন্নর, যোগিতা, আরাভানী এবং অন্যান্য রূপান্তরকামী, লিঙ্গভিত্তিক মানুষদের কার্যত বেআইনী করে দেওয়া হচ্ছে।
- ইন্টারসেক্সদের (যাদের জন্মের সময় থেকেই যৌন চিহ্ন অস্পষ্ট) ট্রান্সজেন্ডার কাঠামোর মধ্যে রেখে, বিলটি লিঙ্গ ও যৌনতার বিভিন্নতাকে এক জায়গায় এনে অযথা গোলমাল করেছে। ইন্টারসেক্সদের নিজের অধিকার লঙ্গন করে, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে অল্পবয়সে তাদের উপর অস্ত্রোপচারের এক্তিয়ার নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
- বিলে নতুন ফৌজদারি বিধান, কাউকে ট্রান্সজেন্ডার হতে “প্রলুব্ধ” বা “বাধ্য” করার জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডের অনুমতি দেয়। এই “প্রলোভনের” ধারণা হল ট্রান্স নাগরিকরা একটি কৃত্রিম জীব।
- অন্যান্য অস্ত্রোপচারের বিপরীতে, লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক। সুতরাং এই বিলটি এমন কোনও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় আসে না যা ইতিমধ্যে রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের শরীরকে অনিবার্যভাবে এইচ আইভি বা নানা যৌনরোগের ক্ষেত্র মনে করা হয়েছে, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই। দুর্ভাগ্যক্রমে বহু ডাক্তারও এই দাবী মেনে নিয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে, ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের রক্তদান থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে – এ এমন একটি নীতি যার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
- ২০২৬-এর বিল মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আইন, ২০১৭-এর ধারা ২৩ লঙ্ঘন করে, যা প্রতিটি ব্যক্তিকে তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসেবায় গোপনীয়তার অধিকারের নিশ্চয়তা দেয় এবং সম্মতি ব্যতীত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ নিষিদ্ধ করে। একই আইনের ২১ ধারা স্পষ্টভাবে লিঙ্গ, যৌনতা বা যৌন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। এই বিলটি আমাদের পেশা পরিচালনাকারী আইনের অধীনে বৈষম্যমূলক।
অভয়া মঞ্চের দাবীঃ
১) সংশোধনী বিলটিকে তার বর্তমান আকারে প্রত্যাহার করা হোক এবং নালসা ২০১৪-তে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আত্মনিয়ন্ত্রণ কাঠামো পুনরুদ্ধার করা হোক।
২) পরিচয় শংসাপত্র প্রক্রিয়া থেকে মেডিকেল বোর্ডের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে ফেলতে হবে। লিঙ্গ পরিচয় যে কোনও চিকিৎসা সংস্থার মহামারী কর্তৃপক্ষের বাইরে পড়ে।
৩) এই সংশোধনীর খসড়া প্রণয়নের সময় কোন চিকিৎসা পেশাদার, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে পরামর্শ করা হয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট করতে হবে। আমাদের কাছে খবর, সবে গত ২১ মার্চ আমলা স্তরের সঙ্গে জেন্ডার-ক্যুইয়ারদের সঙ্গে আলোচনার নামে তাঁদের বলা হয়েছে, তাঁদের মত মানা হবে না। এই প্রস্তাবিত সংশোধনীতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়ে ক্লিনিক্যাল এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করা হয়েছে তার প্রমাণমূলক ভিত্তির অভাব রয়েছে। সেই প্রমাণ দেওয়া হোক।
৪) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আইন, ২০১৬ মেনে যে কোনও সংশোধিত শংসাপত্র বা কল্যাণ কাঠামোতে প্রতিবন্ধী রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের জন্য সুগম পথ নিশ্চিত করা হয়নি।
৫) সংশোধিত ধারা ১৮-এর বিধানগুলি প্রত্যাহার করা হোক যা রূপান্তরকামীদের পরিচয় নিশ্চিতকরণকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করে এবং নির্বাচিত পরিবার, সহযোগী এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কারারুদ্ধ করে। এই বিধানগুলি যে আচরণকে সম্বোধন করতে চায় তার কোনও প্রমাণের ভিত্তি নেই
৬) বিলের সংজ্ঞায় আন্তঃলিঙ্গ এবং রূপান্তরকামী পরিচয়ের সংমিশ্রণ সংশোধন করা হোক। এগুলির স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা, যার জন্য বিভিন্ন ক্লিনিকাল এবং আইনি কাঠামো তৈরী করতে হবে।
৭) বিলের সংজ্ঞায় চারটি স্বীকৃত সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভাগ সংশোধন করা হোক যাতে ভারতের বর্ণ, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়গুলিতে লিঙ্গ পরিচয়ের সম্পূর্ণ বৈচিত্র্য অন্তর্ভুক্ত করা যায়- যা কেবলমাত্র প্রভাবশালী-বর্ণ হিন্দু কাঠামোর মধ্যে (হিজরা, কিন্নর, আরাভানী ইত্যাদি) নেই। আমাদের দাবী, আইনি স্বীকৃতির জন্য কোনও ব্যক্তিকে এমন কোনও শব্দ গ্রহণ করতে হবে না যা তাদের নিজস্ব নয়।
৮) সরকারের দাবী, কল্যাণমূলক অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে। আমরা জানতে চাই, সেইসব তথাকথিত অপব্যবহারের তথ্য কেন সকলের জন্য প্রকাশ করা হয় নি।











