অধ্যায় ৩
এবার আসা যাক MSVP ও হেড ক্লার্কে’র অপসারণে’র দাবি করে কোনো সুরাহা হবে কি?
এটা ঠিক যে, “রাজা আসে, রাজা যায়, তবু দিন বদলায় না”। একটা বৈষম্য পূর্ণ রাষ্ট্রে কোনো কিছুই শ্রেণী নিরপেক্ষ হতে পারে না। সেই মোতাবেক এই চূড়ান্ত অব্যবস্থাকে তখনই পাল্টানো সম্ভব যখন আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। আর এটা যদি আমাদের মুল লক্ষ্য হয়, তাহলে বর্তমান ব্যবস্থার চলমান অপ্রীতিকর বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে এগোতে হবে। আরজি করে’র ঘটনা এরই এক জ্বলন্ত উদাহরণ হাজির করেছে। হাজির করেছে ১৪ই অগস্ট নারী আন্দোলনের শিক্ষা। তবে এটাও ঠিক যে, আরজি করের দুর্নীতিবাজ সন্দীপ ঘোষে’র ছায়া সর্বত্রই।!
একজন MSVP যে স্বৈরাচারী হবেনা এটার বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা উলুবেড়িয়ার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা সারা দেশ – রাজ্যে’র চলমান ঘটনা।
তাহলে MSVP-র অপসারণ দাবির মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য কি?
উদ্দেশ্য হলো, সাময়িক ভাবে ও দীর্ঘস্থায়ী পথে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি প্রক্রিয়া। একজন MSVP বা আরো উচ্চতর পদে থাকা ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধের বার্তা তুলে দেওয়া, এবং আত্মসমর্পণ করাতে বাধ্য করা শাসকের বিরুদ্ধে জনগণ বিশেষত শ্রমজীবী জনগণে’র প্রতিরোধী হয়ে ওঠা। স্বৈরাচারী MSVP বা যেকোনো আধিকারিকের চোখের ওপর চোখ রেখে কথা বলা। একজন MSVP গেলে ভবিষ্যতে MSVP বা কোনো উচ্চতর পর্যায়ের আধিকারিককের সামনে গণ প্রতিরোধের বার্তা রাখা, যাতে তারা গণ প্রতিরোধের উত্তাপ অনুভব করেই হাসপাতালে আসে। এই বার্তা তুলে ধরা যে, যারা অর্থাৎ রোগী ও তার পরিবারের সদস্য ইত্যাদি এতো দিন হাসপাতালে এলে কি হবে, কোথায় যাবো, এই ভয় থেকে মুক্ত হওয়া। এতো দিন ঘুষ নিয়ে কাজ করে দেওয়া অসাধু কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এতো দিন MSVP-র অফিসে যেতে, সমস্যার কথা বলতে না পারা জনগণে’র সামনে অফিসের দরজা খুলে যাওয়া। MSVP বা হেড ক্লার্কে’র মতো স্বেচ্ছাচারীদের ঔদ্ধত্যে’র বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো এবং সর্বোপরি নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়া। আজ এটাই শুরু হয়েছে। MSVP সহ বাকীরাও টের পেয়েছেন যে, “পিছনে শাসক দলের মদতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যে কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা – প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ করার জামানা শেষের দিকে”।
কারণ গুটিয়ে থাকা মানুষ চিরকাল গুটিয়ে থাকে না, সুযোগ পেলেই জঙ্গী প্রতিরোধ করে যেটা সামনে আসতে শুরু করেছে। উদাহরণ হিসেবে গত ৩০/১২/২৫ এর উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গণ ডেপুটেশন চলাকালীন MSVP কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা।
লেনিন শিখিয়ে ছিলেন যে, শ্রমিক তার দাবি আদায়ের আন্দোলন যেমন করবে, তবে যে উচ্চতর অর্থাৎ ক্ষমতায়নের দিকে যেতে পারছে কি না জানা যাবে যখন সে মালিকের চোখের ওপর চোখ রেখে কথা বলতে পারবে”!
এটাই দস্তুর যখন জনগণের চেতনায় এটা আসতে শুরু করেছে যে, সরকারি হাসপাতাল জনগণে’র, কারোর বাপে’র নয়। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধের বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধ গড়ে তোলা, অধিকার বুঝে নেওয়া। তাই সাময়িক সুরাহা ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের ভিতর দিয়ে অধিকার বুঝে পাওয়ার এই আন্তঃসম্পর্কের মেলবন্ধন চাই। এরই চলার পথে আজ সবাই দাবি তুলেছে যে, যে MSVP হাসপাতালকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন না তার থাকার অধিকার নেই। অতএব ভবিষ্যতের দিকে নজর রেখে উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে সুরক্ষিত রাখতে ও উন্নত করতে, হাসপাতাল থেকে অবিলম্বে অমানবিক – প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধকারী – স্বেচ্ছাচারী – বিভিন্ন বিষয়ে অনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা, প্রতিবন্ধীদের পেটে লাথি মারা MSVP ও হেড ক্লার্কের অপসারণ চাই। চাই হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবার আমুল পরিবর্তন।
এই দাবি আজ রাজ্যের সর্বত্রই উঠুক। যেখানে ব্যাভিচার সেখানেই গণ প্রতিরোধ গড়ে উঠুক।
উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে সুরক্ষিত রাখতে ও উন্নত করতে, হাসপাতাল থেকে অবিলম্বে অমানবিক – প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধকারী – স্বেচ্ছাচারী MSVP ও হেড ক্লার্কের অপসারণ এবং গত ২৫/৯ /২৫ তারিখে’র অনৈতিক প্রতিবন্ধী শংসাপত্র শিবির বাতিল সহ বিভিন্ন দাবিতে গত ১৭/১ /২৬ থেকে শুরু হওয়া ১মাস ব্যাপি বিভিন্ন এলাকায় গণ স্বাক্ষর অভিযানে সামিল হন।
সংগ্রামী অভিনন্দন সহ–
থ্যালাসেমিয়া সহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধীদের পরিবারবর্গ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার, উলুবেড়িয়া মহকুমা, হাওড়া-র তরফে ।











