আজ ৯ই জানুয়ারি, বিচারহীন অন্ধকারে কেটে গেলো ১৭টি মাস। আজও আমরা সুবিচারের আশায় বারুদ বুকে প্রহর গুনে চলেছি। আমাদের সম্বল বলতে অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর ও সমাজের সর্বস্তরের অসহায় বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবার শপথ। সেই অঙ্গীকার নিয়ে ও অভয়ার স্মৃতিকে বুকে নিয়ে চলছে ‘অভয়া ক্লিনিক’।
আজ আমরা, WBJDF-এর তরফ থেকে চিকিৎসক ও ভলেন্টিয়ারদের একটি টিম অভয়া ক্লিনিকের উদ্দেশ্যে পৌঁছে গিয়েছিলাম ঝাড়খণ্ডের সীমানা সংলগ্ন পুরুলিয়ার মাঠা গ্রামে। অযোধ্যা পাহাড়ের কোল ঘেঁষে জেগে রয়েছে শাল-পলাশের জঙ্গল তার মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অনামী-বেনামী গ্রাম। শহুরে সভ্যতার নিদর্শন, কিছু সদ্য গজিয়ে ওঠা লজ, হোমস্টে রাস্তার ধার বরাবর। সেই গ্রামের অধিবাসীদের ভোর থাকতেই বেড়িয়ে পড়তে হয় জঙ্গলের কাঠ সংগ্রহ করতে, টুরিস্ট সিজনে হয়তো লজগুলোতে বাড়তি কিছু কামাই হয় কিন্তু তার মালিক এই গ্রামের কেউ নয়। মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে নিকটতম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাঘমুন্ডিতে, কিন্তু সুলভ আধুনিক চিকিৎসার থেকে এই গ্রামের দূরত্ব কয়েক আলোকবর্ষ। আমরাও আজ আরেকটু ভালো করে চিনলাম নিজেদের রাজ্যটাকে, তার অধিবাসীদের, দেশের ভিতরের আরেকটা দেশকে। আজ প্রায় ১৩০ এর বেশি স্থানীয় গ্রামবাসীকে স্বাস্থ্য শিবির এর মাধ্যমে পরিষেবা দিতে পেরেছি আমরা। বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে মূলত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, পেশাজনিত ও অভ্যাসজনিত কারণে কোমর ব্যথা, জ্বর সর্দি কাশির প্রাদুর্ভাব এবং কমবয়সীদের মধ্যে মূলত রক্তাল্পতা, নানারকম চামড়ার অসুখ-এর পাশাপাশি তীব্র শীতের কারণেই কাশি সর্দি ইত্যাদি আমরা লক্ষ্য করলাম।স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি তাঁদেরকে প্রয়োজন মতো ওষুধ ও কিছু প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা আমরা করতে পেরেছি। কিন্তু আমরা মনে করি একদিনের এই স্বাস্থ্য শিবির কোনোভাবেই এই বিশাল অঞ্চলের সমস্ত প্রান্তিক মানুষের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার উত্তর হতে পারেনা। তাই এদের সবার সুস্বাস্থ্যের অধিকারের দাবি নিয়ে আমাদের লড়াই চলবে। ঠিক যেমন অভয়ার ন্যায়বিচার, হুমকি সংস্কৃতি বিবর্জিত হাসপাতাল ও ক্যাম্পাস, দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা আমাদের লড়াই এর একেকটা দাবির একেকটা সুচিমুখ, তেমনই সমাজের প্রতিটি প্রান্তিক অংশের মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকারের লড়াইতে সর্বতোভাবে থাকার অঙ্গীকার থাকবে আমাদের।









