Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

রবিচ্ছায়ায়

IMG_20240508_084507
Dr. Sukanya Bandopadhyay

Dr. Sukanya Bandopadhyay

Medical Officer, Immuno-Hematology and Blood Bank, MCH
My Other Posts
  • May 8, 2024
  • 8:46 am
  • No Comments

আলগা আঙুলে আলমারিতে শাড়ির থাক ঘাঁটছিল ঋতু। কি পরবে আজ? যা দুর্ধর্ষ গরম পড়েছে, সুতির কিছুই পরতে হবে। ঢাকাই পরবে? নাঃ, এগুলো বড্ড কড়কড়ে হয়, আর সিল্ক জামদানির জরি ভীষণ ফোটে চামড়ায় — অস্বস্তি হয় তার। ভেবেচিন্তে একটা টাঙাইলই পরবে ঠিক করল। ভারি তো পাড়ার অনুষ্ঠান — তা-ও যদি জোড়াসাঁকো বা রবীন্দ্রসদনে যেত, একটা কথা ছিল।

যতদিন কোন্নগরে থাকত, নিয়মিত জোড়াসাঁকো এসেছে পঁচিশে বৈশাখে। ভোর ভোর স্নান করে, পরিপাটি ঢাকাইটি পরে, শাশুড়ি-মা আর ধ্রুবর জন্য চটজলদি কিছু জলখাবার তৈরি করে বেরিয়ে পড়ত ঋতু। ধ্রুব, তার স্বামী এসবের ধার ধারেনি কোনোদিন। বস্তুত, এতখানি বস্তুতান্ত্রিক, তামসিক লোকের সঙ্গে তার বিয়ে হবে কোনোদিন ভাবেইনি ঋতু। রবীন্দ্রভারতী থেকে সঙ্গীতে স্নাতক মেয়েটির রূপ ছিল না তেমন, সে নিজেই জানত। আর তিন বোনের বিবাহ-বৈতরণী পার করার রুপোও ছিল না তার বাবার, জানত এটাও। তাই রাজ্য সরকারের মধ্যমগোছের কেরানি, একেবারেই বিশেষত্বহীন চেহারার ধ্রুবর সঙ্গে সম্বন্ধটা ফেলতে পারেনি বাবা। মা-ছেলের নির্ঝঞ্ঝাট সংসার, ভেবেছিল ভালই থাকবে মেয়ে।

খুব কি খারাপ আছে ঋতু? শোবার ঘরের ড্রেসারের বড় আয়নাটার সামনে নিচু হয়ে শাড়ির কুঁচি সমান করার চেষ্টা করতে করতে নিজেকেই প্রশ্ন করে সে।

সরকারের আবগারি দফতরে মেলা উপরি জোটে। নির্বিচার তৈলসিঞ্চনের জোরে উপরওয়ালার দাক্ষিণ্যও ভালই জোটে ধ্রুবর কপালে। তারই ফলশ্রুতি, বিয়ের বছর সাতেকের মধ্যেই কোন্নগরের এজমালি ভাড়াবাড়ি ছেড়ে কলকাতার পূর্ব উপকন্ঠের এই ছিমছাম ফ্ল্যাটে গৃহপ্রবেশ। কড়ি কত গুনতে হয়েছে সাদায় কালোয়, জানে না সে, তার বর তাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। লোক দেখানো ব্যাঙ্কঋণ একটা আছে, জানে। এত বড় ফ্ল্যাটের গৃহঋণের মাসিক কিস্তি কত হতে পারে, আন্দাজ করতে পারে তা-ও। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতি মাসে যে সংসার খরচ হাত পেতে নিতে হয় তাকে, তাতে কোনো কার্পণ্য দেখেনি ঋতু এযাবৎ।

একটি ছেলে তাদের, কথা ফোটার অব্যবহিত পরেই প্রথমে প্লে স্কুল, তারপর নামী ইংরেজি মাধ্যমের কিন্ডারগার্টেনে চালান হয়ে গিয়েছে সে। ছেলের মায়ের মতামতের কোনো গুরুত্ব ছিল না সেখানে।

কোন্নগরের ভাড়াবাড়িতে জায়গার অভাব ছিল, ‘স্বপ্ননীড়’এর এই তিন কামরার ছড়ানো ছিটোনো ফ্ল্যাটে সেই অভাব নেই। তাই অস্ফুটে স্বামীর কাছে অনুরোধ রেখেছিল ঋতু, যদি একটা গানের শিক্ষাকেন্দ্র করা যায় — মানে, তেমন বড়মাপের কিছু নয় — সে সাধ্য তার নেই, ঐ যাকে কোচিং স্কুল বলে, সেইরকম যদি কিছু করা যেত, তার অধীত বিদ্যেটুকু একটু কাজে লাগানো যেত, এই আর কি! অনুরোধই করেছিল ধ্রুবকে, আবদার করার সাহস তার ছিল না।
শুনেই ভুরু কুঁচকে গিয়েছিল ধ্রুবর —“গানের ইস্কুল? তুমি শেখাবে? ওই অ্যা অ্যা করে নাকিসুরে টেনে টেনে করা গানগুলো তো? কেন? এক্সট্রা টাকার দরকার পড়েছে?”

মাথা নিচু করে ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটের মেঝের টাইলের বিমূর্ত নকশার দিকে সমস্ত মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না ঋতুর। মৃণালের মতো স্বামীর ‘চরণতলাশ্রয়ছিন্ন’ হওয়ার সাহস তার কোনোদিনই ছিল কি?
“ওসব ফালতু হুজুগ মাথা থেকে ঝেড়ে ফ্যালো, বুঝলে? ঠিক আছে, সামনের মাস থেকে হাতখরচা একটু বাড়িয়ে দেব’খন” — মন দিয়ে জেলকরা চুলে চিরুনি চালাতে চালাতে বলেছিল তার স্বামী।

শাশুড়ি নিরীহ নির্বিরোধী মানুষ। উপার্জনক্ষম ছেলেকে ভয়ও পান বেশ। তিনি মৃদু গলায় বলেছিলেন, “বেশ তো আছো মা, ছেলে স্বামী সংসার নিয়ে — বিট্টু তো অভাব রাখেনি কিছুরই। তোমার খামোখা গানের মাস্টারি করার দরকারটাই বা কি? মন দিয়ে ছেলে মানুষ করো, দ্যাখো, যেন বাপের মতো রোজগেরে হয়ে তোমার মুখোজ্জ্বল করে একদিন”।

গানের স্কুলের প্রসঙ্গের সেখানেই ইতি।

এই পাড়াটা বেশ ভাল লেগেছিল তার। শহরের সবরকম বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্য আর জাঁকজমক নিয়েও বেশ একটি ঘরোয়া আবহ রয়েছে এখানে। চারপাশের ফ্ল্যাটবাড়িগুলোয় মূলত মধ্য আর উচ্চমধ্যবিত্তদের বাস। অনেকেই পুরোনো একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে চলে এসেছেন ‘এতটুকু বাসা’তে। কিন্তু মনের কোনো আলো না পড়া কোণে হয়ত রয়ে গিয়েছে সেই একত্রবাসের গোপন ইচ্ছার প্রচ্ছন্ন আর্তি। সঙ্গে বেদনাও। তাই যে কোনো সামাজিক পর্বদিনে একজোট হয়ে একটা অনুষ্ঠান ‘নামিয়ে ফেলা’র দুর্দম বাসনা রয়ে গিয়েছে সব বাসিন্দার মনে, সে পাড়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসবের বিজয়া সম্মিলনী হোক বা স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রক্তদান শিবির — ছেলেবুড়ো সক্কলে হামেহাল হাজির।

তা, রবীন্দ্রজয়ন্তীই বা বাদ যাবে কেন? অতএব, বৈশাখের পঁচিশ তারিখের ঢের আগে থেকেই কোনো একটা ফ্ল্যাটবাড়ির ‘কমিউনিটি হল’এ শুরু হয়েছে সভার পালা। কোয়ালিফাইং রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল সভার নানা সিদ্ধান্ত-প্রতিসিদ্ধান্তের গ্রন্থিমোচন করে, রিহার্সালের ঘাম ঝরানো পালা সাঙ্গ করে, সভাপতি-প্রধান অতিথি ইত্যাদি নির্বাচন এবং নিমন্ত্রণের আনুষ্ঠানিকতা পার করে অবশেষে আজ সেই দিন এসেছে। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন। পঁচিশে বৈশাখ।

গত দু’বছর কোভিডের কারণে করা হয়নি রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন, তাই এই বছর সকলের উৎসাহের অন্ত নেই। সকালে, ‘স্বপ্ননীড়’ এর কমিউনিটি হলে রবীন্দ্র-প্রতিকৃতিতে মাল্যদান আর রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন হবে। সন্ধ্যায় আরেকটি আবাসন ‘পূর্বাশা অ্যাপার্টমেন্ট’এর প্রশস্ত বাগানে প্যান্ডেল ও স্টেজ করে অভিনীত হবে রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য ‘শ্যামা’। কুশীলব পাড়ারই লোকজন।

ঋতুর আজ সকালের অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকটা গান গাওয়ার কথা।

শাশুড়ির পুরোনো পালঙ্কের নিচ থেকে টেনে বের করা হয়েছিল ধূলিধূসরিত হারমোনিয়ম (তাদের খাট আধুনিক বক্স কুইন বেড, তাতে ‘খাটের তলা’ বলে কিছু নেই)।

সামনের ফ্ল্যাটের মণিমাসিমার উৎসাহ খুব — উনিই ওঁদের অল্পবয়সী কাজের মেয়ে পূর্ণিমার সঙ্গে হাত লাগিয়ে বার করেছিলেন ওটা। “ইস, এত ঝুল জমেছে ওটার ওপর — তুমি রবীন্দ্রভারতীর ছাত্রী, গানবাজনাকে এভাবে অবহেলা করে থাকো কি করে মেয়ে?”

মণিমাসিমা আর ‘লেকভিউ হাইটস’ এর কলেজশিক্ষিকা অবন্তীর উপরোধেই গান ধরতে হয়েছিল ঋতুকে —
‘শুধু যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা’—

কিছুটা ভয়ে ভয়েই গেয়েছিল সে, পাছে ধ্রুব পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে কিছু বাঁকা মন্তব্য না উপহার দিয়ে বসে আবার!

কিন্তু না, কোথায় যতি দিতে হয় আর কোথায় বিরতি, বিন্দুমাত্র কাব্যিক না হয়েও ধ্রুব তা ভালই বোঝে দেখা গিয়েছিল। যতদিন রিহার্সাল চলেছে, রসভঙ্গ করতে একদিনও নিজের ঘর ছেড়ে বেরোয়নি। উদযাপন উৎসবে চাঁদাটা কিন্তু দিয়েছে দরাজ হাতে, সুতরাং ঋতুর স্বামীর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবটা তেমন চোখে পড়েনি কারোর। কিংবা হয়ত পড়েছে, কিন্তু টাকাপয়সার অপার মহিমা, অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করতে হয়।

সবুজ কলাপাতার উপর একমুঠো ফুটফুটে জুঁইফুলের তুল্য অন্নের দানার মতো প্রসন্নতা মাখা একটা সকাল ঝকঝক করছে তাদের পাঁচতলা ফ্ল্যাটের বাইরে। এতটুকু মালিন্য যেন নেই কোত্থাও। স্বপ্ননীড়ের কমিউনিটি হলটির নাম ‘অবসরিকা’। বেশ রাবীন্দ্রিক, মনের আরাম দেয়, ভাবল ঋতু। ছোট্ট ডায়াসের উপর কাঠের চেয়ারকে সাদা মখমলে ঢেকে ক্ষুদ্র একটি বেদীর রূপ দেওয়া হয়েছে। তার উপরে বিশ্বকবির রঙিন প্রতিকৃতি, তাঁর প্রৌঢ় সৌম্য কপালে শ্বেতচন্দনের নবীন ফোঁটা। সামনের টেবিলে স্তূপ করে রাখা বিভিন্ন সাইজের মালা — রজনীগন্ধাই বেশি, বেল আর জুঁইয়ের মালাও রয়েছে কিছু। অবন্তীর সবদিকে নজর রয়েছে, ছবির পাশে ধূপদান রাখতে ভোলেনি। তাতে গোঁজা রয়েছে সুগন্ধী আগরবাতির গুচ্ছ।

হল ভরে উঠতে আরম্ভ করেছে সুবেশ নরনারীতে। হারমোনিয়ামের সামনের গুছিয়ে বসতে গিয়ে ঋতুর চোখ আটকে গেল কমিউনিটি হলের দরজায়। কতগুলো মলিন ছিন্নবসন শিশুমুখের উঁকিঝুঁকি দেখতে পেল সে। কারা ওরা? ততক্ষণে সুবীরদা, বোসজেঠু, বিশ্বাসবৌদিদের মতো কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে ছেলেমেয়েগুলো। অনাহূত,অবাঞ্ছিত অতিথি কেন দ্বারে? গুছিয়ে বসা আর হলো না ঋতুর।

কাছে যেতে মালুম হলো, বাচ্চাগুলো অচেনা কেউ নয়। নানা ফ্ল্যাটবাড়ির বিভিন্ন গৃহসহায়িকা অর্থাৎ ‘কাজের দিদি’দের সন্তান। পাশের বস্তিতে এদের বাস। সারা বছর পাড়ার নানা ফাংশন আর ‘পোগ্রাম’ ওরা দূর থেকেই দেখে আশ মেটায়, পতাকা তোলার দিনগুলোয় (পনেরই আগস্ট বা ছাব্বিশে জানুয়ারি) খাবারের প্যাকেট, লজেন্স এসব পায়। তাই আজও এসেছে। তবে আজ ওরা খালি হাতে আসেনি — আজ রবিঠাকুরের জন্মদিন শুনেছে, তাই ওরাও মালা নিয়ে এসেছে। টাটকা ফুলের মালা কিনতে অনেক খরচ, ওরা সেই জন্য রঙিন ঘুড়ির কাগজের মালা নিয়ে এসেছে, ঠাকুরের ছবিতে পরাবে বলে। ঋতু ঠাহর করে দেখল, জটপাকানো তামাটে চুলের পুতুল পুতুল দেখতে একটা বাচ্চার হাতে সস্তা গোলাপী কাগজের ফুলের মালা।

‘অন্ধকারে লুকিয়ে আপন মনে,
কাহারে তুই পূজিস সংগোপনে?‘—- ঋতু মুখ ফিরিয়ে তাকালো ডায়াসের দিকে।

হলের ছাদ থেকে বাহারি ঝাড়বাতির আলো পড়েছে কবির বিষাদগম্ভীর মুখে, তাঁর দৃষ্টি যেন প্রসারিত কোন সুদূরে — ‘নয়ন মেলে দেখ দেখি তুই চেয়ে, দেবতা নাই ঘরে’—-

ঋতুর মাথার মধ্যে কি যেন একটা ওলোটপালোট হয়ে গেল।
সে সোজা এসে দাঁড়াল এই রিক্তপরিত্যক্ত শিশুর দলের মাঝখানে। ”তোরা গান করতে পারিস? কবিতা জানিস, কবিতা? রবিঠাকুরের কবিতা?”

ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন মণিমাসিমা। “কি বলছ কি ঋতু? এই হ্যাগার্ড, অশিক্ষিত বাচ্চাগুলো গান গাইবে? আবৃত্তি করবে?”

ঋতু যেন বধির হয়ে গেছে। সে ওই পুতুল পুতুল বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নিয়েছে ততক্ষণে। ধোপদুরস্ত টাঙাইলের দুধসাদা জমিতে লাগছে পৃথিবী মায়ের মাটির দাগ, তার ভ্রূক্ষেপ নেই।

“কেন, ইস্কুলে পড়িসনি কেউ? রবিঠাকুরের কবিতা পড়ায় তো ইস্কুলে — মনে নেই একটাও? মনে করো আমি বিদেশ ঘুরে, মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে—” উত্তেজনায় হাঁপাতে থাকে ঋতু, — “তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে — পড়িসনি? কিচ্ছু মনে নেই?”

বোবা চোখগুলো বোধহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার মুখের দিকে, পিপাসার্তের মতো। আরো কিছু বলুক এই মাসিটা, ওর মুখ থেকে যেন বিন্দু বিন্দু স্বপ্ন ঝরে পড়ছে, অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে হাভাতে বাচ্চাদের দল।

‘এইসব মূঢ়, ম্লান, মূক মুখে দিতে হবে ভাষা,
এইসব শ্রান্ত, শুষ্ক, ভগ্ন বুকে ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশা’—
কি এক অব্যক্ত আবেগের উচ্ছ্বাসে গলা বন্ধ হয়ে আসে ঋতুর। সেও তো ওদেরই একজন, নয় কি?

হঠাৎই দলের পিছন থেকে একটি কিশোর ছেলে বলে ওঠে, “ইস্কুলে যাইনি, কিন্তু আমি একটা রবিঠাকুরের গান জানি। ওরাও জানে। গাইব?”

কোলের বাচ্চাটিকে সন্তর্পণে মাটিতে নামিয়ে দেয় ঋতু। দু’চোখ ভর্তি জল নিয়ে ঘাড় হেলিয়ে সম্মতি দেয় সে।
”গাও। যা জানো, গাও।”

সমবেত নির্বাক, কৃষ্টিবান শ্রোতাকুলকে চমকে দিয়ে গেয়ে ওঠে সেই শ্যামলা কিশোর —
“জন গণ মন অধিনায়ক জয় হে,
ভারত ভাগ্য বিধাতা”
তার সঙ্গে গলা মেলায় আরো অনেকগুলি রিনরিনে কণ্ঠ—
“পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা
দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ,
বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা
উচ্ছলজলধিতরঙ্গ”

বাংলার এক নাগরিক পল্লীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত অবধি ছড়িয়ে যায় শিশুকণ্ঠের সুরমূর্ছনা —
রুদ্র বৈশাখের প্রসন্নতা গাঢ় হয়, গাঢ় হয় রৌদ্রের রঙ —
বিশ্বকবির দৃষ্টিপ্রসাদ সিক্ত করে দিয়ে যায় শিশু বৈতালিকের দলকে।

আজ যে তাঁর জন্মদিন। আজ পঁচিশে বৈশাখ।

PrevPreviousআমার হাত বান্ধিবি…
Nextসবার রবীন্দ্রনাথ, সবার বিভূতিভূষণNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

ধর্মীয় স্লোগান দিলে ফি-ছাড়! অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ প্রদর্শনের প্রতিবাদ জেপিডি-র।

April 16, 2026 No Comments

১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ ​সম্প্রতি কলকাতার এক প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (Cardiologist) সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান দিলে তিনি ফি-তে ছাড় দেবেন। ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম

পথের সন্ধানে

April 16, 2026 No Comments

ভারতের ইতিহাসে কালো দিনের তালিকায় আর একটি দিন যুক্ত হল – ১৩ এপ্রিল, যেদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জোরের সঙ্গে জানিয়ে দিলেন ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষিত হবার

ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল

April 16, 2026 No Comments

সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ চিৎকার করে আসে না। কিছু নিয়ন্ত্রণ আসে ভালোবাসা, দায়িত্ব, অপরাধবোধ আর ভয়–এর মোড়কে। 💔🌫️ Emotional Blackmail হলো এমন এক ধরনের মানসিক প্রভাব

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

April 15, 2026 No Comments

সালটা ২০১১, আমরা মেডিক্যাল কলেজে তখন সদ্য পা দিয়েছি। গল্পটা শুরু হয়েছিল তারও আগে, রেজাল্ট বেরোনোর পরপরই। বিভিন্ন দাদা দিদিরা বাড়ি বয়ে একদম ভর্তির সমস্ত

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

April 15, 2026 No Comments

সাম্প্রতিক পোস্ট

ধর্মীয় স্লোগান দিলে ফি-ছাড়! অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ প্রদর্শনের প্রতিবাদ জেপিডি-র।

The Joint Platform of Doctors West Bengal April 16, 2026

পথের সন্ধানে

Gopa Mukherjee April 16, 2026

ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল

Dr. Aditya Sarkar April 16, 2026

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

Dr. Subhanshu Pal April 15, 2026

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

Abhaya Mancha April 15, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

617856
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]