ক্যালেন্ডারের পাতায় এই তারিখকে লাল রঙে কখনো ছাপানো হয়েছে বলে জানা নেই, অথচ এই দিনটিকে নিয়ে দুনিয়া জুড়ে প্রকৃতি ও পরিবেশপ্রেমী মানুষজনের আবেগ বা উচ্ছ্বাসের অন্ত নেই। ১৯৭২ সাল থেকে গোটা দুনিয়ায় এই দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” হিসেবে। এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ধরিত্রীর সকল সন্তানের অনেক আবেগ, অনেক প্রত্যাশা, অনেক শপথের পর্ব । সুইডেনের স্টকহোম শহরের সেই ঐতিহাসিক মহাসম্মেলনের সূত্র ধরেই আমাদের বাসভূমি এই নীল গ্রহকে নিয়ে নতুনভাবে পথচলার অঙ্গীকার করেন দুনিয়ার তাবৎ রাষ্ট্রনায়কেরা। কেন এমন তাগিদ অনুভব করেছিলেন তাঁরা ? কেন তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর কথা? সে এক দীর্ঘ আলোচনার পর্ব।
পথে এবার নামো সাথী……..

বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতির শিকার হল, অনাহার আর ভুখা পরিস্থিতি কেড়ে নিল বহু জীবন। এবার বুঝি টনক নড়ল পৃথিবীর তাবড় তাবড় রাষ্ট্র নেতাদের। তাঁরা সকলেই একযোগে কাজ করার তাগিদ অনুভব করলেন।এই সূত্রেই সুইডেনের স্টকহোম শহরে আয়োজিত হল এক সম্মেলন – পৃথিবীকে নিয়ে পৃথিবীর প্রথম মহাসম্মেলন। এই আয়োজনের মুখ্য উদ্দেশ্যই ছিল, ক্ষমতাসীন বিশ্ব নেতৃত্বকে পৃথিবীর বদলে যাওয়া বাতাবরণ সম্পর্কে সচেতন হবার বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং পাশাপাশি এর প্রতিকারে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করা, যাতে দেশের একেবারে তৃণমূল স্তরে এই বার্তাকে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
এই বিশ্ব সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। ১৪ জুন, ১৯৭২ স্টকহোম শহরে বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের সামনে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে ভারতের একান্ত ভাবনার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি তাঁর ভাষণে বলেন –
…. সহবাসীদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে কাউকে প্রকৃত অর্থে মানুষ বা সভ্য মানুষ হিসেবে গণ্য করা যায় না। আজ থেকে ২২০০ বছর আগে সম্রাট অশোক একজন আদর্শ সম্রাটের আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে….. দেশের প্রাণিসম্পদ রক্ষা করার কথা বলে গেছেন …. যুদ্ধজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা না হয়ে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে শান্তিপথে চলার কথা বলেছেন। …..অথচ আজকের পৃথিবীতে প্রকৃতিকে নষ্ট করে ফেলাকেই রাষ্ট্রীয় উন্নতির মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ….. ভুললে চলবে না আমরা প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের জীবনের প্রতিটি অভাব পূরণের জন্য আমরা প্রকৃতির ওপরই নির্ভরশীল। নিজের গরিমাকে নির্লজ্জভাবে জাহির করার জন্য আর কতকাল আমরা অন্যদের খাটো চোখে দেখব। ? …আপনাদের কি মনে হয় না দারিদ্র্য হল সবচেয়ে বড় দূষ্ট ? … নিদারুণ দারিদ্র্যের মধ্যে যাঁদের দিনাতিপাত করতে হয় , তাঁদের কাছে পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নটিই অর্থহীন। আজ যখন জনসংখ্যা অথবা পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার প্রশ্নকে খুব বড় করে দেখানো হয় তখন মনে হয় এই কথা বলে আমরা যেন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের বহুবিধ সমস্যা থেকে আমাদের নজর ঘুরিয়ে দিতে চাইছি।…. পৃথিবীর যে সমস্ত দেশে জনসংখ্যা কম তাঁরাই পার্থিব সম্পদের সিংহভাগ অংশ ভোগ করে। … যৌথ যাপনের মহত্তর ধারণাকে নস্যাৎ করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একক যাপনকেই আজ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের প্রকৃতি বিচ্ছিন্ন করছে…. মানুষ রাতারাতি অভ্যস্ত যাপনের সব কিছুকে বদলে ফেলে পিছনে ফেলে আসা তথাকথিত নিভৃত,শান্তিময় জীবনে ফিরে যাবে না।…
তবে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ না করে তার সঙ্গে সহাবস্থানের অভ্যাসে অভ্যস্ত হবে…. হয়তো এমনটাই হবে আধুনিকতার শ্রেষ্ঠতম স্মারক।
আজ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক আগে বলা কথাগুলো আজ আরও বেশি করে পালনীয় , অনুসরণীয় হয়ে উঠেছে। এই দীর্ঘ সময়ে পৃথিবীর পরিবেশ পরিমণ্ডল কতটুকু ফিরে পেয়েছে তার হারিয়ে যাওয়া সম্পদকে অথবা আরও কতটা রিক্ত নিঃস্ব হয়েছে তা নিয়ে নিশ্চয়ই সবিস্তারে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। তবে সেই বিষয়ে কথা বলার আগে একবার দেখে নেওয়া যাক ২০২৪ সালের পরিবেশ দিবসে ঠিক কোন্ থিমকে সামনে রেখে আগামীদিনে বিশ্বময় কর্মযজ্ঞে সামিল হব আমরা। আমাদের যে পথ চলতে হবে।
আমাদের ভূমি , আমাদের ভবিষ্যৎ
৫ জুন সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে এই বছরের পরিবেশ দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এবারের থিম – “ভূমি পুনরুদ্ধার, মরুকরণ এবং খরা পরিস্থিতির স্থিতিস্থাপকতা”। সহজ করে বললে বলতে হয়, পৃথিবীর ভূমি তথা মাটিকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। খরা পরিস্থিতির মোকাবিলা করে মরুভূমির প্রসার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একনজরে দেখে মনে হতে পারে বিষয়গুলো বোধহয় আলাদা আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এমনটা নয়। দেখে নেওয়া যাক্।
ভূমি বা মাটি হলো জীবনের পিঠভূমি। পৃথিবীর কঠিন শিলাময় পৃষ্ঠ ভাগের ওপর যে কোমল, নমনীয়, শিথিল শিলা আবরণী রয়েছে তাকেই আমরা বলি মৃত্তিকা বা মাটি। এই মাটিকে আশ্রয় করেই ডালপালা ছড়িয়ে বেড়ে উঠেছে কত বিচিত্র গাছগাছালিরা, পরবর্তী সময়ে এই গাছপালা আর অরণ্যাণীর নিবিড় সান্নিধ্যে প্রকৃতির আসর জমিয়েছে বিচিত্র সব পাখপাখালি -কীটপতঙ্গ- জন্তু জানোয়ারের দল। আর সবশেষে ভূমির দখলদারিতে মেতে উঠেছে মানুষ, হোমোস্যাপিয়েন্স স্যাপিয়েন্স।
মাটি নিয়ে মাতামাতি শুরু হলো এই মানুষকে ঘিরেই। যে মাটি তার কৃষি কর্মের বণিয়াদ ,তাকেই উজাড় করার আত্মঘাতী আস্ফালনে মেতে উঠলো সে । বন কেটে বসত, সামান্য বসত থেকে মহাবসত গড়তে গিয়ে সে অস্বীকার করলো ভূমির ওপর খবরদারি করার অধিকার শুধু তার একার নয়, বসুন্ধরার এই অমূল্য সম্পদের ওপর গাছগাছড়া , অন্যান্য প্রাণিদেরও সমান অংশীদারিত্ব রয়েছে। নিজের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা মানে অন্য সহবাসীদের অধিকার খর্ব করা, নস্যাৎ করা, উজাড় করে ফেলা নয়। প্রকৃতির এই সহাবস্থানের নীতিকে বিস্মৃত হয়ে মানুষ যতই নিজেকে উঁচুতে , আরও উঁচুতে তুলে ধরতে চেয়েছে ততই শূন্যতা এসে গ্রাস করেছে পার্থিব জীবনের পরিপূর্নতাকে। যে ভূমিকে, ভূমির সম্পদকে ,ভূমিজ সহবাসীদের সাহচর্যকে অবলম্বন করে সে একদিন সবাইকে ছাপিয়ে যেতে চেয়েছিল, সেই ভূমিই আজ তাঁর ভবিষ্যতের পথে চলার সব থেকে বড় বাধা, প্রগতির পথে চলার সব থেকে বড় অন্তরায়।
অতি কর্ষণের ফলে পৃথিবীর ভূমি আজ বন্ধ্যা, অনুৎপাদনশীল; উর্বরকের যথেচ্ছ ব্যবহার মাটিকে বিষাক্ত করে ফেলেছে, মাটির আশ্রয়ে থাকা অসংখ্য অণুজীবী , যারা তাদের জৈবনিক অস্তিত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা বজায় রাখতো , তারা আজ বেবাক লোপাট হয়ে গেছে। এর ফলে কমেছে মাটির সংসক্তি , বেড়েছে ভূমির শুষ্কতার মাত্রা, বেড়েছে ভূমির মরুকরণের প্রবণতা। পৃথিবীর বাতাবরণের ভারসাম্যে বড়সড় পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে যার ফলে বিপর্যস্ত হয়েছে ভূমির শৃঙ্খলা। প্রাকৃতিক তন্ত্রকে ছাপিয়ে গেছে মানুষের তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্পের দাপাদাপি। অথচ ভূমির অবক্ষয় মানে সভ্যতার অবক্ষয় – এই সত্যটাকে আজ নতুন করে উপলব্ধি করতে হবে আমাদের।
পৃথিবীর সামনে আজ গভীর বিপর্যয়ের ভ্রুকুটি। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্যহীনতা , প্রভাব ফেলেছে আবহাওয়া জলবায়ুর ছন্দোময় শৃঙ্খলায়। খরা আর বন্যার তাণ্ডবে বিপন্নতার শিকার আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা । খাদ্যের উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ভূমি মানের অবনমনের ফলে বাড়ছে পরিযান, বাড়ছে ক্লাইমেট রিফিউজির সংখ্যা। পৃথিবীর অতুলনীয় জীববৈচিত্র্য আজ সংকটাপন্ন। অথচ এই অতুলনীয় সম্পদ থেকেই আমরা সম্পন্ন হয়েছি এতকাল। আজ তাই ডাক দেওয়া হয়েছে ভূমি পুনরুদ্ধার করার, মরুকরণ এবং খরা পরিস্থিতির স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখার। এই বছরের পরিবেশ দিবসের আহ্বান তেমনই। পৃথিবীর ভূমিকে অবলম্বন করেই জীবনের প্রাণময় সমারোহ। তাই পৃথিবীর ভূমির সম্মান ফিরিয়ে দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে হবে যে কোনো মূল্যে। এটাই এবারের পরিবেশ দিবসের অঙ্গীকার।
কোন্ পথে যে চলি ?
সমস্যার একটা আভাস হয়তো পাওয়া গেল ওপরের এই আলোচনা থেকে, এবার খুঁজতে হবে, ভাবতে হবে সমাধানের সম্ভাব্য উপায়গুলোকে নিয়ে। পরিবেশ দিবস এক বিপুল কর্মযজ্ঞে সামিল হবার আবেদন জানায় পৃথিবীর সমস্ত নাগরিকদের কাছে। একটা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে জাতিসংঘের তরফে। মোট সাত দফা উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। কী সেই উপায়গুলো যা পার্থিব ভূমি সম্পদের পুনরুদ্ধারের সহায়ক হবে? একবার তাদের দিকে নজর দেওয়া যাক্ –
১. সুস্থিত কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন
মাটি ও মানুষের সম্পর্কের গভীরতম নিদর্শন হলো কৃষি। মাটির স্বাভাবিক উর্বরতার কথা যেদিন আবিষ্কার করলো মানুষ সেদিনই পত্তন হলো কৃষির। একেবারে গোড়াতে ভূমির স্বাভাবিক দানেই সন্তুষ্ট ছিল মানুষ, কিন্তু কালে কালে জমির ওপর মানুষের চাপ যত বেড়েছে তত বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে কৃষি ব্যবস্থা। এই অনিয়মের প্রভাবকে কাটিয়ে ভূমিকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই কাজে সহায়ক হবে জৈব কৃষি উৎপাদন।
২. ভূমি বাঁচাও, জীবন বাঁচাও
মা কে ছাড়া যেমন শিশুর জীবন বিপন্ন ঠিক একই ভাবে ভূমি মানের অবনমনের ফলে পার্থিব জীবন বিপন্নতার শিকার হয়। শুধু আমাদের কৃষি ব্যবস্থা নয় , মাটি পৃথিবীর জীবপরিমন্ডল ও বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ভূমি মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
৩. কীট পতঙ্গের সংরক্ষণ
বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণে কীট পতঙ্গের বিশেষ করে পরাগায়নকারী পতঙ্গদের ভূমিকা অনন্য। পরাগায়নের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশগতির ধারা অব্যাহত থাকে,ফলে অটুট থাকে মাটি উদ্ভিদ ও প্রাণিদের জীবনের বন্ধন। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থের প্রয়োগের ফলে পরাগায়নকারী পতঙ্গদের সংখ্যা বিশেষ করে মৌমাছিদের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে কমছে খাদ্যশস্যের উৎপাদন, বাড়ছে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। প্রচেষ্টা থাকুক পতঙ্গদের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতি।
৪. সংরক্ষিত থাকুক পেয় জলের ভাণ্ডার

৫. উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র প্রান্তীয় অঞ্চলগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে
মানুষের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের জন্য পৃথিবীর উপকূলীয় এলাকার অবস্থাতেও বড় রকমের পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। সমুদ্র হয়ে উঠেছে বর্জ্য পদার্থের সঞ্চয় ক্ষেত্র। অথচ এই সমুদ্র আমাদের জোগায় সুলভ সহজপাচ্য প্রোটিনের, সামুদ্রিক উদ্ভিদ উৎপন্ন করে মূল্যবান অক্সিজেন। উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র হলো জীববৈচিত্র্যের অনন্য ধারক। এই বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে গেলে পৃথিবী হারাবে তার প্রাণস্পন্দন। এদিকেও নজর দিতে হবে আমাদের।
৬. শহরের সবুজ ফিরে আসুক
মানুষের উন্নয়নের ঠেলায় আধুনিক শহর নগরগুলোর অবস্থা এখন কংক্রিটের আস্তাকুঁড়ে পরিণত হয়েছে। গাছপালা হীন শহরগুলো হয়ে উঠেছে শহুরে তাপদ্বীপ। শহরবাসীর জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক সবুজায়ন ঘটাতে হবে।
৭. চাই প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান
এই সব লক্ষ্য পূরণের জন্য যাতে অর্থের জোগানে ঘাটতি না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। সরকারের নজর দিতে হবে এই বিষয়ে। মনে রাখতে হবে দীর্ঘ অবহেলার কারণেই পৃথিবীর ভূমি সম্পদের এই হাল। ভবিষ্যতে আরও অবনতি যাতে না ঘটে সেই বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
হাতে হাতে ধর গো……
পরিবেশ দিবস আসে, পরিবেশ দিবস চলে যায়।এই দিনটিকে নিছক একটি দিন হিসেবে কাটিয়ে দিতেই আমরা যেন সবাই বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অথচ পৃথিবী বদলাচ্ছে, ভীষণ ভাবে বদলের ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত দিচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্যে। মনে রাখতে হবে আমাদের একটাই পৃথিবী। বাড়ি বদলের মতো অন্য কোথাও গিয়ে তাঁবু পাতবো তার জো নেই। বাড়ি ভেঙেচুরে গেলে তাকে মেরামত করতে হয় , পুনরায় তাকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হয় । পৃথিবীর বেলাতেও বিষয়টা এমনই। ভূমির স্থিতাবস্থা বদলে গেছে, তাকে সবাই মিলে শুধরে নিতে হবে। প্রকৃতির তন্ত্রের বিরুদ্ধাচরণ করার মধ্যে কোন বাহাদুরি নেই বরং তাকে বিশৃঙ্খল করাটা চরম মূর্খামি। গাছপালা কেটে ফেলা হলে কেবল চোখের সামনে থেকে ডালপালা ছড়িয়ে থাকা গাছটাই হারিয়ে যায়,হরিয়ালি নষ্ট হয়ে যায় তা নয়, একই সঙ্গে হারিয়ে যায় গাছকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকা অসংখ্য প্রাণ। গাছ হলো মাটি মায়ের সখী । বন্ধু বিণা প্রাণ বাঁচে কখনও?
পাঁচ জুনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আগামী পৃথিবীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। আমরা তো সবাই স্বপ্নবিলাসী। আসুন না, হাতে হাত রেখে আমরা সবাই মিলে সেই স্বপ্নকে সাকার করে তুলি। পাঁচ জুনের আহ্বান যে তেমনই!
















