না!
আমি কাউকে বেইমান বলাটা সমর্থন করি না।
সন্তানহারা মাকে বলাটা তো নয়ই!
এটা অপ্রার্থিত, এবং আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়!
তবে, রাজনীতির আখড়ায় প্রাচীনযুগ থেকেই এসব শব্দপ্রক্ষেপণ অনাকাঙ্খিত হলেও অস্বাভাবিক নয়।
রত্না দেবনাথ নির্দল নন। তিনি যুযুধান একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হবেন, একটা আন্দোলনের প্রতীকের মা হিসেবে নিজেকে দাবি করবেন আর তার কোনও প্রতিক্রিয়া হবে না সেটা তো হতে পারে না!
উনি অভয়ার মা পরিচয়ে ভোটে লড়ছেন প্রাথমিক ভাবে জেতার জন্যই। বিচার পাওয়ার ব্যাপারটা এখানে গৌণ। অভয়া আন্দোলন যাঁদের হাত ধরে ঐতিহাসিক হয়ে উঠেছিল সেই বিপুল জনগোষ্ঠীর আঘাত পাওয়ার অধিকার অবশ্যই আছে। মনে রাখতে হবে মেয়ের নাম উনি অভয়া দেন নি। দিয়েছে সমাজ। মিসেস দেবনাথ সেই দুঃখজনক স্মৃতিকেই রাজনৈতিক তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছেন তাই তার পক্ষে এবং বিপক্ষে সামাজিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়
প্রতিটি ক্রিয়ার একটি বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকেই। পদার্থবিদ্যায় সেটা সমান হতে পারে, রাজনীতির নিরিখে সেই বিপরীত প্রতিক্রিয়া অসমান হওয়াই স্বাভাবিক।
কিন্তু,তবুও বলব, কোনও সন্তানহারা মাকে বেইমান বলাটা আমি আদৌ সমর্থন করি না। ওটা অনাকাঙ্খিত।
একইভাবে, আমাদের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে অনেকেই বিভিন্ন কারণে অপছন্দ করতে পারেন, গণতন্ত্রে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁকে লক্ষ্য করে যে অশালীন, ধর্ষকাম মিম ছড়ানো হয়েছে, তাঁকে একজন নারী বলে চিহ্নিত করে যে জঘন্য কার্টুন আঁকা হয়েছে সেটা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, দণ্ডনীয় এবং কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বালিগঞ্জের সিপিআই (এম) প্রার্থী আফরিন বেগম শিল্পীকে উদ্দেশ করে এক পথসভায় হুমকি সহ যে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হলো, “সুন্দরী মেয়ে, অল্প বয়স, রাজনীতি না করে বিয়ে করে নাও”। এই বক্তব্য শুধু একজন নারীকে নয়, সারা সমাজকে অপমান করে। সমস্ত রকম নারী-বিদ্বেষী ও ঘৃণামূলক বক্তব্যও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
মনে রাখতে হবে নির্বাচন সাময়িক, কিন্তু মানবিকতা, শালীনতা, সভ্যতা চিরন্তন। সমাজের সার্বিক অবনমনের প্রতিফলন রাজনীতিতেও আসবে। রুচিহীন, কুৎসিত, ব্যক্তি আক্রমণ আদৌ সমর্থনযোগ্য নয়। বরং দলমত নির্বিশেষে এই ধরনের প্রচারকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।










