“Diversity of opinion about a work of art shows that the work is new, complex, and vital.”
Oscar Wilde
এই বিমূর্ত আর্তনাদে তে যাঁদের আপত্তি, যাঁরা বলছেন অভয়ার এই মুখভঙ্গি ঠিক নয়, তাঁদের কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন, আপনারা বুঝি জানেন সেই মুহূর্তে ঠিক কেমন ছিল মেয়েটির অভিব্যক্তি? তাহলে জানিয়ে দিন না তদন্তকারী সংস্থাকে!
ওই মেয়েটির সঙ্গে কোনো সাদৃশ্যই নেই এই মূর্তির, যাঁরা বলছেন, তাঁরা ঘোর মতলবি! কারণ সাদৃশ্যের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ানোটাই তাঁদের উদ্দেশ্য!
এমন বীভৎস মুখ না করে সুন্দর মুখ দেওয়া যেত যাঁরা বলছেন, তাঁদের বলি, মাতঙ্গিনী হাজরার সুন্দর সিঁথি কাটা চুল, ডাগর চোখ, হাসিমুখের কোনো ছবি দেখেছেন কখনো? ওই হাহাকার ভরা, বলিরেখা লাঞ্ছিত, যন্ত্রণাদীর্ণ মুখ আর শক্ত হাতে জাতীয় পতাকা ধরে রাখা অবয়বটাই মাতঙ্গিনী ।
যাঁদের আপত্তি, মূর্তির সৌন্দর্যহীনতায়, তাঁদের বলি শিল্প মানেই তো আর শ্রীভূমি বা একডালিয়ার ঠাকুর নয়!
শিল্প কথাটা যে একটু বিস্তৃত! এডুয়ার্ড মানচের দ্য স্ক্রিম ছবি, পিকাসোর বিকৃত মুখের ঘোড়া, রঁদ্যার দ্য ক্রাই বা রামকিঙ্করের ন্যুব্জদেহ রবীন্দ্রনাথ এগুলো আপাতদৃষ্টিতে দৃষ্টিসুখকর নয়, সেগুলোও কিন্তু শিল্প!
অথবা অশনিসংকেত বা আকালের সন্ধানে!
অবরুদ্ধ প্যারিসে পিকাসোর অ্যাপার্টমেন্টে এক ফাসিস্ত গেস্টাপো অফিসার ঢুকে গোয়ের্নিকা ছবিটির দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করে বলে, ডিড ইউ ডু দ্যাট?
পিকাসো উত্তর দেন, নো, ইউ ডিড!
শিল্পী অসিত সাঁই শুধু রূপ দিয়েছেন এই বিমূর্ত হাহাকারের কিন্তু এর আসল স্রষ্টা তো তার হত্যাকারী সমাজ!
খুনী তো একজন নয়! খুনী তো আমাদের সামগ্রিক বিবেকহীন, হৃদয়হীন, শিরদাঁড়াহীন, চক্ষুলজ্জাহীন নীরবতার যোগফল !
আমাদের সকলের হাতেই রক্ত লেগে আছে!
তাই আমাদের কেউ কেউ এই মূর্তি সরাতে চাইছে !
তাদের অস্বস্তি হচ্ছে!
এ মুখ শুধু অভয়া বা তিলোত্তমার তো নয়! এ মুখ ভয়ের কুসংস্কৃতিতে নষ্ট-ভ্রষ্ট-ধর্ষিত এই সময়ের প্রতীক!
এ মুখ আমাদের নিশ্চিন্ত নিরাপদ নিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটানো
দুঃস্বপ্ন হয়ে জেগে থাকবে !
যাঁরা অভয়ার নাম বাদ দিতে চান, তাঁরা ভাবের ঘরে চুরি করছেন। হলোকাস্ট মিউজিয়াম থেকে হলোকাস্ট শব্দটা সরিয়ে দেওয়াটা ঐতিহাসিক ভুল শুধু নয়, অপরাধও!
এ মুখ শুধু অভয়ার নয়, নির্ভয়ার নয়, তিলোত্তমার নয়!
এ মুখ যমুনাবতীরও!
এ দ্রোহপক্ষে এ মুখ এবারের দুর্গার!










