সাতসকালেই ডাঃ সৌরভ শেঠির একটা ইনস্টাগ্রাম পোস্ট নজরে এলো। এমন ধরনের লেখালেখি আজকাল নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে উৎসাহী পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেবার চল হয়েছে। যথার্থ পাঠকের কাছে সন্দেশের উপঢৌকন পৌঁছে দেওয়া আর কি! ডাঃ সৌরভ শেঠি একজন চিকিৎসক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ডের গ্যাস্ট্রোইন্টেরোলজি বিভাগের একজন চিকিৎসক। তাঁর সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে তিনি পাঠক তথা আম জনতার উদ্দেশ্যে সতর্কতা জারি করে তিনটি জিনিসকে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন , কেননা গবেষণা সূত্রে তিনি দেখেছেন যে আমাদের রান্নাঘরে অথবা ড্রইং রুমে ব্যবহৃত তিনটি জিনিস আমাদের শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। অতএব তিনি সময় থাকতে সাধুদের সাবধান হতে বলেছেন তাঁর নিবন্ধে।
একালের অনেক অনেক রদবদলের মধ্যে সবথেকে বড়ো পরিবর্তন এসেছে শহরের আবাসিকদের হেঁসেলে। জ্বালানি বা ইন্ধন হিসেবে কালো অঙ্গারের পরিবর্তে সিলিন্ডার ভর্তি এল পি জির ব্যবহার অবশ্য এই বদলে ফেলার পেছনে একটা বড়ো কারণ সন্দেহ নেই, তবে শুধু বহিরঙ্গের রূপ বদলেই যে তা সীমাবদ্ধ আছে এমন নয় – ভোল বদল হয়েছে রান্নার জন্য ব্যবহার্য উপকরণের জৌলুসে। সেকেলে কাঁসা পিতল লোহা এলুমিনিয়ামের বাসনপত্রকে টা টা বাই বাই করে এখন স্টিল, টেফলন কোটেড বাসনপত্র তার জায়গা দখল করেছে। মা দিদিমার আমলের বটি,কুড়ুনি কে কোণঠাসা করে, এসেছে নানান ধরনের ছুরি, কাটিং বোর্ড। সেকালের অন্ধকারে ঢাকা রান্নাঘর এখন আলোয় আলোকিত।

তাহলে ডাঃ সৌরভ শেঠির দ্বন্দ্ব কোথায়? কী নিয়ে? আসুন খোঁজ নিয়ে দেখা যাক। সৌরভের আপত্তি মূলত তিনটি জিনিসকে নিয়ে। প্রথমেই আসি প্লাস্টিকে তৈরি কাটিং বোর্ডের কথায়। সবজি কাটাকাটির জন্য সাবেকি বটি,কুড়ুনির ব্যবহার হালফিলের রান্নাঘরে আর তেমন নেই। একালের গৃহিণীরা সবজি কাটতে ব্যবহার করেন ছুরি। শক্ত প্লাস্টিকের তৈরি কাটিং বোর্ডের ওপর সবজিটিকে রেখে ছুরি দিয়ে প্রয়োজন মত কাটাকটিতেই বেশ অভ্যস্ত তাঁরা। ডাঃ সৌরভ আপত্তি করেছেন এই জাতীয় কাটিং বা চপিং বোর্ড ব্যবহার করার বিষয়ে। তাঁর মতে সবজি কাটাকাটির সময় ছুরির আঘাতে ক্ষয়ে যাচ্ছে ঐ প্লাস্টিক বোর্ড এবং এর ফলে মাইক্রো প্লাস্টিকের অসংখ্য কণা মিশে যায় সবজির সঙ্গে যা শেষ পর্যন্ত আমাদের খাদ্যের বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। এই মুহূর্তে মাইক্রো প্লাস্টিক নিয়ে সকলেই উদ্বিগ্ন সুতরাং সাজানো গোছানো রান্নাঘর থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বিকল্প হিসেবে তিনি কাঠের বোর্ড অথবা কাঁচের তৈরি কাটিং বোর্ড ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তাতেও ঝুঁকি কম নেই । প্রথমতঃ কাঠের তৈরি বোর্ড বারবার ধোওয়া আর পরিস্কার করার ঝামেলা তো আছেই, তার সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে জল লেগে কাঠ পচে যাবার আশঙ্কা। জল লেগে কাঠ ফেটে নষ্ট হয়ে গেলে সেখানে ব্যাকটেরিয়ারা বাসা বেঁধে স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আর কাঁচের তৈরি বোর্ড স্বাস্থ্যকর হলেও তা ভঙ্গুর এবং ছুরি তাড়াতাড়ি ভোঁতা হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, রান্নাঘরে নন স্টিক বাসনপত্র ব্যবহার করার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। সারা দুনিয়া জুড়েই এখন এমন বাসনপত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এমন বাসনপত্র থেকে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ খাবারের মধ্য দিয়ে শরীরে ঢুকছে এবং জটিল রোগের সম্ভাবনা তৈরি করছে। একালের আধুনিক রান্নাঘরের শোভা পাচ্ছে নানান ধরনের নন স্টিক বাসনপত্র। দেখনদার,চেকনাই হলেও এগুলো মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ডাঃ সৌরভের মতে আধুনিক রান্নাঘর থেকে এমন বাসনকে বাতিল করা হোক।

ফেব্রুয়ারি ৯,২০২৫
মধ্যমগ্রাম।













লেখাটি এই প্রজন্মের সকল সদস্যদের জন্য বিশেষ উপযোগী বার্তা। ব্যক্তিগত ভাবে এখনো সব পুরানো আনুষঙ্গিক অবলম্বন করে আছি বলেই কিছুটা স্বস্তি পেলাম।
বরিষ্ট সুনাগরিক হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেবার দায়িত্ব আপনাদের। শরীরের কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তা যেমন সমস্ত শরীরকে পীড়িত করে, এক প্রজন্মের নাগরিকদের উদাসীনতার অর্থই হোলো অন্যরা তার শিকার হওয়া।
ঘরে বাইরে সবখানেই ছড়িয়ে আছে বিপদের আশঙ্কা। জীবন চর্যায় পরিমিতিবোধ থাকা উচিত । সেইখানে ফাঁক থেকে যাচ্ছে বলেই ফাঁক বেয়ে বেড়ে চলেছে হাজারো বিপদ আর শঙ্কা। সাবেকিয়ানাকে বাতিল করে নতুনকে অনিবার্য করে তোলার আগে একটু ভাবনার প্রয়োজন। খুবই দরকারি বিষয়।
ফাঁকগুলো যথাসম্ভব ভরাট করুন। আশঙ্কা দূর হবে।
এই সব খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
খবর তৈরি হচ্ছে, আর আমি সামান্য হরকরা হয়ে পাঠকদের মনদুয়ারে ঘা মেরে ফিরছি। এই তো!
না না ওসব ননস্টীক্ ফনস্টীক্ ছেড়ে দ্যান।
এখন হয়েছে cast iron। 🖤❤️ কিছুকাল যাবৎ এতেই ধূন্দ খেয়ে থাকা এই অধম হাউজ মেন্টেনটির।😎🙃
কই তার কথা তো বলে ।ভবিষ্যত স্বাস্থ্য সম্বন্ধে জ্ঞান গরিমার কিছু ফুলঝুরি ছড়াতে পারলেন না এই নিবন্ধ টিতে।😊
ননস্টিক প্যানে অনীহা অমূলক যে নয় সেই কথাই বলতে চেয়েছি। নিজেরা হেঁসেল সামলাচ্ছেন, সুতরাং আপনাদের অভিজ্ঞতা অনন্য। আর ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য নিয়ে আমি বলার কে? ও তো নিজের নিজের হাতে।
মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রথম ও শেষ দুটি কে বর্জন করা গেলেও মাঝের টি, মানে নন স্টিক বাসন ব্যবহার পরিত্যাগ করা আজকালকার গৃহবধূ দের পক্ষে খুব কঠিন। ওই ধরণের বাসন এর সুবিধা পেতে তারা এতটাই অভ্যস্ত যে সাবেক লোহার বাসন ব্যবহার করার কথা ভাবতেই তাদের গায়ে জ্বর আসে। অতঃ কিম?
সবই যদি পুরনো থাকবে তাহলে আধুনিক হলাম কী করে? চিকিৎসকদের মতে অনেক সময়ই রোগের কারণ বুঝতে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। অথচ তার কারণ হয়তো লুকিয়ে আছে আমাদের পরিচিত হেঁসেলে।
ভালো লাগলো। ননস্টিক জিনিসপত্রে ভরে গেছে রান্নাঘর। সুবিধা হল রান্নায় কম তেল লাগে। কোন দিকে যে যাবে গৃহিনীরা!
খুব সত্যি কথা।এক খরচ বাঁচাতে অন্য কিছু খরচ না হয়ে যায় সেটাই দেখার। টেফলন কোটেড বাসনপত্র নিয়ে আগে একটা বড়ো লেখা লিখেছিলাম। সমস্যাগুলো এতোটাই জড়িয়ে আছে যে আলাদা করে দেখা মুশকিল।