রাজারহাট নিউটাউন এলাকার গৌরাঙ্গনগরের, নতুনপল্লী এলাকায় সদ্য অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ একজন ছাত্রী অপহৃত, ধর্ষিত ও খুন হন সেই পরিপ্রেক্ষিতে অভয়া মঞ্চের পক্ষ থেকে সুনেত্রা সেনগুপ্ত, সুতনুকা ব্যানার্জী, প্রগতি সেনগুপ্ত, অরিন্দম দাস, শমিতা ব্যানার্জী, পীযুষ রায় ও আরো কিছু সদস্য ঐ বাড়িতে যান গতকাল ১০/০২/২০২৫ সোমবার বিকেল ৪টেয়। এই যোগাযোগে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন যুব সমাজকর্মী শ্রী অমিত মিস্ত্রী এবং ঐ মেয়েটির স্কুল যাত্রাগাছি প্রণবানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রী তরুণ মুখার্জী এবং শিক্ষাকর্মী ও প্রতিবেশী শ্রী বিশ্বজিৎ মন্ডল। ওখানে গিয়ে প্রতিবেশীদের থেকে যে তথ্য জানা পেয়েছি—
১. ১০ তারিখ আমাদের পৌঁছানোর পরে জানতে পারি। অভয়ার পরিবার তার পারলৌকিক কাজ সম্পন্ন করতে দুপুর ১২-৩০টা নাগাদ তাঁদের আদি বাসস্থান স্বরূপ নগরের তেঁতুলিয়া গ্রামে চলে গেছেন।
২. অভয়ার বয়স ১৩ যাত্রাগাছি প্রণবানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, তাঁর মা আর বোনের সাথে গৌরাঙ্গনগরের বাড়িতে বসবাস করতো। গত দেড় বছর তারা এইখানে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করতে শুরু করছেন। বাবা মেরিন সার্ভিসের কারণে কর্মস্থলে থাকতেন। এই ঘটনার সময় তিনি মুম্বাইয়ে অবস্থান করছিলেন। মেয়ের নৃশংস মৃত্যুর খবর পেয়ে সেদিনই ফেরত আসেন।
৩. অভয়া মায়ের উপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এর আগেও মা বকাবকি করলে সে প্রতিবেশীদের বাড়িতে লুকিয়ে থাকতো যাতে মা খুঁজে না পায়। এবারেও তাই মার ধারণা করেছেন কোথাও লুকিয়ে আছে কিন্তু দীর্ঘক্ষন কোনো খোঁজ পায়না।
৪. প্রথমে পরিবার থেকে বাগুইআটি থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে তাঁদের বাড়ি নিউটাউন থানায় পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। অথচ জগৎপুরের ক্রসিং -এ সিসি ক্যামেরায় ধরা পরেছে অভয়ার শেষ ছবি। বাগুইআটি থানা যেহেতু নিউটাউন থানার সংলগ্ন বলে তাঁরা যদি উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের এলাকায় সতর্কতা হিসেবে খোঁজ করতো তাহলে হয়তো আমাদের আজ তাঁকে অভয়া বলে উল্লেখ করতে হতো না।
৫. জানা যায় যে শনিবার সকালে কাগজ কুরানোর একজন মহিলা জঙ্গলে একজনকে পরে থাকতে দেখে পুলিশ খবর পেয়ে বিবস্ত্র অবস্থায় ১৩ বছর বয়সের অভয়াকে পায়।
৬. পরবর্তীতে অভয়া মঞ্চের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবি মহিলা সহ টিম ওখানে পৌঁছয় তখন ওনারা স্বরূপনগর, তেঁতুলিয়া গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন। বাকী পারলৌকিক ক্রিয়াদি সম্পন্ন করতে। স্বভাবতঃই বাড়িতে অন্য যিনি ছিলেন তাঁর সাথে ও অন্যান্য প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায় । এই পরিবারের লোকজন শান্ত ও নির্ঝঞ্ঝাট।
৭. অভয়ার মা-বাবা সহ প্রতিবেশীরা চেয়েছিলেন মেয়ের দেহ রেখে তদন্ত করাতে। এলাকার মানুষ সহ কিছু ছাত্র যুব গাড়ি আটকে ছিলো। কিন্তু সরকার আশ্রিত দলীয় দূষ্কৃতিদের বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ঐ দেহ সহ মা ও বাবাকে স্বরূপনগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের গাড়ি এসকর্ট করে।
৮. এলাকার মানুষের দাবী রাস্তায় ও গলিতে – পর্যাপ্ত আলোর ব্যাবস্থা নেই, সিসি টিভির ব্যাবস্থা নেই। যাত্রাগাছি, গৌরাঙ্গনগর, জ্যোতিনগর, শুলুংগুড়ি কলোনি, শুলুংগুড়ি সহ নিউটাউন সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সন্ধ্যার পরে যে অসামাজিক পরিবেশ তৈরি হয় তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো পুলিশী টহলের ব্যাবস্থা নেই।
৯. এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধারাবাহিক ভাবে একেক পর একেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। তারপরও প্রশাসনের মদতে, পুলিশের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
১০. এলাকার প্রতিবেশীরা ও বিশেষ করে মহিলারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন আর ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন তাঁরা চেষ্টা করার পরেও ১৩ বছরের অভয়া মৃত্যুর পিছনে শুধুমাত্র ঐ ইরিক্সাচালকই আছেন বলে তারা মনে করছেন না। তাঁরাও বিচার চান। এই নৃশংস হত্যার পিছনের মুখ গুলোরও শাস্তি চায়।
১১. প্রতিবেশীরা স্পষ্ট করে বলেছেন ফাঁসি নয় এদের যেন অভয়ার যে যন্ত্রণা নিয়ে মারা গেছে তার থেকে ও নৃশংস কঠিন শাস্তি যেন তাদের হয়।
আমাদের উপলব্ধি
এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ধারাবাহিক যোগাযোগ রেখেই সমাজ সংস্কারের আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার।











