“হিন্দু ভোট ব্যাংক” বলে সাধারণভাবে ভারতের মাটিতে কিছু ছিল না। ইংরেজ আমলের প্রথম দিকে জন গণনার সময় প্রথম বার “হিন্দু” শব্দের একটা আইনি সংজ্ঞা বানানো হয়। তাতে সব ধরনের হিন্দুকে এক ব্র্যাকেটে আনার চেষ্টা হলেও সমাজে সেটা দাঁড়ায় নি। হিন্দু সমাজ উচু জাত নিচু জাতে বরাবর বিভক্ত ছিল। তথাকথিত উঁচু জাতের মধ্যেও ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় রাজপুত এসব ভাগ ছিল। রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদীদের তাত্ত্বিক নেতারা ঠিক করেন যে ভোট এ জিততে গেলে এই হিন্দু ভোট ব্যাংক কনসলিডেট করতে হবে।
কি ভাবে m? তারা অনেক ভেবে চিন্তে নানান স্ট্র্যাটেজি বের করেন। যার মধ্যে একটা হল, “হিন্দু খত্রে মে হ্যায়” এই স্লোগানটি। এখন একটা স্লোগান বের করলেই তো হল না, সেটা তো জনগণকে খাওয়াতে হবে। দেশ ভাগের পরে তৈরি হওয়া একটা দেশের সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী হিসেবে হিন্দুরা খামোখা মনে করতে যাবেন কেন যে তারা হিন্দু বলেই বিপদে আছেন। এই বিপদের কিছু বাস্তব, ধরা ছোঁয়া যায় এমন নমুনা তো হাজির করতে হবে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এই ভয় ধরানোর অন্যতম হাতিয়ার।
অন্য ধর্মের মানুষের হাতে হিন্দুরা নির্যাতিত, নিহত, আহত হওয়ার ঘটনা যত বাড়বে, ঐ “হিন্দুরা বিপদে আছে” শ্লোগানটি তত কার্যকর হয়ে উঠবে। দ্বিতীয় অস্ত্র হল সন্ত্রাসবাদী হামলা। আন্তর্জাতিক মদতপুষ্ট কোনো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী যদি বেছে বেছে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চালায় তাহলে তো সোনায় সোহাগা এই স্লোগানের উদ্গাতা রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদীদের। তাদের সাহায্য করার জন্য হামেহাল হাজির ইসলামিক মৌলবাদী সংগঠনগুলি।
তাদের গুলিতে উপত্যকায় ঝাঁজরা হয়ে গেছে বহু নিরপরাধ মানুষের বুক। আজ তাদের সন্ত্রাসবাদী হামলার আতঙ্কে কাশ্মীর উপত্যকাতে পর্যটন যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ক্ষতি কার? ক্ষতি ওই শিল্পের সাথে জড়িত সবার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি দরিদ্র শিকারা চালকের, হোটেলের বাসন মাজে যে মেয়েটি, তার। শতকরা নিরানব্বই ভাগ ক্ষেত্রে এই দুই দরিদ্র শ্রমজীবী কিন্তু কাশ্মীরি মুসলিম। হোটেল মালিক হয়তো ক্ষতি সামলে নিলেও নিতে পারবে। আর লাভ কার? এ প্রশ্নের উত্তর আমাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হবে।
হামলায় বলি পর্যটকরা কোনো কোটিপতি ছিলেন না। বড় জোর মধ্যবিত্ত মানুষ, ধর্মে হিন্দু। বেড়ানোর সখ ছিল এটাই তাদের একমাত্র অপরাধ। রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দিতে পারল না। তারা বলি হলেন কারুর বা কারুর রাজনৈতিক লাভের অংকের হিসেব মেলাতে। মানুষ আর মানুষ নেই, রাজনীতির দাবার ছকে নিছক ঘুঁটি মাত্র। সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ! একটা ধর্মের মৌলবাদ আরেকটা ধর্মের মৌলবাদকে ক্রমাগত অক্সিজেন যুগিয়ে যাচ্ছে, আমরা চুপ করে দেখছি। কী বিচিত্র এই দেশ।”












ঠিক। খুব ভাল লেখা।আমারও এটা বারবার ভুল হচ্ছে ভিক্টিম আসলে ধর্মীয় মৌলবাদীর দ্বারা ভিক্টিমাইজ।এখানে কোনো ধর্ম নয়।আসল মৌলবাদ।
কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ভেকধারী।তুমি ঠিক বলেছো বা সচেতন করালে যে ধর্ম ধার্মিক আর মৌলবাদ মৌলবাদী তথা সন্ত্রাসবাদী এক নয়।কখনই নয়।
নইলে কতবড় ধর্ম নিরপেক্ষ ছিলেন বা হন যাঁরা শুধুমাত্র ভিন্ন পাশাপাশির আরেক মধুর ভাষাকে ভালোবেসে নাম রাখেন তাদের সন্তানের ।মনন কোনো বিশেষ উর্দূ শব্দের তর্জমায় মোহিত হয়ে বা মুগ্ধ তায়।
সেভাবেই বাংলারও কোনো শব্দ প্রতিশব্দ যখন কারুর প্রাণ ছূঁয়ে ধর্ম অতিক্রম করে।
তখন তো আশ্চর্য জনক ভাবে সেই বিশেষ ধর্ম প্রাণ গোষ্ঠীর ভালো লাগবারই কথা। বরং আরও বড়ো বেশী সেই মানুষ টির প্রতি আপন ভাব-ই গড়ে ওঠার কথা যে দেখো একজন বিধর্মী অর্থাৎ আমার ধর্মের মানুষ না হয়েও আমাদের বিশেষ ভাষার বিশেষ শব্দ জাত নামটি গ্রহণ করেছে।
সেটা না হয়ে যখন উল্টো হয়।তখনই তো সমস্ত ধর্ম চুরমার হয়ে মৌলবাদ খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে।
লেখাটা খুব ভাল নিলাম আর তাই এতোগুলো মনের কথা বেরিয়ে আসলো।