অনেকে জামিন নেওয়া বিষয়টি আমাদের রাষ্ট্রীয় বিচার ব্যবস্থার একটি সাধারণ বিষয় বলে মনে করেন, বিশেষ করে যাঁরা নিত্যদিনের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত। একজন শল্য চিকিৎসকের কাছে, অপারেশন রুমের সব কর্মিদের কাছে বেশ বড়সড় অপারেশনও নিত্যদিনের ঘটনা। অপরদিকে পরিবার, পরিজনরা যথেষ্ঠ উদ্বেগ আশঙ্কায় থাকে যতদিন না মানুষটি সুস্থ, স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। সময়ে সময়ে কোন ‘অতিপণ্ডিত’ জন অপারেশন করার যৌক্তিকতার সাথে আর্থিক নীতি দুর্নীতি নিয়ে শোরগোল তুলে নিজেকে প্রচারের আলোয় আনার চেষ্টাচরিত্তির করে থাকে। কিন্তু প্রায় কোন সময়েই বিষয়টা মানবতার অপমান অসম্মান ভাবতেই পারে না, ভাবা যায়ও না।
কিন্ত যখন একজন বা কয়েকজন মানুষকে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে হয় তখন অনেক প্রশ্ন উঠে আসে। দোষ নির্দোষের প্রমাণ করার কথা, যৌক্তিকতা অযৌক্তিকতা নিয়ে যুক্তি প্রতিশযুক্তির উপস্থাপন করে একটা তর্ক বিতর্ক করে আদালত থেকে জামিনের জন্য আর্জি পেশ ও তার বিরোধিতার কথাবার্তা শুনে আদালত সিদ্ধান্ত নেয় এটাই দস্তুর।সমগ্ৰ প্রক্রিয়ার মধ্যে সময় শ্রম আর্থিক সামাজিক সম্বন্ধীয় বিষয়ে আলোচনার পরিসর থাকলেও ভুক্তভোগীদের মানসিক শারীরিক পারিবারিক ইত্যাদি একান্তই ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা হয় না। মানসিক স্বাস্থ্য, মানবাধিকার নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের মূল্যবান মতামত আমাদের ঋদ্ধ করতে পারে।
মতামত নিয়ে কোন দিক নির্দেশনা থাকলে পরিসর গণ্ডীবদ্ধ হয়। সেটা পরিহার করাই ভাল। একটু ধরতাই দিয়ে দেবার জন্য বলা যায় – ধরুন অভিযোগ এসেছে কোন ব্যক্তিবিশেষের কাছ থেকে অন্য এক ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে। যেমন একজন অপর আর এক ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে মারধর, গালিগালাজ করার জন্য থানায় অভিযোগ জানাতে গেল, পুলিশ অভিযোগ শুনে তাদের বিবেচনা অনুযায়ী অভিযোগ লিখে নিল। অকুস্থলে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী খোঁজ খবর নিয়ে গুরুত্ব বুঝে অপর পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্যে থানায় হাজির হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডেকে পাঠিয়ে তার বয়ান লিপিবদ্ধ করল। এবার পুলিশ ধারা ঠিক করে আদালতে পেশ করল। ধারা ঠিক করার প্রাথমিক দায় পুলিশের- -জামিনযোগ্য কি জামিনযোগ্য নয় কোন ধারা প্রয়োগ করে পুলিশ সমন পাঠাবে সেই ব্যাপার তাদেরই বিবেচনা অনুযায়ী। এরপর জামিন পাওয়ার জন্য আদালতে হাজির হতে হবে, দু পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। এবার ভাবা যাক অভিযোগ করছে পুলিশ বা সরকারি পক্ষ। এক নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বা কয়েক জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাহলে? রাষ্ট্র বনাম এক বা কয়েক জন ব্যক্তি। তাকে বা তাদেরকে যে সব ‘স্বীকৃত’ পদ্ধতি র মধ্য দিয়ে যেতে হবে সেখানেই কিছু কিছু কথা যা সাধারণ নাগরিকের মনে আসা স্বাভাবিক। আশা আকাঙ্খা আশঙ্কায় দোলায়িত হবার এই মোক্ষম সময়ে তার বা তাদের মানসিক অবস্থা ও তার প্রভাবে শারীরিক পারিবারিক সামাজিক অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে এমন না হওয়াটাই স্বাভাবিক। আবার পুলিশ, বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কাছে সবটাই নিত্যদিনের বিষয় হওয়ার সুবাদে আলাদা ভাবে তাদের মনে কোন তরঙ্গ তোলে না।
এই অধম এরপর কিছু ভাবতে পারছে না।এই চক্র ব্যুহ থেকে বের হওয়ার বিদ্যে তার অজানা।











🙏🙏 অতুলনীয় লেখা