রবীন্দ্রনাথ পুড়ে গেছেন। বেশ হয়েছে। রবীন্দ্রনাথকে বহুদিন আগেই মেরে ফেলা হয়েছে। সুতরাং ছবি পোড়ানো নিয়ে “গেল গেল” রব তোলার কোনো অর্থ হয় না।
বাঙালি অস্মিতার প্রশ্নে গর্জে ওঠা বাঙালি রবীন্দ্রনাথকে ছবিতে চিনতে পারেনি, তার কারণ তারা রবীন্দ্রনাথকে আদৌ চেনে না। এতে অবশ্য প্রমাণিত হয় যে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা বাঙলাদেশী নয়। ওপার বাঙলায় যে মৌলবাদীরা দিনরাত রবীন্দ্রনাথকে গালি দেয়, তারা অন্তত রবীন্দ্রনাথকে চিনতে ভুল করবে না, কারণ গালি দেবার প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথ তাদের চর্চার মধ্যে আছেন।
পশ্চিমবঙ্গবাসীর জীবনচর্যায় রবীন্দ্রনাথ নেই বললেই চলে। বছরে একদিন পঁচিশে বৈশাখ বিকৃত উচ্চারণে দুটো রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়াকে রবীন্দ্রচর্চা বলে না। চুরি করা নোবেল যেটুকু কাজে লাগে (কাউকে দেখানোও যায় না), স্কুলে বাধ্য হয়ে মুখস্থ করা দুটো রবীন্দ্রকবিতাও সেরকমই কাজে লাগে (মাধ্যমিকের পর মনেও থাকে না সাধারণত)।
স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে আমাদের জীবনে রবীন্দ্রনাথের কোনো স্থান নেই। রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করতে গেলে যে আধার প্রয়োজন, সেটাই আমাদের নেই। আমি অন্যের কথা বলছি না, নিজেদের কথাই বলছি। একসময় রবীন্দ্রনাথের লেখা সামান্য কিছু পড়েছিলাম কিন্তু এখন যে জীবনযাপন করি, তার মধ্যে রবীন্দ্রনাথের অস্তিত্ব কোথায়? আমার মেয়ের মনোজগতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ‘রিলস বনাম রবীন্দ্রনাথ’ প্রতিযোগিতা হলে রবি ঠাকুর গোল্লা পাবেন। হেরে গেছি রিলসের কাছে, মেনে নিতেই হবে। সুতরাং পুড়িয়ে দিয়েছে, চুকে গেছে। ঈশ্বরের মৃত্যুটা আনুষ্ঠানিক হল। বেশ হয়েছে।
দাড়ি দেখে ভুল করার প্রসঙ্গে মনে পড়ল, স্কুল পর্যায়ের লজিকে একধরনের প্রশ্ন আসে। “রবীন্দ্রনাথের দাড়ি আছে, রামছাগলেরও দাড়ি আছে। অতএব রামছাগলমাত্রেই রবীন্দ্রনাথ।” এরকম প্রস্তাবনার যৌক্তিকতা যাচাই করতে বলে। লজিকের ভাষায় এটাকে “fallacy of undistributed middle” বলা হয়।
সেরকম আরও আছে…
“মানুষের হাত থাকে, বাঁদরেরও হাত থাকে। অতএব…”
“রবীন্দ্রনাথ কবিতা লিখেছেন। তিনিও কবিতা লিখেছেন। অতএব…”










