দেশের পঠনপাঠনের যে বেহাল দশা তাতে শিক্ষা মন্ত্রীদের একটা বড়ো ভূমিকা রয়েছে। এই কথাটা আবারো প্রমাণ করলেন মধ্যপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী। ভরা সভায় মাইকের সামনে কু ভাষণের ফোয়ারা ছুটিয়ে তিনি বাহবা কুড়নোর খেলায় মেতে উঠেছিলেন গতকালের এক সভায়। এইসব মানুষ একটি রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রীর আসন অলংকৃত করে রয়েছেন, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের নতুন ভবিষ্যতের দিশা দেখানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত – এ কথা ভাবলেই রীতিমতো শিউরে উঠতে হয়। নিজের প্রতিই এক আশ্চর্য ধিক্কার জাগে।
কোন্ সভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তিনি? কী ছিল তার উপলক্ষ?
ভদ্রলোক গিয়েছিলেন বিদ্রোহী আদিবাসী নায়ক বীরসা মুণ্ডার সার্ধ শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে। সেই সভায় বীরসা মুণ্ডার বীরোচিত আত্মত্যাগের প্রতি সন্মাননা জ্ঞাপন করাটাই হতো সবথেকে উপযুক্ত কাজ। সে সব কথা ইতিহাসের পটভূমিতে আলোচনা করতে গেলে পড়াশোনা করতে হয়, দম লাগে তাতে। সে পথের ধার না ধরে তিনি ভরা সভাকে বেছে নিলেন তাঁর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপভাষণের জন্য।নম নম করে বীরসা প্রসঙ্গে একটি দুটি কথা বলেই তিনি শুরু করলেন তাঁর অনধিগত,অনৃত কল্প ভাষণ। নিজের অপরিসীম অজ্ঞতা ঢাকতে কতগুলো অশালীন শব্দবন্ধকে হাতিয়ার করে তিনি টেনে নিয়ে এলেন ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায়ের মতো স্মরণীয় মানুষকে। বিভ্রান্ত করতে চাইলেন উপস্থিত শ্রোতাদের। দুঃখ হয় এই মানুষরাই এখন প্রশাসনের উচপদে আসীন। সর্বত্রই এখন এমন সব মানুষের দাপাদাপি। এদের হাতে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা জাগে। এরপরও তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন, আর মতলব ভাজবেন দেশকে, দেশের মহামানবদের অপমান করার জন্য। এটা গোটা জাতির অপমান। ওঁকে দোষ দিয়ে কি হবে? সকলেই এখন এই খেলায় আমরা মেতে রয়েছি। এর ফলে অনাবৃত হয়ে পড়ছে আমাদের স্মৃতি সত্ত্বা ভবিষ্যৎ।
মন্ত্রীবর! আপনার প্রতি আমাদের করুণা প্রদর্শন করতেও মন সায় দিচ্ছে না। ধিক্ আপনাকে! আপনার অজ্ঞানতা আর মতলববাজ মানসিকতাকে শত ধিক্।












ধিক্কার!
হও সোচ্চার।