২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
এটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের সমাজে যেমন একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা, তেমনই এটি আমাদের সামগ্রিক লজ্জার বিষয় যে এমন কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে এই লজ্জাজনক দুষ্কর্মের এখনও কোনো বিহিত হয়নি — উপযুক্ত ন্যায়বিচার থেকে অভয়ার পরিবার থেকে শুরু করে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এখনও বঞ্চিত হচ্ছেন।
কিন্তু আমাদের কাছে আরও বিস্ময়কর এটাও যে অভয়া ও ঐ ঘটনার পরে ঘটে যাওয়া একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ করার _অপরাধে_ প্রতিবাদী আন্দোলনকারীদের অনেককেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। যে রাষ্ট্রশক্তি নিজেকে সর্বদাই সর্বশক্তিমান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তৎপর সেই রাষ্ট্র, রবীন্দ্রনাথের কথায়, দুর্বলকে রক্ষা করতে উদাসীন, দুর্জনকে শাস্তি দিতে ব্যর্থ। যদিও আমরা মনে করি এই দুর্বলতা নিশ্চিতভাবেই আপেক্ষিক, কিন্তু দুষ্কৃতীদের আস্ফালন দেখে সে কথা মনে হয় না। একদিকে প্রায় প্রতিদিনই নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে, নির্বাচনে বিজয়ীর বীভৎস উল্লাস কেড়ে নিয়েছে ছোট্ট শিশুকন্যার প্রাণ, দলিত বা সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ — আর তারই পাশাপাশি শাসকের তথা প্রশাসনের দ্বারা নানাভাবে নিগৃহীত হতে হচ্ছে অন্যায়ের প্রতিবাদকারীদের।
এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সংযোজন আমাদের অন্যতম সহযোদ্ধা প্রগতিকে জনৈক ব্যক্তির সামাজিক মাধ্যমে অশালীন হুমকি। আমরা বিস্মিত ও ক্রুদ্ধ একথা ভেবে যে কীভাবে কেউ এখনও প্রকাশ্যে কোনো মহিলাকে _অভয়া করে দেওয়ার_ হুমকি দিতে পারে। কতটা বেপরোয়া হলে, প্রশাসন কতটা নির্লিপ্ত থাকলে এমন কথা কারোর পক্ষে বলা সম্ভব!
কিন্তু আমরা অভয়া মঞ্চর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই,এই ধরনের কোনো নির্লজ্জ হুমকি বা আক্রমণের কাছে আমরা নতিস্বীকার করিনি,করব না। অভয়াদের ন্যায়বিচার ও সমাজে ভয়মুক্ত পরিবেশের দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবেই। যে ব্যক্তি আমাদের সহযোদ্ধাদের এভাবে ভয় দেখাতে চেষ্টা করছে, আমরা প্রশাসনের কাছে তার উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
মেয়েদের সুরক্ষার জন্য, প্রান্তিক যৌনতা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে দৃঢ়সংকল্প।
দুর্জন দুষ্কৃতীরা জেনে রাখুক, এভাবে আমাদের ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করা যাবে না।










