Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাবনা: চিনের পর মার্কিনের ভারতের সার্বভৌমত্বর প্রতি আঘাত

Screenshot_2026-02-15-20-38-04-30_680d03679600f7af0b4c700c6b270fe7
Bappaditya Roy

Bappaditya Roy

Doctor and Essayist
My Other Posts
  • February 16, 2026
  • 7:54 am
  • No Comments

চিনের ভারতীয় ভূখণ্ড গ্রাস এবং বাণিজ্য উদ্বৃত্ত:

১৯১৪ তে সিমলা অধিবেশনে প্রকল্পিত ‘ম্যাকমোহন লাইন’ দিয়ে ব্রিটিশ ভারত ও তিব্বতের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ ১৯৪৯ এ চিনের ক্ষমতা দখলের পর থেকে সেখানকার কমিউনিস্ট সরকার কখনও মানে নি। ১৯৫১ এর মধ্যে চিন তিব্বত দখল করে নেয় এবং ১৯৫৪ থেকে শুরু নেহরু – ঝু এন লাই ‘পঞ্চশীল’ দহরম মহরম এর মধ্যে ১৯৫৯ এ চিন তিব্বতের বিদ্রোহকে চূর্ণ করে। তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাই লামা পালিয়ে ভারতে এসে প্রথমে তাওয়াং এ আশ্রয় নেন, পরে ধর্মশালায় তাঁর অধিষ্ঠান হয়। এরপর তিব্বত, তিব্বতিদের আশ্রয়, সীমান্ত সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে ১৯৬২ তে চিন-ভারত যুদ্ধ হয়। ভারত পরাজিত হয়। চিন জম্বু কাশ্মীরের তিব্বত সংলগ্ন আকসাই চিন দখল করে নেয়। বাদবাকি সীমান্তও নিজের মত করে নির্ধারণ করে (Line of Actual Control or LAC)। সেই থেকে ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ছিন্ন হয়ে যায়।

১৯৬৬ তে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৬৭ তে আশ্রিত রাজ্য সিকিমের নাথু লা ও চো লা তে ভারতীয় সেনা চিনা আগ্রাসন প্রতিহত করে, তাঁর নেতৃত্বে ভারত ১৯৭১ এ মার্কিন ও চিনের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্যে যুদ্ধে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত ও দ্বিখণ্ডিত করে। পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। ১৯৭৫ এ সিকিম কে তিনি ভারতের অন্তর্ভূক্ত করেন।

দেশের অভ্যন্তরে স্বৈরাচারী শাসনের বাড়াবাড়ি ও জরুরি অবস্থার অবসানে ১৯৭৭ এ জনতা দল দেশের ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭৮ এ বিদেশমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক চিন সফরের পর দুদেশের মধ্যে আবার সম্পর্ক স্থাপন হয়। যদিও মাঝেমধ্যেই চিনা সেনা লাদাখ, হিমাচল, উত্তরাঞ্চল-উত্তরাখণ্ড ও অরুণাচল সেক্টরে অনুপ্রবেশ ঘটাতে থাকে। ১৯৮৭ তে অরুণাচলের সামদরঙ চু এবং ২০১৩ তে লাদাখের ডেপসাং – চুমুর এ চিনের বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ও দু পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি অবশেষে আলোচনার মাধ্যমে মিটে যায়। ২০২০ তে শিলিগুড়ি করিডোরের নিকটবর্তী চিন – ভারত – ভুটান ত্রিসীমানায় অবস্হিত ডোকলামে চিনের বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ৭৩ দিন দাঁড়িয়ে থেকে ভারতীয় সেনা রুখে দেয়।

ইতিমধ্যে ১৯৬৩ তে পাকিস্তানের থেকে শাকসগ্রাম চিন অধিগ্রহণ করেছে এবং ১৯৮৬ র মধ্যে অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে সিনকিয়াং – গদ্বর (পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে আরব সাগর তীরবর্তী বন্দর) দীর্ঘ কারাকোরাম সড়ক নির্মাণ শেষ করে ফেলেছে। নির্মাণ করে ফেলেছে আকসাই চিনের মধ্যে দিয়ে লাসা-উরুমকি ২১৯ নাম্বার জাতীয় সড়ক। ২০২০ তে ভারতের উত্তর প্রান্তের সীমান্তবর্তী বিমানঘাঁটি দৌলত বেগ ওল্ডি যাওয়ার লে-দুর্বুক-শায়ক সড়কের দিকে চিনা সেনা অনেকটা এগিয়ে এলে দুপক্ষের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ঘটে এবং বহু সৈন্য হতাহত হয়। সেই থেকে চিন পূর্ব লাদাখের ডেপসাঙ্গ-গালওয়ান উপত্যকা- প্যাংগং হ্রদ-হট স্প্রিং অঞ্চলে ১০০ বর্গ কিলোমিটারের বেশি সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় এলাকা দখল করে রেখেছে।

যে দলটির আরোপিত দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদের অত্যাচারে দেশের মানুষ ত্রস্ত, সেই শাসক দল বিজেপির প্রচারে ফাঁপিয়ে তোলা অতিমানবিক ক্ষমতার অধিকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভারতীয় সেনাকে কাজে লাগাতে যেমন ব্যর্থ, ব্যর্থ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে চিনের কাছ থেকে ভারতীয় ভূখণ্ড উদ্ধার করতে। জেনারেল নরবনের আত্মজীবনী থেকে আরও জানা যায় চিনের আগ্রাসনের সময় নরেন্দ্র মোদি কতখানি দুর্বলতা ও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন।

উপরন্তু তাঁর সময়ে ভারতে চিনের আগ্রাসী বাণিজ্য এবং ব্যাপক মুনাফা বহু গুণ বেড়ে গেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আত্ম নির্ভর’ ভারতের ‘স্বাধীনতার অমৃত কালে’ চিনের থেকে বাণিজ্য ঘাটতি পৌঁছেছে ১০৬ বিলিয়ন ডলারে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ফ্ল্যাট প্যানেল, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, মেমোরি চিপস, ট্রান্সফরমার সহ যাবতীয় ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও মেশিনারি প্রোডাক্টস; প্লাস্টিক; স্টিল; ওষুধ ও টিকা; নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সবকিছুই চিনা রপ্তানি নির্ভর। এমনকি মোদির গর্ব করা গুজরাটের কেভাদিয়ায় সাধু বেত দ্বীপে প্রতিষ্ঠিত সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি নির্মাণেও যুক্ত ছিল চিনা সংস্থা। চিনের সঙ্গে গুজরাতি শিল্পপতিদের বাণিজ্য বাড়াতে মোদিজী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চারবার চিন ভ্রমণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ছয় বার চিনে যান, তাতে বাণিজ্যের দিক থেকে চিন ও ভারতীয় কিছু শিল্পপতি বাণিজ্যের দিক থেকে লাভবান হলেও ভারতের এক ইঞ্চি জমিও ফেরত আনা যায় না। চিন কিন্তু বিভিন্ন মঞ্চে ভারত বিরোধিতা চালিয়েই যায়। এছাড়াও নানা ঘুরপথে চিনা সংস্থাগুলি ভারতীয় অর্থ, সামরিক, পরিকাঠামোগত, যোগাযোগ বিভিন্ন সংস্থার বরাত ক্রমাগত নিয়ে চলেছে। এর ফলে তারা যেমন একদিকে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে, অন্যদিকে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।

মার্কিনের বাণিজ্য আগ্রাসন:

নরেন্দ্র মোদি যে জওহরলাল নেহরুর প্রতিনিয়ত সমালোচনা করে থাকেন যাবতীয় সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নেহরু কিন্তু নির্জোট অবস্থান বজায় রেখেছিলেন এবং টিটো, সুকর্ণ, ক্রনো, নাশের দের সঙ্গে নির্জোট আন্দোলনে র (Non – Aligned Movement) আন্তর্জাতিক নেতা ছিলেন। মোদি প্রতিনিয়ত যে কংগ্রেস দলের সমালোচনা করেন তাঁরা উপমহাদেশে SAAC এর উদ্যোক্তা ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। চিন, পাকিস্তান তো ছেড়ে দিন নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মাল দ্বীপ কেউই স্বঘোষিত ‘বিশ্বগুরু’ মোদিকে মানেন না এবং মোদির সময়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সর্বকালীন খারাপ সম্পর্ক। অথচ মোদির মত নিজেকে নিয়ে এ যাবৎ এত আত্মপ্রচার কেউ করেন নি। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ইন্দিরা গান্ধী, অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রত্যেকেই আক্রমণকারী পাকিস্তানকে যুদ্ধে উচিত শিক্ষা দিয়েছেন। কেবল নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে আক্রমণ করেও এক ইঞ্চি জমি উদ্ধার করতে পারেননি, তাঁর জেনারেলরাই বলেছেন অতি দামী একাধিক যুদ্ধ বিমান ধ্বংস হয়েছে, সীমান্ত অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু তাঁর প্রচার বাহিনী মিথ্যা প্রচার করে গেছে।

ইন্দিরা জমানা এবং পরবর্তী কালেও সোভিয়েত রাশিয়া রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থায়, সামরিক ক্ষেত্রে ভারতকে প্রভূত সাহায্য করেছে এবং বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯১ তে সোভিয়েতের পতন সহ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের পর কংগ্রেসের নরসীমা রাওয়ের প্রধানমন্ত্রীত্ব ও মনমোহন সিংহের অর্থমন্ত্রীত্বর সময় ভারত আর্থিক সংস্কার (Economic Reform) করে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত বিশ্বায়িত নব উদারবাদী অর্থনীতির (Globalized Neo Liberal Economy) অন্তর্গত হলেও মার্কিন, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলছিল। ২০০৬ সালে মনমোহন সিংয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত অর্থ ও বাণিজ্য নীতির প্রতিস্পর্ধী ‘ব্রিকস’ এ ভারত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে অংশগ্রহণ করে এবং বহু বিতর্কের পর ২০০৮ এ ‘মার্কিন – ভারত পরমাণু চুক্তি’ সাক্ষরিত হয়। এরপর থেকে ভারতের প্রতিটি সরকার একমেরু বিশ্বের (Unipolar World) মার্কিন প্রাধান্যকে স্বীকৃতি দিয়েও অন্যদেশ গুলির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলেছে, প্রতিবেশী চিন-পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে এবং সর্বত্র নিজস্বতা বজায় রেখেছে। বহু বছরের অর্জন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের একটি মর্যাদা ছিল।

নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসে প্রথম থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিগির এবং ভোটে জেতার জন্য কিছু যুদ্ধ যুদ্ধ নাটক ও খেলা শুরু করার সঙ্গেসঙ্গে প্রবল মার্কিন ও ইজরায়েল ভজনা শুরু করেন। তার গদগদ ডোনাল্ড ট্রাম্প স্তুতি ও পদলেহন ভারতীয় হিসেবে ভারতীয়দের আত্মসম্মান হানি করে। অথচ কোভিড মহামারী তে ভারতের জীবনদায়ী ওষুধ ট্রাম্প একপ্রকার জোর করে কেড়ে নেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে মোদির নেতৃত্বে ভারতের অবস্থান এবং পাহেলগাঁও আভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদের (এটিও আরোপিত কিনা সন্দেহ রয়েছে, কারণ পুলওয়ামা জওয়ান হত্যা থেকে পাহেলগাঁও হিন্দু ভ্রমণার্থী হত্যা থেকে আমেদাবাদ বিমান বিপর্যয় মোদির আমলে সবই কিনারাহীন ধোঁয়াশা) অজুহাতে পাকিস্তান আক্রমণ আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের এতদিনকার সম্মান ক্ষুণ্ন করে ভারতকে এক ঘরে করে দেয়।

সেই পর্বেই সামরিক পরিচালনা ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রভু ট্রাম্পের জোরালো চপেটাঘাত এবং বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভারতের টুটি টিপে ধরা ভারতকে চূড়ান্ত অবমাননার পথে নিয়ে যায় যদিও মাননীয় মোদি তাঁর গদি মিডিয়ার মাধ্যমে এগুলিকে ঐতিহাসিক চুক্তি ইত্যাদি বলে যথারীতি প্রচার চালিয়ে যান।

মার্কিন – ভারত বাণিজ্য চুক্তি:

১) দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না বলে এটিকে মার্কিনের চাপিয়ে দেওয়া একপাক্ষিক নির্দেশনামা বলাই ভাল। এই চুক্তির প্রতিটি শর্ত, মায় শব্দ, দাঁড়ি কমা ট্রাম্প হার্মাদ ও লুটেরা বাহিনী ঠিক করছে।

২) মার্কিনের সংকটপূর্ণ কৃষি, ডেয়ারি, যন্ত্র ইত্যাদি শিল্পের উৎপন্ন দ্রব্য অধিক দামে বিনা বাধায়, বিনা শুল্কে ভারতীয় বাজার দখল করবে। এরফলে ট্রাম্পের জনভিত্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত মধ্য অঞ্চলের মরচে ধরা অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করলেও কৃষি প্রধান দরিদ্র ভারতের কৃষি অর্থনীতিতে ভয়ঙ্কর আক্রমণ আনতে চলেছে।

৩) ভারত আজ অবধি যত চুক্তি করেছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সহ, তাঁর কৃষি পণ্যের বাজারটিকে সবসময় রক্ষা করে গেছে। ওষুধ, বীমা থেকে সমস্ত ক্ষেত্রে মার্কিন কর্পোরেট ইতিমধ্যে থাবা বাড়িয়ে রেখেছে, এবার ভারতের কৃষিতে মার্কিন কর্পোরেট দৈত্য রা থাবা বাড়াতে চলেছে।

৪) ‘জেনেটিকালি মডিফায়েড’এবং অন্যান্য ক্ষতিকর ও পরীক্ষামূলক পণ্যগুলি ভারতের বাজারে অবাধে ঢোকার সম্ভবনা।

৫) ভারতকে রপ্তানির ক্ষেত্রে এখন থেকে ১৮% শুল্ক দিতে হবে (আবার কখন সেটি ৫০% হয়ে যাবে সেটি মোদিজীর ট্রাম্প প্রভুর মর্জি)। ভারতকে এতদিন ২.৫% শুল্ক দিতে হত। সাত গুণের বেশি শুল্ক দিয়ে ভারতীয় পণ্য গুলি কিভাবে মার্কিন মুলুকে ব্যবসা করবে? এভাবে ব্যবসায়ী ট্রাম্প এতদিনকার মার্কিন-ভারত রপ্তানি অভিমুখটিই ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন।

৬) বিশাল দেশ ভারতের নিজস্ব প্রয়োজনে যেমন প্রচুর জ্বালানি লাগে সেরকম ভারতের নিজস্ব জ্বালানির উৎস অপ্রতুল। তাই কারুর উপর একমাত্র নির্ভরশীল না হয়ে ভারত এতদিন সুবিধামত বিভিন্ন দেশ থেকে তেল কিনত। ইরান ও রাশিয়া থেকে অনেক সস্তায় তেল পেত। এবার সেই পথ বন্ধ হল, উল্টে মার্কিনের থেকে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের জ্বালানি (সম্ভবত ভেনেজুয়েলায় মার্কিন লুটের তেল) কিনতে হবে। এর ফলে ভারতের অর্থনীতিতে আগামী দিনে বিরাট ধাক্কা আসতে চলেছে।

৭) ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ভারত রাশিয়া বা ট্রাম্পের হিট লিস্টে থাকা অন্য কারো কাছ থেকে তেল কিনছে কিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নজর রাখবে। অন্যথা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ সামরিক শক্তির অধিকারী ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রভু ট্রাম্পের কাছে দেশের সার্বভৌমত্বও বিসর্জন দিলেন।

৮) এতদিন ভারত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরবর্তী রাশিয়ার দেওয়া তুলনামূলক সস্তা কিন্তু পরীক্ষিত অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে যুদ্ধ করে সফল হয়েছে, এবার সেগুলি বাদ দিয়ে মার্কিনের থেকে অনেক দামি হয়তো অপ্রয়োজনীয় বা বাতিল প্রযুক্তির অস্ত্রশস্ত্র, যুদ্ধ বিমান ইত্যাদি কিনতে হবে। এই বছর দরিদ্র ভারতের বিশাল সামরিক বাজেট আরও ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

৯) এছাড়াও বেশি দাম দিয়ে মার্কিন কোকিং কোল, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি যন্ত্রাংশ ইত্যাদি ভারত কিনতে বাধ্য থাকবে।

১০) অন্যান্য বিষয় গুলি ক্রমশ প্রকাশ্য।

ব্রিকস অন্তর্ভূক্ত চিন ও ব্রাজিল কিন্তু ট্রাম্পের এই অন্যায্য অত্যাচার মানে নি। মানে নি প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি সহ অন্যান্য বহু দেশ। অথচ মোদিজী ও তাঁর সরকার ভুল নীতি ও নিজস্ব দুর্বলতার কারণে ভারত ও ভারতবাসীকে ঠেলে দিলেন এক গভীর রসাতলে।

আমরা আগেই দেখেছি চিনা আগ্রাসনের সময় তাঁকে জেনারেল রা জানালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুপ করে বসে ছিলেন। অভিবাসী ভারতীয়দের গ্রেফতার করে পশুর মত শেকলে বেঁধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানে করে ভারতে যখন পাঠানো হচ্ছে, তিনি চুপ ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের পাশে নীরবে বসে চোখ পিট পিট করে তাকিয়ে সাংবাদিকদের এড়িয়ে ট্রাম্পের গুন্ডামিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, যে রকম নীরবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নীরব মোদি দের যারা ভারতীয়দের কষ্টার্জিত সব অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। মণিপুর জ্বলে পুড়ে গেলেও সেদিকে তাকানোর সময় তিনি পাননি। তিনি এত বড় হিন্দু নেতা যে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নারকীয় অত্যাচার ও হত্যা করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নিতে অক্ষম হন। আমরা শুধু দেখেছি দেশজোড়া এত সমস্যার মধ্যেও সাজসজ্জা করে তিনি জনগণের টাকায় বিশ্ব ভ্রমণ করে গেছেন। এবার মার্কিন বাণিজ্য নীতির কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলেন। রাহুল গান্ধীর ভাষায় “নরেন্দ্র, সারেন্ডার।” রাষ্ট্র প্রধান আত্মসমর্পন করে বসলে দেশবাসীর যে ঘোর দুর্দিন সেটি বলাই বাহুল্য।

১৩.০২.২০২২

PrevPreviousউত্তরণ
Nextসময় এসেছে নতুন খবর আনারNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

পথের সন্ধানে

April 16, 2026 No Comments

ভারতের ইতিহাসে কালো দিনের তালিকায় আর একটি দিন যুক্ত হল – ১৩ এপ্রিল, যেদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জোরের সঙ্গে জানিয়ে দিলেন ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষিত হবার

ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল

April 16, 2026 No Comments

সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ চিৎকার করে আসে না। কিছু নিয়ন্ত্রণ আসে ভালোবাসা, দায়িত্ব, অপরাধবোধ আর ভয়–এর মোড়কে। 💔🌫️ Emotional Blackmail হলো এমন এক ধরনের মানসিক প্রভাব

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

April 15, 2026 No Comments

সালটা ২০১১, আমরা মেডিক্যাল কলেজে তখন সদ্য পা দিয়েছি। গল্পটা শুরু হয়েছিল তারও আগে, রেজাল্ট বেরোনোর পরপরই। বিভিন্ন দাদা দিদিরা বাড়ি বয়ে একদম ভর্তির সমস্ত

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

April 15, 2026 No Comments

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

April 15, 2026 3 Comments

ভোটের দোরগোড়ায় পশ্চিমবঙ্গবাসী। ইতিমধ্যে SIR তথা Special Intensive Revision (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এর কল্যাণে এবং প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সহজ কথায়,

সাম্প্রতিক পোস্ট

পথের সন্ধানে

Gopa Mukherjee April 16, 2026

ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল

Dr. Aditya Sarkar April 16, 2026

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

Dr. Subhanshu Pal April 15, 2026

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

Abhaya Mancha April 15, 2026

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

Dr. Jayanta Bhattacharya April 15, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

617830
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]