৫ মার্চ, ২০২৬
সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় খুন ও ধর্ষিতা হওয়া সহকর্মীর মৃত্যুর প্রেক্ষিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট যে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করেছিল তাতে আমরা দেখেছিলাম স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভগ্নদশা ও পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি। আর তার প্রতিবাদে স্বাস্থ্য ভবন সাফাই অভিযান করা হয়েছিল ২০২৪ সালে, তারপর দীর্ঘ প্রায় এক বছর পরে প্রতিহিংসার এক নগ্ন প্রতিচ্ছবি আমরা আগেই দেখেছি।
নতুন পাশ করা সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তারদের পোস্টিং প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে আটকে রেখে কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই নিজেদের ক্ষমতা বলে নতুন নিয়োগ পদ্ধতি সৃষ্টি করে আরও বিভ্রান্তিকর ভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করল স্বাস্থ্য দপ্তর।
এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর এবং অনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের ইঙ্গিত রয়েছে যা আমরা আগেও তুলে ধরেছি:
প্রথমত, স্বাস্থ্য দপ্তরের দুটি ছুটির দিন পেরিয়ে হঠাৎ করে তাদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে আসার আগেই লোকমুখে পোস্টিং এর তালিকা বিভিন্ন সূত্রে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিংকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমতো, স্বাস্থ্য দপ্তর এই বন্ডেড SR দের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে পোস্টিং দিয়েছে। মেধাকে সম্পূর্ণরূপে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কেবলমাত্র নিজেদের ক্ষমতা প্রকাশ করাই স্বাস্থ্য দপ্তরের মূল লক্ষ্য বলে আমরা মনে করছি। এবং এই পোস্টিং তিন বছরের জন্য স্থায়ী না আবার পরিবর্তন হবে এবং হলেও কিসের ভিত্তিতে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
দ্বিতীয়তঃ, আরজিকর আন্দোলনের আন্দোলনকারী ডাক্তারদের হেনস্তা করবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিশেষ বিশেষ কিছু জায়গা চিহ্নিত করে পাঠানো হয়েছে যেখানে পাশ করা বিশেষজ্ঞ ছাত্রদের কাজের কোন অবকাশ নেই শুধুমাত্র পরিকাঠামোর অভাবে।
তৃতীয়ত একথা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া দরকার পশ্চিমবঙ্গের কোন স্থানেই বিশেষজ্ঞ পাস করা ছাত্র চিকিৎসকদের কাজ করতে অসুবিধা নেই কিন্তু একজন ক্যান্সার চিকিৎসককে যদি একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয় যেখানে ক্যান্সার চিকিৎসার কোন পরিকাঠামোই নেই, সেখানে তার মেধা কে অবমাননা করা হবে বলেই আমরা মনে করছি। সেই জায়গায় স্বাস্থ্য দপ্তর যদি GDMO ডাক্তার সাথে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্যপদ দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়াদ্বারা সম্পন্ন করে পাঠায় তাহলে সেখানে সাধারণ গ্রামীণ মানুষদের অনেক বেশি উপকার হবে বলে আমরা মনে করি।
গতবছর আসফাকুল্লাহ নাইয়া, দেবাশিস হালদার এবং অনিকেত মাহাতোর অনৈতিক পোস্টিং নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার কালিমা লেগেছে স্বাস্থ্যদপ্তরের গায়ে।
তাই ছাত্রদের অনৈতিকভাবে তুঘলকি প্রক্রিয়ায় এই ধরনের এইরূপ অনৈতিক পোস্টিং এর উত্তর খুঁজতে আগামীকাল ৬ মার্চ, ২০২৬ স্বাস্থ্য ভবন যাওয়া হবে, দুপুর ১২টায়। দিকে দিকে সরকার তার ক্ষমতা বলে মেধা কে চূর্ণ করা ও তার সাথে প্রতিবাদে গর্জে ওঠা কণ্ঠ গুলোকে স্তব্ধ করার নোংরা খেলায় মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে । তাই হাতে হাত রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাথে প্রতিবাদে সামিল হোন ও বৃহত্তর আন্দোলনে আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠুন!
৬ মার্চের সংযোজন:










