আর জি কর আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা স্তিমিত হতেই আমরা প্রত্যক্ষ করেছি প্রতিহিংসার রাজনীতির এক উদ্বেগজনক চেহারা। শুধুমাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার “অপরাধে” একের পর এক থানা থেকে সমন পাঠানো হয়েছিল চিকিৎসকদের। সিনিয়র থেকে জুনিয়র, এমনকি মেডিক্যাল পড়ুয়ারাও সেই তালিকা থেকে বাদ যাননি। এর পাশাপাশি ডাঃ অনিকেত মাহাতো, ডাঃ দেবাশিস হালদার এবং ডাঃ আসফাকুল্লা নাইয়াকে মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং উপেক্ষা করে অন্যত্র পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তাঁরা নিজেদের প্রাপ্য ও সঠিক পোস্টিং ফিরে পেয়েছেন।
কিন্তু প্রতিহিংসার এই ধারা থেমে থাকেনি। এবার তার প্রভাব পড়েছে এই বছরের সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের উপর। পূর্ববর্তী স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক SOP বাতিল করে আনা হয়েছে নতুন SOP, যেখানে কাউন্সেলিংয়ের কোনও সুযোগ রাখা হয়নি। চিকিৎসকদের মেধাকে গুরুত্ব না দিয়ে যেকোনও জায়গায় পোস্টিং দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে প্রশাসনের হাতে। এইভাবেই এই চিকিৎসকদের পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এমনকি যেকোনও সময় ট্রান্সফারের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল কলেজ পোস্টিং আদৌ দেওয়া হবে কিনা, তাও অনিশ্চিত।
আরও উদ্বেগের বিষয়, কিছু চিকিৎসককে এমন জায়গায় পাঠানো হয়েছে যেখানে তাঁদের নির্দিষ্ট বিভাগই নেই। এর ফলে চিকিৎসকদের দক্ষতার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই SOP এমন একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে আন্দোলন বা প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রতিহিংসার পথ আরও প্রশস্ত হয়ে যাচ্ছে।
আমরা এমন একটি সুস্থ স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাই, যেখানে ভয় নয়, স্বচ্ছতা, ন্যায় এবং সম্মান প্রাধান্য পাবে। তাই নবনির্বাচিত সরকারের কাছে আমাদের দাবি—বর্তমান SOP প্রত্যাহার করে একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও মেধাভিত্তিক SOP প্রণয়ন করা হোক এবং ২০২২-২০২৫ ব্যাচের সিনিয়র রেসিডেন্টদের মেডিক্যাল কলেজে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে পোস্টিং নিশ্চিত করা হোক।












