না। শ্যামাপ্রসাদ পশ্চিম বঙ্গের একক স্রষ্টা নন।
২০ জুনও পশ্চিমবঙ্গের জন্ম দিন নয়।
আসল ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়া বা বিকৃত করলে সেটা বাঙালির অস্তিত্ব সংশয় কণ্টকিত হয়।
আজ যে পশ্চিমবঙ্গের রূপ দেখছি সেটার প্রেক্ষাপট নির্মিত হয়েছিল ১৯৪৭ সালের ৩ জুন যেদিন ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেন ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে তার পরিকল্পনা (রোয়েদাদ) ঘোষণা করেন। বলা উচিত, তার আগে ব্রিটিশ সরকার কখনও স্বাধীনতা দিতে গিয়ে বাংলা ভাগের কথা ভাবে নি মাউন্টব্যাটনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বিধানসভায় ভোটাভুটি হল। ভোটের ফল অনুযায়ী অখণ্ড বঙ্গ টুকরো করার সিদ্ধান্ত হল ১৯৪৭ সালের ২০ জুন। আর তারপর থেকে শুরু পশ্চিমবঙ্গের ভাঙ্গা গড়ার পর্ব। ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্ট দেশ স্বাধীন হলেও ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব সীমান্তের নানা এলাকা কোন দিকে যাবে, পশ্চিমবঙ্গে থাকবে কিনা সেটাও ঠিক ছিল না। বনগাঁ সহ বেশ কিছু এলাকা পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৪৭ সালের ১৮ আগষ্ট।তারপর এই রাজ্যে যুক্ত হয় কোচবিহার, ত্রিপুরা ১৯৫০ সালে। এবং বিহার থেকে ঢুকে গেল পুরুলিয়া ১৯৫৬ সালের ১লা জানুয়ারি। প্রকৃতপক্ষে ওই দিন থেকেই আমরা দেখছি আজকের এই পশ্চিমবঙ্গের রূপ।
সত্যিকারের নব রূপে পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন তাই ১৯৫৬ সালের ১ লা জানুয়ারি।
২০ শে জুন: সাম্প্রদায়িক বিভাজনের দিবস
২০ শে জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনের কোনো যুক্তি নেই। ওইদিন ১৯৪৭ সালে বঙ্গ বিধানসভায় আসলে ঘটেছিল অখণ্ড বঙ্গের বিভাজনের সিদ্ধান্ত। ভোটাভুটি হয়। তাতে বিভাজনের পক্ষে ভোট দেয় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক। কিন্তু সে তো বাংলা বিভাজনের পক্ষে রায়, তাতে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রূপরেখার সঙ্গে বিন্দুমাত্র মিল নেই। পশ্চিমবঙ্গ গঠন সম্পূর্ণ হয় তারও এক দশক পরে ১৯৫৬ সালে। তাহলে শুধুমাত্র খণ্ডিত হওয়ার দিনকে একটি রাজ্যের রাজ্যদিবস বানানো কতটা যুক্তি যুক্ত?
প্রকৃত সত্য
পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল প্রকৃত অর্থে মাউন্টব্যাটনের প্রস্তাবে কংগ্রেসের সায় দেওয়ায়। সেদিন অখণ্ড বঙ্গ ভেঙে, বঙ্গের হিন্দু অধ্যুষিত অংশ নিয়ে একটি আলাদা রাজ্য গড়বার প্রস্তাবে ৫৫ জন কংগ্রেসি সমর্থন দেন। এত জনে মিলে সমর্থন জানিয়েছিল বলেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তারপরেও পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে কিনা তাই নিয়েও ভোট হয়। সেখানে ৫৮ জন চেয়েছিলেন বলেই আজ পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ। ৫৫ জন কংগ্রেসি যদি পশ্চিমবঙ্গ জন্মদাতা হিসেবে স্বীকৃতি না পান, শ্যামাপ্রসাদ তাহলে কোন যুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের জনক হয়ে ওঠেন??
দেখা যাক পশ্চিমবঙ্গ গঠনের সময়কার ভোটাভুটির ও তাঁর চিত্র। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক জয়া চ্যাটার্জী তাঁর বিখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থে লিখেছেন:
১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় (Bengal Legislative Assembly) তিনটি পৃথক ভোট হয়।
প্রথম ভোট, যৌথ অধিবেশন:
১২৬–৯০ ভোটে সিদ্ধান্ত হয়, বাংলা অবিভক্ত থাকলে পাকিস্তানের গণপরিষদে যোগ দেবে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক চেয়েছিলেন অখণ্ড বাংলা।
দ্বিতীয় ভোট, পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলের বিধায়কদের পৃথক বৈঠক:
৫৮–২১ ভোটে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের গণপরিষদে যোগ দেওয়ার পক্ষে মত গৃহীত হয়।
কংগ্রেস-৫৫, সিপিআই-২, হিন্দু মহাসভা- ১।
সেই একজন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
তৃতীয় ভোট – পূর্ববঙ্গ অঞ্চলের বিধায়কদের পৃথক বৈঠক:
১০৬–৩৫ ভোটে বাংলাভাগের বিরোধিতা করা হয়। সিপিআইয়ের দিনাজপুরের বিধায়ক রূপনারায়ণ রায় এই গোষ্ঠীতে ভোট দেন – বাংলাভাগের বিরুদ্ধে।
তাহলে দাঁড়াচ্ছে কী?
যে আইনসভায় কংগ্রেসের ৮৭ জন, মুসলিম লীগের ১১৩ জন, সিপিআইয়ের ৩ জন বিধায়ক – সেখানে হিন্দু মহাসভার একমাত্র সদস্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী। তিনি “পশ্চিমবঙ্গ তৈরি করেছেন” – এই দাবি ইতিহাসের বিকৃতি, রাজনৈতিক প্রচার মাত্র।
পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ছিল কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট, ব্রিটিশ প্রশাসনের পরিকল্পনা এবং তৎকালীন সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার সম্মিলিত পরিণতি। “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” আসলে ইতিহাসকে গেরুয়া বয়ানে মুড়ে পরিবেশন করার রাজনৈতিক প্রকল্প।
(Bengal Legislative Assembly Proceedings, ২০ জুন ১৯৪৭; Joya Chatterji, Bengal Divided;)
তাহলে কেন এই মিথ্যা নির্মাণ?
জিন্না প্রথমে বলেছিলেন কলকাতা ছাড়া বাংলা ভাগ অর্থহীন। তারচেয়ে বাংলা আলাদা দেশ হোক। তাতে মুসলিম লীগের সমর্থন থাকবে। কিন্তু জহরলাল নেহরু রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি বাংলা ভাগের প্রস্তাবে রাজি তবে বাংলাকে ভারতের একটি প্রভিন্স হয়ে থাকতে হবে। জিন্নাহ রাজি হননি। ফলে বাংলা ভাগ অনিবার্য হয়ে পড়ে।
পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে কংগ্রেসের জন্য। ইংরেজদের কূট বুদ্ধির কাছে হেরে গিয়ে। নেহেরুর একরোখা মনোভাবের জন্য।
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ছিল মাত্র একটি ভোট। পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গকে ভাগ হতে হল লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের জন্য।
৫৫টি ভোটের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ১টি ভোট দিয়েছেন। যদি তিনি ভোট নাও দিতেন তাতেও সিদ্ধান্তের কোন পরিবর্তন হতো না।
কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিক কাজটি করেছে লিগ ও কংগ্রেস। যোগেন মণ্ডল পিছিয়ে পড়া নমশূদ্র মানুষের জন্য বাংলা ভাগ আটকাতে চেয়ে হেরে গিয়েছিলেন। তাহলে এমনভাবে প্রচার হচ্ছে কেন? কারণ এখন বাঙালিকে নতুন করে বোঝাতে হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে। এই রাজ্যে ক্ষমতায় এসে সংস্কৃতি এবং মননে বাঙালি ইতিহাসের অঙ্গ হয়ে ওঠার রাজনৈতিক প্রকল্প হিসেবে বিজেপি এই রাজ্যের জন্মদিন নিয়েও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের দিনকেই জন্মদিন বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছি। পূর্বসূরী হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অখণ্ড বাংলাকে ভেঙে হিন্দুদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ তৈরি করেছেন, এটাই তুলে ধরে আজকের বাঙালির হৃদয়ে নিজেদের পাকাপাকি অবস্থান খুঁজতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস বিতর্ক উসকে দিল।
এটাই প্রমাণ করে যে
বাঙালির অন্তরে আপন হতে চাওয়ার অনুভূতি ও ভালোবাসার জায়গা খুঁজছে বিজেপি। যাতে বিজেপিকে বহিরাগত দল বলে আর না মনে হয়, তারাও যেন সগর্বে বলতে পারে “আমি তোমাদেরই লোক”!
বামেদের ভূমিকা
২০ শে জুন বিষয়ে বামেদের ভূমিকা ছিল স্ববিরোধী।
কমিউনিষ্ট নেতা ভবানী সেন লিখেছিলেন, “বঙ্গভঙ্গ যদি হয় তবে দুনিয়া হতে বাঙালি জাতির নাম মুছিয়া যাইবে।… বাঙালি জাতি বিভিন্ন প্রদেশে ও রাষ্ট্রে ছত্রভঙ্গ হইয়া পড়িলে ভারতের মধ্যে সবচেয়ে অকর্মন্য জাতি হইবে এই বাঙালি… ”
তাই কমিউনিষ্টদের একাংশ চেয়েছিলেন স্বাধীন ভারতের ভিতরে যুক্তবঙ্গ প্রদেশ।
কিন্তু তাঁরা তখন দেশে চতুর্থ তম শক্তি। সংখ্যায়, প্রভাবে নগন্য। ‘যত দূর মনে পড়ে ‘ বইতে জ্যোতি বসু লিখেছেন, পার্টি বঙ্গভঙ্গের বিরোধী ছিল। কিন্তু একে প্রতিরোধ করার শক্তি সেদিন ছিল না। প্রতিবাদ সত্ত্বেও দেশ যখন বিভাজিত হলই, তখন বাস্তবকে স্বীকার না করে উপায় ছিল না।
আসলে কি ছিল বাস্তবতা?
হিন্দুমহাসভা এবং মুসলিম লীগ ভাগের প্রশ্নে মরিয়া।
মাউন্টব্যাটেনের রোয়েদাদ ঘোষণার পরেই মুসলিম লীগ বাংলা ভাঙ্গার দাবি তুলে মাউন্টব্যাটেনটি সমর্থন করে। তাতে বাংলায় সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে থাকে। ২৯ মে থেকে ২৪ শে জুনের মধ্যে সাম্প্রদায়িক হিংসায় ৪৫ জনের মৃত্যু হল। বোমায় আহত হলেন ১৬৩ জন। গুলিবিদ্ধ ১১৩ জন। অ্যাসিডে পুড়ছেন ৪৭ জন। কলকাতা তখন দুটি শিবিরে ভাগ। বৃটিশ সৈন্য দলের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা চলছে… একে অপরকে খুন করতে চায় বাঙালি, ধর্মের বিচারে।
কার্যত মাউন্টব্যাটন অ্যাওয়ার্ড কোনো অপশন রাখে নি। বাংলা ভাগ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল দেখে দিল্লিতে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় বৈঠক ১৫৭- ২৯ ভোটে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়। মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস উভয়েই সম্মতি দিয়ে দেওয়ায় বঙ্গভঙ্গ অনিবার্য হয়ে যায়। ফলে শ্যামাপ্রসাদ একা সেদিন বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট দিয়ে পশ্চিম বাংলা তৈরি করেছিলেন এটা সত্যের অপলাপ। সম্পূর্ণ বাড়িয়ে বলা। এমন দাবিও করা ঠিক নয়। তিনি বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।এটুকু বলাই ঠিক।
কংগ্রেসও বঙ্গ ভঙ্গের পক্ষে সমর্থন করছে দেখে শেষে কমিউনিষ্টরাও বাংলাকে অখণ্ড রাখার কোনো উপায় খুঁজে পেল না। এদিকে ততদিনে ঠিক হয়ে গেছে পাকিস্তান হবে ধর্ম ভিত্তিক দেশ হবে। কমিউনিষ্টরা চায় নি, দেশের কোনো অংশ কোনো ধর্মভিত্তিক দেশের অংশ হোক। তখনো অবধি ঠিক ছিল ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হবে। তাই শেষ পর্যন্ত তারা ঠিক করে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ থাকুক।
বাংলার মুসলিম নেতৃত্বের এক বিরাট অংশও বাংলা ভাগ চান নি। বাংলার আপামর মুসলিম মুসলিম লীগের অংশ বা সমর্থক ছিলেন না। বাংলার আপামর হিন্দুও সেদিন হিন্দু মহাসভার অংশ ছিল না । সাধারণ বাঙালি সমাজ চায় নি বাংলার এই ধর্ম ভিত্তিক সাম্প্রদায়িক বিভাজন।শুধু হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগ একমাত্র ভাগ চেয়েছিল। ভাগ চেয়েছিল উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী ও বাংলার শিক্ষিত মহল। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশে বাংলা ভাগ হলে তাদের নানা সুবিধা। সাধারণ মানুষের তাতে কি সুবিধা সে নিয়ে সেদিন আলোচনা হয়নি।
২০ শে জুন ভোটাভুটিতে তাই যা ঠিক হয়েছিল, তা পূর্বেই নির্ধারিত হয়ে গেছিল আইনসভার বাইরে । কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতৃত্বও চাইল পাঞ্জাব ও বাংলাকে টুকরো করে স্বাধীনতা। হিন্দুমহাসভা, মুসলিম লীগের দাবি কংগ্রেসের সমর্থন পেল শিক্ষিত ও ধনীক শ্রেনীর মধ্যস্থতায়।
বাংলা ভাগ হয়েছিল সেদিন আপামর সাধারণ বাঙালির চাওয়ার বিরুদ্ধে।
২০ শে জুন তাই বাঙালির ইতিহাসের কলঙ্কিত দিন সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজি, সাম্প্রদায়িক ধর্মীয় রাজনীতির ফলাফলে বাংলা ভাগ হলে ক্ষতি হয়েছিল বাংলার সাধারণ মানুষের।
সমগ্র দেশে আজ যুক্তবাংলা একটি রাজ্য হিসেবে থাকলে বাঙালির প্রভাব ও প্রতিপত্তি বাড়তো। তা হতে দেয় নি অবাঙালি পুঁজির সমর্থিত হিন্দিভাষী রাজনীতির জোট বন্ধন।
২০ শে জুন বাঙলির বুকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ক্ষতকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দিন। তার ওপর ষড়যন্ত্র করেই পড়েছিল রাজনীতির সিলমোহর। বাঙালির জন্য দিনটি ঐতিহাসিকভাবে চরম দুঃখের। সেলিব্রেশনের নয়।
আজ এই চরম সত্য ঢেকে নতুন করে তৈরি হচ্ছে ব্যাখ্যা। ইতিহাস ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপকদের একাংশ হঠাৎ এই দিনটিকেই পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন বলে বক্তব্য রাখছেন। বাংলার শিক্ষিত এলিট সমাজ নিজের ইতিহাস বিকৃত করে ক্ষমতার প্রসাদ পেতে মাঠে নেমে পড়েছেন। সেই পলাশী থেকে দেশভাগ পর্যন্ত বাঙালির নিজের বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস, বাঙালিকে কব্জা করেছে তাই চিরকাল বহিরাগত শক্তি, তাকেই বৌদ্ধিক সমর্থন জুগিয়েছে বাঙালি মধ্যবিত্ত।২০ জুনের বিতর্ক সেই ইতিহাসেরই নব নির্মাণ।











