Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় নিয়োগ দুর্নীতির অবসান কল্পে রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাংবিধানিক ভুমিকার পুনঃপ্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা

Oplus_131072
Dr. Hiralal Konar

Dr. Hiralal Konar

Surgeon, Leader of Doctors' Movement
My Other Posts
  • June 22, 2026
  • 6:45 am
  • No Comments

হেলথ সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশনের দাবী

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ অনেক দিনের। বিশেষ করে আর জি কর কান্ড ও হুমকি সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতির উৎস ও তার ক্রমাগত বৃদ্ধি নিয়ে বিষয়মুখী ও তথ্য মূলক আলোচনা প্রয়োজন। এরই সাথে নিয়োগকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবিসংবাদিত। আমাদের বর্তমান আলোচনায় সেই বিষয়টি বুঝতে চেষ্টা করবো।

শিক্ষিত ভারতীয় নাগরিকদের উচ্চ পদে সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের দীর্ঘ দিনের দাবী মেনেই সৃষ্টি হয়েছিল পাবলিক সারভিস কমিশন। ১৯১৯ সালের ভারত সরকার আইন ও লী কমিশন (১৯২৪)-র জোরালো সুপারিশে সেন্ট্রাল পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৯২৬ সালে। পরবর্তী কালে আরো বেশ কিছু সাংবিধানিক সংস্কার শেষে ১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইনের বলে ১লা এপ্রিল, ১৯৩৭ সালে তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ও প্রাদেশিক পাবলিক সার্ভিস কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শুরুও সে ভাবেই। কমিশনের কার্যকলাপের মধ্যে নিয়োগ, পরীক্ষা, নির্বাচন, পদোন্নতি, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা, চাকরির শর্তাবলী, পেনশন ইত্যাদি জরুরী বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান এবং তার তদারকি।

পরবর্তী কালে, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে, গণপরিষদ (Constituent Assembly) পাবলিক সার্ভিস কমিশনগুলিকে সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করে। সেই অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখে ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনগুলি সংবিধানের ৩১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে, যার ফলে তাদের স্বায়ত্তশাসন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় নির্বাহী হস্তক্ষেপমুক্ত নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন কার্যক্রমের নিশ্চয়তা।

সরকারের প্রতি কমিশনের নির্দেশ ব্যবস্থা সাধারণ ভাবে সুপারিশমূলক হলেও, বিভিন্ন প্রকার সাংবিধানিক রক্ষা কবচ, রাজ্য বিধান সভা ও কেন্দ্রীয় সংসদের সঙ্গে সরাসরি দায়বদ্ধতার কারণে, সুপারিশগুলি বাস্তবে বাধ্যতামূলক হয়ে উঠে। আর এইখান থেকেই শুরু হয় সরকার ও কমিশনের মধ্যে সংঘাতের পটভূমি। শাসক দল তার সরকারি ক্ষমতার বলে বলীয়ান হয়ে সরকারি নিয়োগে তার দলীয় ও কায়েমি স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়, চায় মেধাভিত্তিক নিয়োগকে লঙ্ঘন করে স্বজনপোষণ, আর্থিক ও দলীয় স্বার্থে নিয়োগ পদ্বতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে। গত তিরিশ বছর ধরে যার ভুরি ভুরি উদাহরণ আমরা দেখেছি।

সরকারি চিকিৎসক নিয়োগের সংক্ষিপ্ত কালানুক্রমঃ

গত শতাব্দীর সাতের দশকের শুরু অবধি চিকিৎসকদের কাছে সরকারি চাকরিতে আকর্ষণ কমই থাকত। বেতন কাঠামো ছিল দূর্বল। প্রতি বছরে পাশ করে বের হয় ৭০০ থেকে ৭৫০ জন। অনেকেই সেই সময় থেকে নিজের সুবিধামত জায়গায় প্র্যাকটিস করতে শুরু করে দিত। আর চেষ্টা ছিল স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে। সেখানে আসনসংখ্যা খুব কম। যেমন জেনারেল মেডিসিন বা সার্জারিতে ২০টা করে। পাঁচ বছর সরকারি চাকরি করার পর ঐএকই পরীক্ষা দিয়ে ৫ জন করে ঐ বিষয়ের সরকারি কোটায় পড়বার সুযোগ পেত। পাশ করার পর ঐ বিষয়ের স্পেশালিস্ট হিসেবে মহকুমা বা জেলা হাসপাতালে কাজ করতে হত। বছর কয়েক কাটিয়ে তাদের মধ্য থেকেই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গুলোতে রেজিস্ট্রার বা ক্লিনিক্যাল টিউটর হবার সুযোগ পেত। তারপর ধাপে ধাপে প্রফেসর হওয়া সম্ভব ছিল। এটা হল হাসপাতালের মধ্যে যারা শিক্ষক চিকিৎসক তাদের কথা। আর যারা কলেজের বিভিন্ন বিভাগে কাজ করত তাদের নিয়ম একটু অন্যরকম। সরকারি চাকরির শুরুটা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়োগ দিয়ে শুরু হত। তারপর নিয়ম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উচ্চতর হাসপাতালে বদলি। এদের মধ্যেই কারো উপর স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করতেন, স্বাস্থ্য প্রসাশনের বিভিন্ন স্তরে এদেরও পদোন্নতির সুযোগ ছিল।

১৯৭৪ নাগাদ সরকারি চিকিৎসকদের বড়সড় আন্দোলনের ফলে সরকারি চাকরিতে একটা ভদ্রস্থ বেতন কাঠামো তৈরি হয়, কিছু কিছু নিয়ম কানুন তৈরি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হলে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে আন্দোলনকারীদের তৎকালীন নেতৃত্বের উপর শাস্তির খাঁড়া নেমে আসে। বরখাস্ত, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসর দিয়ে দেওয়া, সাসপেনশন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বদলি সবই করা হয়। জরুরী অবস্থার অবসান হওয়ার পর একই দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে নতুন সরকারও ক্রমশঃ সেই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। সরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া পূর্বের মতই মূলত পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হচ্ছিল। মাঝে মাঝে অ্যাডহক ভিত্তিতে হলেও তাদের অবশ্যই কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে নিয়মিতকরণ করতে হত।

১৯৮৩-এর সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয় রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গুলোতে জুনিয়র ডাক্তারদের (হাউসস্টাফ, ইন্টার্ন) আন্দোলন ও কর্মবিরতি। সেই সময় সরকারি ডাক্তারদের অখন্ড সংগঠন সেই আন্দোলনের অভিঘাতে দু ভাগে ভাগ হয়ে যায়। তৎকালীন সরকার সদ্য পাশ করা বেশ কিছু চিকিৎসককে রাতারাতি বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়োগ করে। পরে তাদের প্রত্যেকের চাকরি নিয়মিতকরণ হয় রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠক ডেকে। সেই প্রথম পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে বাদ দিয়ে সরকারি চিকিৎসক নিয়োগ ও নিয়মিতকরণ চালু হয়।

এরপর সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কয়েকটি ভাগে বিভাজিত করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা আইন, ১৯৯০-র দ্বারা মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস চালু হয় এবং চিকিৎসা-শিক্ষাকে আলাদা করা হয়। শিক্ষক-চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলক নন-প্র্যাক্টিসিং প্রকল্পর অধীনে আনা হয় এবং তাদের প্র্যাকটিস করা নিষিদ্ধ হয়। এ ছাড়াও, শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আলাদা নিয়ম কানুন চালু হয়। এই প্রক্রিয়ায় আপৎকালীন বা আশু প্রয়োজনের তাগিদ দেখিয়ে উক্ত আইনে প্রথমে প্রারম্ভিক তিন বছর পরে সংশোধনী (১৯৯৪) করে পাঁচ বছর সময়-কালের জন্য শিক্ষক-চিকিৎসকদের নিয়োগ, পদোন্নতির সমস্ত ক্ষমতা পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সংস্থান থেকে অব্যহতি নেওয়া হয়; পরিবর্তে তা সাময়িক ভাবে উক্ত সময়-কালের জন্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে নিয়ে নেওয়া হয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে এড়িয়ে সরাসরি নিয়োগের জন্য। বহু নামী ও ছাত্র-প্রিয় শিক্ষক চাকরি ছেড়ে দেন বা অন্যত্র বদলি হয়ে যান যেখানে শিক্ষকতার কোন পরিসর নেই। পরবর্তী কালে, কয়েক বছর পর প্র্যাকটিসকে ঐচ্ছিক করে দেওয়া হয়।

১৯৯৫ সালে এই পাঁচ বছরের অব্যহতি কাল অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরে শিক্ষক চিকিৎসকদের নিয়োগ, প্রমোশনের বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুপারিশে হতে থাকে। শুরু হয় সরকার ও কমিশনের মধ্যে সংঘাতের পটভূমি, যে আশঙ্কার কথা আমরা প্রতিবেদনের আগেই বলেছি।

এর পরিণতিতে ২০০০ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা আইন (১৯৯০)-র পাঁচ বছরের সাময়িক অব্যাহতি সময়-কালের সংস্থানকে বিধানসভায় আইন সংশোধন করে দশ বছর করা হয়। পরের বছরেই ২০০১ সালে পুনরায় আইন সংশোধন করে তা ১১ বছর করা হয়। পরবর্তীকালে ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুপারিশ মাফিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলে। পুনরায় ২০০৩ সালে ১১ বছরের অব্যাহতি সময়-কালকে ১৫ বছর, ২০০৫ সালে ১৫ বছরের অব্যাহতি সময়-কালকে ১৮ বছর করা হয়। এবং তারও পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে অব্যাহতি বছরের সংখ্যার সংশোধনী চলতেই থাকে। ১৮  ২০  ২১  ২৬। অর্থাৎ, ১৯৯০ সালে চালু হওয়া পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা আইন পুনঃপুন সংশোধনীর ফলে শিক্ষক-চিকিৎসকদের নিয়োগ, পদন্নতির সমস্ত ক্ষমতা পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সংস্থান থেকে অব্যহতি সময়-কালের পরিসীমা দফায় দফায় মোট ২৬ বছর বাড়িয়ে ২০১৬ অবধি করে নেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভায় কেবলমাত্র সংখ্যা-গরিষ্ঠতার জোরে, স্বাস্থ্য সেবা আইনের সাময়িক সময়-কালের একটি বৎসর সংখ্যাকে, বারংবার সংশোধন করে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মত অতীব গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থাকে অকার্যকরী ঠুটো জগন্নাথে পরিণত করা হয়। ১৯৯০ থেকে ২০১৪ এই ২৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা আইনে সর্ব মোট ১১ বার সংশোধন করা হয়েছে; তার মধ্যে ৯ বার প্রধানতঃ বৎসর সংখ্যা সংশোধন করা হয়েছে। এই ভাবে ২০১১ অবধি কমিশনকে এড়িয়ে শিক্ষক-চিকিৎসকদের সরাসরি বিভাগীয় নিয়োগ চলতে থাকে।

২০১১ তে সরকার পরিবর্তনের পরে ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য আইনের পুনরায় সংশোধন করা হয়। তবে এবার বছরের সংখ্যা নয়, পাকাপাকিভাবে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ভুমিকার অবলুপ্তি ঘটে, সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গ হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এই সংস্থাটির নাম প্রতিস্থাপিত হয়।

শুধুমাত্র মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস নয়, স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য বিভাগ যথা পশ্চিমবঙ্গ হেলথ সার্ভিস, জনস্বাস্থ্য প্রশাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরিধিকে ধীরে ধীরে হ্রাস করে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে তৎকালীন সরকার পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পরামর্শ গ্রহণ থেকে অব্যাহতি) রেগুলেশন, ২০০৮ চালু করে। এই রেগুলেশন বলে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের বেশ কিছু ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা থেকে অব্যহতি নেওয়া হয়। প্রধানতঃ গ্রুপ ডি কর্মচারী নিয়োগের কথা সেই রেগুলেশনে ছিল। পরবর্তী কালে ক্রমান্বয়ে ২০০৯, ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পরামর্শ গ্রহণ থেকে অব্যাহতি) রেগুলেশন, ২০০৮ কে উপর্যুপরি সংশোধন করে রাজ্যের স্বাস্থ্য সেবার নিয়োগ ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ রূপে রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ভুমিকার বিলুপ্তি ঘটে। ২০১৪ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের যাবতীয় নিয়োগ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের দ্বারা।

আমাদের বক্তব্য

স্বীকৃত সাংবিধানিক সংস্থাকে অকার্যকরী করে, সরাসরি বিভাগীয় নিয়োগের যে প্রথা গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলছে, তার বিষময় প্রতিফল আমরা প্রত্যক্ষ করছি।

২০০০ সালে আইন সংশোধন করে বিভাগীয় নিয়োগ হয় আর-এম-ও বা ডেমনষ্ট্রেটর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। বেসরকারি কর্পোরেট ক্ষেত্রের মত ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউ প্রথা চালু হয়। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবল স্বজন পোষণ ও দুর্নীতি হয়, নানান বিতর্কের জন্ম হয়। সরকার কর্তৃক প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সাংবিধানিক সংস্থাকে অকার্যকরী করে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে গণ হারে নিয়োগের যে প্রথা সেদিন চালু হয়, তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে, আর বর্তমান সময়ে তা এক বিশাল বিষবৃক্ষের আকার ধারণ করছে। সদ্য পরাজিত তৃণমূল সরকারের আমলে তা এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছিলো। পশ্চিমবঙ্গ হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের গঠন, কর্তৃত্ব, পরিচালনা সবই শাসক রাজনৈতিক দলের অঙ্গুলিহেলনে চলে। বোর্ডের সমস্ত পদে সরকারের মনোনীত বা ইচ্ছাধীন লোকজনকে বসানো হয়। সরকার গঠিত ও নিয়ন্ত্রিত এই বোর্ডের কোন রূপ স্বায়ত্তশাসন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতার সংস্থান নেই। ফলতঃ, বর্তমানে রাজ্যে নতুন সরকার এলেও নিয়োগ ক্ষেত্রে বেনিয়মি, বেআইনি, স্বজন পোষণ ও দুর্নীতির আশঙ্কা ও তার অনুকূল ভিত্তিভূমি থেকেই যাচ্ছে।

শেষ বিচারে দেখা যায়, পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে এড়িয়ে চিকিৎসকদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বারবার অনিয়ম, দুর্নীতি, দলবাজি ও স্বজন পোষণ হয়েছে। আর হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড চালু করে সেই অনিয়মকে ও শাসক দলের কর্তৃত্বকেই চিরস্থায়ী করার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

এই অনিয়মের নিয়ম যে রাজনৈতিক দলই সরকারে আসীন হয়েছে, সেই দলই নিজের দলের বা দলীয় অনুগ্ৰহভাজনদের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই প্রথার সমূলে উৎপাটন প্রয়োজন।

আমাদের সুনির্দিষ্ট ও দ্বিধাহীন বক্তব্য স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্ত নিয়োগ রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে করতে হবে। প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের বহু প্রতীক্ষিত ও অভিলাষিত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা পাক।

১৫ জুন ২০২৬

আলোচ্য আইন ও নিয়মাবলী সমূহঃ
1. The West Bengal State Health Service Act, 1990, Principle Act
2. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 1990
3. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 1994
4. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2000
5. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2001
6. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2003
7. The West Bengal State Health Service (Second Amendment) Act, 2003
8. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2005
9. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2007
10. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2008
11. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2010
12. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2011
13. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2013
14. The West Bengal State Health Service (Amendment) Act, 2014
15. The West Bengal Public Service Commission (Exemption from Consultation) Regulations, 2008
16. The West Bengal Public Service Commission (Exemption from Consultation) Regulations, 2008,(Amendment, 2009)
17. The West Bengal Public Service Commission (Exemption from Consultation) Regulations, 2008,(Amendment, 2012)
18. The West Bengal Public Service Commission (Exemption from Consultation) Regulations, 2008,(Amendment, 2013)
19. The West Bengal Public Service Commission (Exemption from Consultation) Regulations, 2008,(Amendment, 2014)
20. The West Bengal Public Service Commission (Exemption from Consultation) Regulations, 2008,(Amendment, 2015)
21. The West Bengal Public Service Commission (Exemption from Consultation) Regulations, 2008,(Amendment, 2016)

উপরিউক্ত রচনার মূল পাঠের মধ্যে প্রাসঙ্গিক স্থানে লিঙ্ক দেওয়া আছে। ক্লিক করে নির্দিষ্ট নথিগুলি পাঠ করা যাবে।

প্রস্তুতি: ডা হীরালাল কোনার এবং অধ্যাপক অর্ণব সেনগুপ্ত

PrevPreviousঅবিলম্বে NEET SS ২০২৫ কাউন্সেলিং শুরু করতে হবে।
Nextপুরুষের শুক্রাণু কম হলেও কীভাবে IUI এর সাফল্যের হার বাড়ানো যাবে?Next
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

ছত্তিশগড় শ্রমিক আন্দোলন ও শহীদ শংকর গুহ নিয়োগী স্মরণ

September 19, 2026 No Comments

বই প্রকাশ (তিনটি) ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন  Book release(two books) and Documentary film show স্থান : রামমোহন লাইব্রেরী (সুকিয়া স্ট্রীট ও এ.পি.সি. রোডের সংযোগ স্থল)  ২৮

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ চাই। ভয়মুক্ত ক্যাম্পাস চাই।

September 19, 2026 No Comments

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এন আর এস মেডিক্যাল কলেজের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের লড়াইয়ের প্রতি সংহতি জানাই। একটি মেডিক্যাল কলেজ শুধু ক্লাস, পরীক্ষা, হোস্টেল আর হাসপাতালের

মুক্তচিন্তার বিভিন্ন সংকট – রাষ্ট্র, সাম্প্রদায়িকতা এবং জনসমাজ

September 19, 2026 No Comments

আমার আলোচনা শুরু করছি প্যালেস্তানিদের ওপরে ইহুদিদের গত ৩ বছর ধরে লাগাতার ভয়ঙ্কর আক্রমণের কাহিনি দিয়ে। লিলি এবার্ট (জন্ম ১৯২৩) যে খুব পরিচিত নাম এমনটা

সিরাত: জীবন খুঁজে দেয়

September 18, 2026 No Comments

ইসলাম বলে সিরাত হল সেতু। নরক আর স্বর্গের মাঝখানে।সিরাত পেরিয়ে পৌঁছোতে হয় সেই স্বর্গীয় তপোবনে।কিন্তু স্বর্গ কোথায়? ছবির শুরুতেই পরিচালক টাইটেল কার্ডে নামের নিচেই লিখে

চরিত্রহননই যাদের একমাত্র কাজ

September 18, 2026 1 Comment

মাননীয় তথাগত রায় জানেন না এরকম জিনিস খুব কম আছে। যা কেউ জানে না সে সম্পর্কেও তার জ্ঞান অসাধারণ। এবং, সবসময় বলেন খুব জোর দিয়ে

সাম্প্রতিক পোস্ট

ছত্তিশগড় শ্রমিক আন্দোলন ও শহীদ শংকর গুহ নিয়োগী স্মরণ

Doctors' Dialogue September 19, 2026

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ চাই। ভয়মুক্ত ক্যাম্পাস চাই।

West Bengal Junior Doctors Front September 19, 2026

মুক্তচিন্তার বিভিন্ন সংকট – রাষ্ট্র, সাম্প্রদায়িকতা এবং জনসমাজ

Dr. Jayanta Bhattacharya September 19, 2026

সিরাত: জীবন খুঁজে দেয়

Sanjoy Mukherjee September 18, 2026

চরিত্রহননই যাদের একমাত্র কাজ

Dr. Amit Pan September 18, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

677744
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]