মন্ত্রীমশাই জানিয়েছেন, ‘পড়ুয়াদের জন্য ডিমই একমাত্র পুষ্টি নয়…..’। শাহী বাৎ বা ঠিক কথা, ডিম খেতেই হবে এরকম কথা কোথায় লেখা আছে? কতো মানুষের তো ডিমে অ্যালার্জি আছে, তারা কী করে? আমিই তো বহুদিন ডিম খাইনি কিছু কারণে, বেঁচে তো আছি। কোলকাতার একটা বেশ নামী স্কুলে, মিড ডে মিল নয় রীতিমতো আলাদা মূল্য নিয়ে যে জলখাবার ও মধ্যাহ্নভোজন দেওয়া হয়, সেখানেও তো ডিম কেন কোনো আমিষ খাদ্যই দেওয়া হয় না, আজ নয় বেশ কয়েক বছর ধরে, কেউ তো কোনো অভিযোগ করেনি। আর, মিড ডে মিলে এতোদিন কতো ডিম দেওয়া হতো? সপ্তাহে একদিন একটি!! মাসে চারটে ডিম খেয়েই দারুণ পুষ্টি হয়ে যেতো? নিশ্চয়ই না।
তাহলে,মন্ত্রীমশাই এর কথায় আপত্তিটা কোথায়? না, যা বলেছেন তাতে আপত্তি নেই, কিন্তু যা বলেন নি, সেখানেই সংশয় আছে। ডিম না খেলে চলবে না কেন, কিন্তু ডিম কেন খাওয়া হবে না বা ডিম কেন বাদ সে সম্পর্কে কিছু বলেছেন কি? বা, অন্য কেউও কিছু বলেছেন? মনে হয় না, কারণ এর উত্তরটা এখানকার কেউ দিতে পারবেন না।
ইদানীং কালে একটা তত্ত্ব খুবই শোনা যাচ্ছে, সেটা হলো ‘ডাবল ইঞ্জিনের’। কিন্তু দুটো ইঞ্জিনের কাজ কি সব সময়ে synergistic হবে? যদি double engine পরস্পরের বিপরীতে কাজ করে, তাহলে কী হবে? সেই সব বিপত্তি এড়াতে ‘ডাবল ইঞ্জিনের’ একটিকেই মূল চালিকাশক্তি হতে হবে, অন্যটির ভূমিকা হবে ‘সাপোর্টিভ’। যেমন, ‘হিমালয়ান রেলওয়েজে’, প্রথম ইঞ্জিন টেনে নিয়ে যায়, অন্যটি ঠেলে সাহায্য করে।
মুশকিলটা এখানেই যে মূল ইঞ্জিন একটাই, অন্যটা ‘সাপোর্টিভ’ মাত্র! সিদ্ধান্ত যে কেন নেওয়া হয়েছে তা এখানকার কারুর পক্ষে বলা সম্ভব নয়। শুধু শুধু মানুষকে বিব্রত করার মানে হয় না।
ধরেই নিন দুটোর মধ্যে একটা ইঞ্জিন হলো dominant trait আর একটা recessive, একটু না হয় বেশিই dominant!! কী আর করা যাবে? দেখছেন না, ইদানীং কালে ডিম খাওয়ার থেকে ছোঁড়ার দিকেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে?! এতো ডিম নাহলে যাবে কোথায়? কিছু দিন পরে হয়তো ডিসকাস /শট পুট/বর্শা ছোঁড়ার মতো ‘ডিম ছোঁড়ার প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় স্তরে!!
কী আর করা যাবে? সবই ‘প্যার কে সাইড এফেক্টস’ এর মতো ‘ডাবল ইঞ্জিন কে………’









