ইতিমধ্যেই আমরা লক্ষ্য করেছি, বিজেপির রাজ্যত্বে কলেজ ক্যাম্পাসে তৃণমূল আমলের মতোই সেই থ্রেট কালচার ফিরে এসেছে। ক্ষমতায় আসার মাত্র দু’মাসের মধ্যেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আবারও সেই র্যাগিং ও থ্রেট কালচার মাথাচাড়া দিয়েছে—এবার আরএসএস-পন্থী NMO-র নেতাদের হাত ধরে।
সম্প্রতি কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেণী, পৃথ্বীশ সরকার, প্রায় আট বছরের জুনিয়র এক প্রথম বর্ষের এমবিবিএস ছাত্রকে ফোন করে হুমকি দেয়। পৃথ্বীশ ওই ছাত্রটিকে “বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে দেওয়ার” হুমকি দেয়। ওই ছাত্রটির অপরাধ কী? NMO এর সাথে যুক্ত এক সহপাঠীকে, সে প্রশ্ন করে, NMO-ABVP বারুইপুরের ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে নীরব কেন ?
এটাই কি তবে বিজেপি সরকারের আমলে গণতন্ত্রের হাল ? অভয়া আন্দোলনের সময়ও আমরা দেখেছি, তৎকালীন শাসকদল কীভাবে আন্দোলনরত জুনিয়র ও সিনিয়র চিকিৎসকদের ওপর একই ধরনের থ্রেট কালচার চালিয়েছিল। তবে কি সেই অগণতান্ত্রিক শাসনের আদৌ কোনো বদল ঘটেছে? আজও বারুইপুরের ঘটনায় শাসক দল কেন নীরব, সেই প্রশ্ন করায় প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে NMO-র পক্ষ থেকে হুমকি ও র্যাগিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। আরএসএস-বিজেপি কি তাদের নতুন দোসর, অর্থাৎ তথাকথিত “ভালো তৃণমূল”-কে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে শাসকের দমন-নীতির নতুন অধ্যায় রচনা করতে চাইছে?
গত পরশু, MCDSA বারুইপুরের ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল। মিছিলের পর প্রথম বর্ষের কয়েকজন ছাত্রের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই আলোচনার সময় MCDSA-র এক প্রথম বর্ষের ছাত্র, NMO-র এক প্রথম বর্ষের ছাত্রের কাছে বারুইপুরের ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে NMO-র নীরবতার কারণ জানতে চান। তার কিছুক্ষণ পরেই, NMO নেতা পৃথ্বীশ সরকার MCDSA এর সেই ছাত্র কে ফোন করে হুমকি দেয়। পৃথ্বীশ সেই প্রথম বর্ষের ছাত্রকে হুমকি দেয় যে, NMO-ঘনিষ্ঠ ওই প্রথম বর্ষের ছাত্রকে ‘হয়রানি’ করার জন্যে, তাঁর “বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হবে”।
বারুইপুরের ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে NMO-র নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি তবে ‘হয়রানি’? নাকি কেবলমাত্র শাসক দলকে প্রশ্ন করার জন্যেই এই হুমকি ?
MCDSA ক্যাম্পাসে ABVP-NMO-র এই চলমান থ্রেট কালচার কে তীব্র নিন্দা জানায়। এই ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আমাদের চুপ করিয়ে রাখা যাবে না।
ABVP-NMO-র থ্রেট কালচার নিপাত যাক!
গণতন্ত্রের জয় হোক !
মেডিকাল কলেজ ডেমোক্রাটিক স্টুডেন্টস অ্যাসোশিয়েসন











