একটা মৃত গণ-এর হাতে, মর্গে থিতু থ্যাঁতলা দেহ
আরেকটিরও দিন ঘনালো, গুলি খেয়ে মরলো সে-ও
সোল্লাসে দেশ হাততালি দেয়,
লাশ হোক ছিলো সবার দাবী ,
মোকদ্দমার জাল জড়িয়ে বিচার কেমন খায় যে খাবি
সবাই জানে,
আদৌ বিচার হবে কিনা তাতেও লাগে যে সন্দেহ,
তার চেয়ে তো এমন ভাবে মারাই শ্রেয়..
সেটাই ভাবেন বাকির সাথে শিক্ষিত আর দেশ-মাথারা
‘কীটের মতো মারতে হবে, উপায় তো নেই আর এ ছাড়া,
একটা দুটো মারলে সে ভয় বুঝবে যত মগজ ঘেয়ো,
তবেই হবে খুব নিরাপদ এ রাজ্যটার অদূর ভাবী,
কাঠগড়াতে তুললে ওদের হতো না ছাই কোনো লাভই..’
কিন্তু এতে রাষ্ট্র পেলেন আইন ভাঙার দরাজ চাবি।
অপরাধী ঢিট করানো এনকাউন্টার বা বুলডোজার,
হয়তো ত্বরিৎ দেয় সমাধান ,
নেই প্রয়োজন বিচার খোঁজার,
আমরা সবাই হেব্বি খুশি, বিবেক পুষি হিংস্র খাঁচায়
করবি যেমন ভুগবি তেমন ,
দেখ রে কে বাপ এবার বাঁচায়,
এমনতর পোস্ট দিয়ে যাই দেশপ্রেমের আত্মশ্লাঘায়
এমন ভাবেই শেষ করা চাই যেসব কিছু ভীষণ রাগায়..
ধনীর ছেলে যে টিন-এজার পাঁচটা মানুষ পথে পিষে,
জামিন পেয়ে নেচেকুঁদে মূল সমাজে গেলো মিশে
জজ আর পুলিশ সবাই জানেন
কী সাজা হয় মানুষ-খুনে,
এবং জানি আমরা সবাই সাক্ষী বিরূপ কিসের গুনে,
তামাম দেশে ধনীর হাতে মরছে গরীব এমন কত,
এনকাউন্টার উচ্চারণেও ঘরে পুলিশ হাজির হতো।
এমন আরো হাজার হাজার ক্রাইম ঘটে রোজই দেশে
এনকাউন্টার বা বুলডোজার, দুটোই কিন্তু খুব একপেশে,
রাষ্ট্র কিসে পান সুবিধা,
বিরোধে নেই ধন-ক্ষমতা,
সেই হিসেবে এদের প্রয়োগ, পক্ষবিহীন নেই সমতা,
এই ঘটনাই ঘটিয়ে কোনো ধনীর দুলাল জামিন পেতো,
বাচ্চা যদি গরীব ঘরের, মা আর বাবা সমঝে যেতো,
আসিফা বা মনীষাকে মনে আছে এখন কারো,
উন্নাওএর সেই মেয়েটির কথা
বলো কি কেউ একটি বারও?
কখনো কি কেউ ভেবেছো, এনকাউন্টার হয়নি কেন…
কারণ বলা বারণ কারণ..
আমিও জানি, তুমিও জানো।
এনকাউন্টার নয় সমাধান, আজ বাদে কাল পুলিশ-গুলি,
চলতে পারে তাদের বুকেও, যাদের মুখে বিরোধ-বুলি,
বিচার চেয়ে তুললে দাবি, যাদের হাতে রাষ্ট্র ধৃত,
তোমার দিকে নল ঘুরিয়ে বলতে পারেন হেসে স্মিত,
প্রথম যখন ঘটিয়েছিলাম, তখন কিছুই বলোনি তো?
হয়তো তখন বুঝবে যে আজ কোন আগুনে ঢাললে ঘৃত।











