আচমকাই গুরুপ্রতিম এক অগ্রজ ব্রেখট-এর একখানা কবিতা পড়তে দিলেন। কবিতা বলতে, মূল কবিতার ইংরেজি অনুবাদ। ১৯৩৪ সালে লেখা কবিতা, সুতরাং বলাই যায় যে আমাকে কবিতা পাঠানোটা তাঁর তরফে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর সঙ্গে সংযোগহীন “অরাজনৈতিক” সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের বেশী কিছু নয়।
কবিতাটা দিব্যি লাগল, তাই নিজের মতো করে বাংলা করে নিয়ে আপনাদের পড়তে দিলাম। আবারও, বলাই বাহুল্য, কবিতার সঙ্গে তো বটেই, এই অনুবাদের সঙ্গেও দেশ কিংবা রাজ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর তিলমাত্র যোগাযোগ নেই।
অকবির হাতে ভাবানুবাদ – সুতরাং যাকে বলে, পত্রদ্বারা ইয়ের ত্রুটি মার্জনীয়।
😊😊
যুদ্ধের সময়
সান কার্লোর ইতালীয় কারাগারের এক কুঠুরি
মাতাল, চোর আর বন্দী সেনায় ভরা
জনৈক সমাজতান্ত্রিক সৈনিক, কারাগারের দেওয়ালে, অনপনেয় এক পেন্সিল দিয়ে খোদাই করে লিখে রাখল –
লেনিন দীর্ঘজীবী হোন!
আধা-অন্ধকার প্রকোষ্ঠের দেওয়ালে, অনেক উঁচুতে, কথাগুলো একনজরে চোখেই পড়ে না প্রায়
কিন্তু বড় বড় অক্ষরে লেখা।
লেখাটা প্রহরীদের চোখে পড়তেই রঙমিস্ত্রির ডাক পড়ল। চুনের বালতি হাতে রঙমিস্ত্রি হাজির।
লম্বা তুলি দিয়ে সে বিপজ্জনক অক্ষরগুলোর উপর সাদা পোঁচ চাপিয়ে দিলো।
কিন্তু তুলি সে বোলালো শুধুই অক্ষরগুলোর উপর,
সুতরাং কারাগারের দেওয়ালে, অনেক উঁচুতে, সাদা খড়ির অক্ষরে জ্বলজ্বল করতে লাগল –
লেনিন দীর্ঘজীবী হোন!
আরও একজন রংমিস্ত্রি এলো। মোটা তুলি দিয়ে পুরো অংশটায় সাদা রঙ করে দিল সে।
লেখাটুকু হারিয়ে গেল, বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য।
কিন্তু চুন শুকিয়ে যেতেই
আস্তরণের নীচ থেকে লেখাটুকু ফুটে উঠল –
লেনিন দীর্ঘজীবী হোন!
এবারে ডাক পড়ল রাজমিস্ত্রির।
এক ঘণ্টা ধরে একটা একটা করে
অক্ষরের উপর ছেনি ঠুকে ঠুকে সে
শব্দগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।
কাজ শেষ হয়ে গেলে, রঙহীন বিবর্ণ এখন, উঁচু দেওয়ালের গায়ে,
গভীর হয়ে খোদাই হয়ে রইল
অজেয় অক্ষরমালা –
লেনিন দীর্ঘজীবী হোন!
এবারে, সৈনিক বলল, দেওয়ালটাই ভেঙে ফেলা যাক তবে।











