স্বাস্থ্যমন্ত্রী যদি সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন সত্যিই করতে চান, এই ঢপের স্কিম সব বন্ধ করুন। স্বাস্থ্য সাথী মমতা ব্যানার্জির মস্তিষ্কপ্রসূত পয়সা মারার এক অভিনব পন্থা। সেটাকেই আপনারা এই নাম ওই নাম দিয়ে রেখেছেন। বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশনের পয়সা সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কেন হবে? সরকারি হাসপাতালে যখন সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে, আপনি দরকারে সেখানে ম্যান পাওয়ার বাড়ান। আজ বাইরে একটা পেসমেকার অপারেশনের জন্য আপনি ডিভাইসের দাম গুনছেন, অপারেশন সংক্রান্ত হাসপাতালের বিল মেটাচ্ছেন, ডাক্তারের ফিস দিচ্ছেন – কেন? আপনার কলকাতায় কি ক্যাথল্যাব কম পড়েছে? আপনার রাজ্যেরই বোকাসোকা লোক সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দিনের পর দিন টেম্পোরারি পেসমেকার লাগানো ঠ্যাং নিয়ে ডিভাইসের অপেক্ষা করছে, দিনের শেষে একখানা সিঙ্গেল চেম্বার পেসমেকার লাগিয়ে বাড়ি যাচ্ছে (শুনছি নাকি ওই ভারতীয় ব্ল্যাকলিস্টেড কোম্পানির পেসমেকার আবার ফিরে আসতে চলেছে, তাহলে তো সোনায় সোহাগা)। কিন্তু আপনারই রাজ্যের অন্য কোনো লোক কোনো বেসরকারি ঝাঁ চকচকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দিনের দিন দামি বিদেশি কোম্পানির ডুয়াল চেম্বার পেসমেকার লাগিয়ে বাড়ি যাচ্ছে। এই বৈষম্য কেন?
আপনি সরকারি হাসপাতালে লোক বাড়ান, পরিকাঠামো বাড়ান। রোগীরা সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা পাবে। যার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর আছে নিজের পকেট থেকে দিয়ে করবে। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যে জনগণের ট্যাক্সের টাকা আপনারা জলের মতো বইয়ে দিচ্ছেন, সেই টাকা স্তরে স্তরে ভাগ হয়ে যাচ্ছে – হাসপাতাল, ডাক্তার, গুচ্ছের দালাল, এম্বুলেন্স ড্রাইভার, কোয়াক ইত্যাদি প্রভৃতি। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেই লভ্যাংশের কিছু অংশ বড় বড় স্বাস্থ্যক্ষেত্রের মাথাদের পকেটেও যাচ্ছে, নচেৎ এই স্কিম (পড়ুন স্ক্যাম) এতদিন ধরে চলতো না। গোটা রাজ্যটা পেশেন্ট ধরার দালালের কল হয়ে গেছে, এটাই এখন একটা ব্যবসা। এই ব্যবসায় এখন অপারেশন হওয়া রোগীর অপারেশনটা আদৌ প্রয়োজন ছিল কিনা সেটা নির্ণয় করাই মুশকিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যদি সত্যিই সৎসাহস থাকে, এই দুর্নীতির গোড়ায় আঘাত করুন। রোগী পরিষেবা সরকারি খরচে শুধু সরকারি হাসপাতালেই হবে, সেখানে সরকারি চিকিৎসকরাই পরিষেবা দেবেন, কোনো বাইরের ভাড়া করা চিকিৎসক নন। যদি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে স্বচ্ছতা চান, এটা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
যে টাকা আপনি এসব স্কিমে খরচ করছেন, সেই খরচের বহর দেখিয়ে ভোট চাইছেন, আর দালালদের চারণভূমিতে পরিণত করছেন পশ্চিমবঙ্গকে – সেই টাকা দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়া যায়।












খুব জরুরি লেখা। প্রচার হওয়া দরকার