লাল জামা, Shining টাক, Threat Culture নিপাত যাক’
অভয়া আন্দোলনের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত স্লোগান হয়ে উঠেছিল এইটা, এর কেন্দ্রে ছিল কুখ্যাত থ্রেট সিন্ডিকেট এর অন্যতম কিংপিন অভীক দে। লাল জামা পরে ৯ অগস্ট সকাল থেকে আরজি করে উপস্থিত ছিল এই অভীক দে, সেমিনার রুমের ভিতরে তাঁর উপস্থিতির বহু ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছিল। এমনকি পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখার্জি (অধুনা সাসপেন্ডেড) সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁকে Fingerprint Expert বলে দাবি করেন,যা আরও প্রশ্নের জন্ম দেয় জনমানসে। দিনের পর দিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ সহ পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে তাঁর বিরুদ্ধে Threat Culture চালানো, প্রভাব খাটানো এবং ছাত্রছাত্রী ও চিকিৎসকদের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ সামনে আসে।
এরপর সামনে আসে আরও ভয়াবহ অভিযোগ। করোনা আবহে প্রয়োজনীয় Rural Service না করেই মিথ্যে বা প্রশ্নবিদ্ধ নথির মাধ্যমে সেই Service Quota ব্যবহার করে সার্জারি বিভাগের Postgraduate Seat হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভয়া আন্দোলনের অভিঘাতে এই বিষয়েও তদন্ত হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সামনে এলেও তা কার্যকর হয়নি। দ্বিতীয় দফার তদন্তে বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে তাঁর কাজ করার দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি ও বাস্তব কাজের প্রমাণ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মীদের বক্তব্যও তদন্তে বিবেচিত হয়।
আমরা বর্তমান সরকারের কাছে ২৪ সেপ্টেম্বর দাবি সনদ পেশ করার সময়ও স্পষ্টভাবে দাবি জানিয়েছিলাম, আরজি কর কাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সমস্ত ফাইল খুলে দেখতে হবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়ীদের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তার দু’দিন পরেই এল স্বাস্থ্য দফতরের নোটিশ, অভীক দে-র Trainee Reserve (TR) Post বাতিল করা হল।
কিন্তু এখানেই প্রশ্ন শেষ নয়, বরং এখান থেকেই আরও বড় প্রশ্নের শুরু। যে Rural Service-এর নথি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন চিকিৎসক Service Quota-য় স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই ভিত্তিই যদি তদন্তে অগ্রহণযোগ্য বা অসত্য বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে সেই Service Quota Admission-এর বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে না কেন? TR Post বাতিল হওয়া সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কিন্তু সেই TR-এর ভিত্তিতে পাওয়া PG Seat-এর বৈধতা নিয়েও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আর যে সমস্ত আধিকারিক, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের নথি, অনুমোদন ও ছাড়পত্রের ভিত্তিতে এই সুবিধা তৈরি হয়েছিল, তাঁদের সকলকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
এর পাশাপাশি রয়েছে West Bengal Medical Council-এর প্রশ্ন। ব্যাপক ছাপ্পা, ভোট রিগিং ও অনিয়মের অভিযোগে যে কাউন্সিল গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ এবং যার বৈধতা নিয়ে আদালতে আইনি লড়াইও চলছে, সেই কাউন্সিলের প্যানেলেও জ্বলজ্বল করেছে অভীক দে-র নাম। একটি চিকিৎসা নিয়ন্ত্রক সংস্থাই যদি প্রভাব, অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ন্যায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে কীভাবে?
WBJDF-এর দাবি
১. অভীক দে-র Service Quota-য় PG Admission-এর বৈধতা নিয়ে অবিলম্বে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রকাশ করতে হবে।
২. TR বাতিলের সঙ্গে Service Quota Admission-এর সম্পর্ক স্পষ্ট করে লিখিত নির্দেশিকা প্রকাশ করতে হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, সুপারিশ এবং তার ভিত্তিতে গৃহীত পদক্ষেপ জনসমক্ষে আনতে হবে।
৪. যে সমস্ত আধিকারিক, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের নথি, অনুমোদন ও ছাড়পত্রের ভিত্তিতে এই Service Quota সুবিধা তৈরি হয়েছিল, তাঁদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
৫. West Bengal Medical Council-কে ঘিরে ওঠা দুর্নীতি, অনিয়ম ও নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন, স্বচ্ছ ও সময়বদ্ধ তদন্ত করতে হবে।
৬. কোনও রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা যেন চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
Threat Culture-এর বিরুদ্ধে লড়াই মানে শুধু একজন বা কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নয়। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রভাব, পক্ষপাত এবং প্রশাসনিক প্রশ্রয়ের যে কাঠামো এই সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখে, তারও অবসান প্রয়োজন।
আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।
আমরা কারও বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চাই না। আমরা চাই একই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য হোক। যদি নিয়ম ভাঙা হয়ে থাকে, ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোন, ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি প্রশাসনিক অনিয়ম হয়ে থাকে, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আর যদি কোনও অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করে দিতে হবে। কারও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয় নয়, প্রমাণ, নিয়ম ও আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হোক।
Threat Culture নিপাত যাক।
প্রভাবের রাজনীতি নিপাত যাক।
স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হোক।











