১৮৮৫ সালে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস তৈরী হয় – একথা এমনকি ডিপ-স্টেটের পে-রোলে থাকা ইতিহাসবিদরাও আমাদের জানতে দিয়েছিলেন।
ঘটনা এতই পুরোনো যে এমনকি মোহনদাসজিও তখন প্রাপ্তবয়স্ক হননি – আর জওহরলালের জন্ম এর চার বছর পরে – সুতরাং, যতই রাগ করুন, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের জন্মের জন্য গান্ধী-নেহরু বা গান্ধী-পরিবারকে দায়ী করাটা অনুচিত হবে।
ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেসের জন্ম অবশ্য ১৯৩৪ সালে। সময়ের দিক থেকেই মানানসই হলেও, এর পেছনেও গান্ধী-নেহরুর দায় নেই। তবে এই কংগ্রেসের নামটা আমি আগে শুনিনি। প্রথম যখন শুনলাম তখন ভেবেছিলাম, কংগ্রেসের জন্মকালে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সব হাইফাই মানুষ – তাই রাস্তায় নেমে আন্দোলনের জন্য বোধহয় আলাদা একটা ডিভিশন তৈরী হয়েছিল। তার পরে অবশ্য জানলাম, আরও অনেক কিছুর মতো এই ব্যাপারেও আমি ভুল জানতাম। ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেসের কাজ, রাস্তাঘাট কীভাবে তৈরী হওয়া উচিত সেবিষয়ে মতামত দেওয়া।
যেমন, ছবি বা দেওয়াল রঙ করার রঙ দিয়ে রাস্তায় রঙ করা যায় না – বা নির্দিষ্ট কিছু রঙের বাইরে রাস্তায় আলটপকা রঙ করে দেওয়া যায় না – এসব মূল্যবান পরামর্শ ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেস দিয়ে থাকে।
কিন্তু ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেস যে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস নয়, সুতরাং তাদের মতামত যে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার নয় – একথা ম্যাডাম পল জানতেন না।
আবার পূর্বাশ্রমে ফ্যাশন-ডিজাইনার থাকার কারণে তাঁর সম্ভবত ধারণা ছিল যে পরণের শাড়ি ও রাস্তার গাড়ি, উভয়ই দেদার রঙ ভালোবাসে। সে তিনি ভাবতেই পারেন – ভুল ভাবনা তো দোষের কিছু নয় – কিন্তু মুশকিল হলো, এদেশে মন্ত্রীরা ভুল ভাবলে সেটা শুধরে দেবার পরিবর্তে সবাই মিলে ভুলের আগুনে গুছিয়ে হাওয়া দিতে থাকে। এক্ষেত্রেও তা-ই।
কথাটা আত্মপ্রচারের মতো শুনতে লাগবে, তবু বলেই ফেলি। ভুল আমারও হয়, মন্ত্রীরও হয়। তবে আমার ভুল আর মন্ত্রীর ভুলের মধ্যে সামান্যই ফারাক। দুটো মাত্র ফারাক। এক, ভুল ভাবলেও সেটা কাজে পরিণত করার সুযোগ আমার সামান্যই। আর দুই, ভুল ভাবনা থেকে কোনও কাজ করে বসলে তার হ্যাপা আমাকেই সামলাতে হয় (মুশকিল হলো, মন্ত্রীর ভুলের ক্ষেত্রেও হ্যাপাটা সেই আমাদেরই সামলাতে হয়)।
আর হ্যাঁ, নতুন একটা পয়েন্ট – যা এই সরকারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে রেলিভ্যান্ট। মন্ত্রীর ভুল এবং তজ্জনিত গোলমালের পরেও এক পাল পাব্লিক ধেয়ে আসে, যারা সেই ভুল-টা যে আদতে ভালো কাজই ছিল সেই লাইনে হ্যাজ নামাতে।
তো যা-ই হোক, রাস্তা রঙীন হওয়ার দাপটে বাইক এদিক-ওদিক ছিটকে পড়ছে – এ দৃশ্য, খুব সম্ভবত, এআই দ্বারা নির্মিত।
কিন্তু পড়ে যাবার সম্ভাবনাটা বাস্তব।
তবে, রাস্তা-ভর্তি খানাখন্দ নাকি রাস্তায় উজ্জ্বল ও পিছল রঙ, ঠিক কোনটি বাইক-চালকের পতন-সম্ভাবনা বৃদ্ধির অধিকতর প্রাসঙ্গিক কারণ, সে নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু এবিষয়ে আমার কোনও মতই নেই।
যেটা দেখে দুঃখ হলো, সরকার-ঘনিষ্ঠ রাষ্ট্রবাদী সাংবাদিক এই বাজারে বাইক নিয়ে পড়ে পায়ে বড়সড় চোট পেয়েছেন – রঙীন রাস্তায় বাইক চালাতে গিয়ে চোখে সর্ষেফুল দেখছেন – তিনি সেসব কথা ফেসবুকে লিখে পাঁচকান করছেন কেন!! ঘরের কথা তো ঘরেই থাকা ভালো। সমস্যা কিছু হলে, তিনি সরাসরি ম্যাডামকে বললেই ভালো করতেন না?!
তাতে অন্তত, আমাদের মতো আমজনতা, যারা এসব ক্ষেত্রে একেবারেই ‘ইনোসেন্ট বাইস্ট্যান্ডার’, তারাও উপকৃত হতে পারতাম।











