আপনারা কি সুরেন্দ্র সিং চৌধুরীর নাম শুনেছেন? শোনেননি তো? না, না! এই না শোনাটা কোনো অন্যায় নয়। খুব কেউকেটা মানুষ নয় সুরেন্দ্র। এদেশে নামের পাশে স্টার তকমা জোটে তিন শ্রেণির মানুষের – ১. ফিল্ম স্টার, ২. ক্রিকেট স্টার, আর ৩.পলিটিক্যাল স্টার। এই পোড়া দেশে এই তিন ধরনের মানুষ কীর্তিমান নক্ষত্রের স্বীকৃতি পান। বাকিরা সবাই আম আদমি। অথচ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরীর নামটি এই সম্ভাব্য তিন শ্রেণির কোনোটিতেই অন্তর্ভুক্ত নয়। সে চতুর্থ বর্গের নাগরিক। তাহলে তাকে নিয়ে এতো হৈচৈ কেন?
আচ্ছা, নামের জট ছাড়াতে আরও কিছু ক্লু দিই বরং।তারপর দেখুন চিনতে পারেন কিনা?
সুরেন্দ্রর বয়স ২১, নিবাস মধ্য ভারতে, সম্পূর্ণ নিজের তাগিদ থেকে একা হাতে এক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে ভোল পালটে দিয়েছেন একটি আবর্জনায় ভরে ওঠা নদীর …..।
নদীর নাম জানতে চাইছেন? চেষ্টা করুন নদীর নামটা বলতে।
কি বললেন যমুনা? উঁহু! গোদাবরী? কাবেরী? দাঁড়ান। এভাবে দেশের তাবড় তাবড় নদীকে টেনে আনবেন না।আর তা ছাড়া সুরেন্দ্র সিং চৌধুরীর কর্মস্থল হলো মধ্যপ্রদেশ। সেখানে কাবেরী, গোদাবরী আসবে কোথা থেকে? নদীর নাম হলো আজনার। আর এই নদীটিকে সম্পূর্ণ একা হাতে আবর্জনা মুক্ত করে এক অসাধ্য সাধন করেছেন যে সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী তিনি গোটা দুনিয়া জুড়েই পরিচিতি পেয়েছেন…” বিট্টু তাবাহি” নামে। এখন থেকে আমরা সুরেন্দ্রকে বিট্টু নামেই ডাকবো।

সেসব পচে গিয়ে নদী হয়ে উঠেছিল নরকের নামান্তর। এসব দৃশ্য বিট্টুকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল।আর তাই একা হাতে নেমে পড়েছিলেন নদী সাফাইয়ের কাজে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ধরে এই কাজ করে গেছেন বিট্টু। একেবারে প্রথমে তাঁর পরিচিত বন্ধুদের ভেতর থেকে কয়েকজন পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজে তাঁদের মন মজবে কেন? নদীর পূতিগন্ধময় বিষাক্ত পরিবেশ থেকে একে একে সবাই সড়ে গেছে। রয়ে গেছেন শুধু বিট্টু। তিনি হাল ছাড়েননি,হার মানেননি সহজে। যে কঠিন সংকল্প নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছিলেন তা সফল করেই তিনি সাফল্যের হাসি হেসেছেন। আজনার নদী এখন অনেকটাই পরিচ্ছন্নতা ফিরে পেয়েছে। পাশাপাশি বিট্টুর কপালে জুটেছে একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

বিট্টু তাবাহি ওরফে সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী তাই এক নিষ্ঠ মানুষের নাম। এদেশে এমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তরুণ মানুষের দৃষ্টান্ত বিরল শুধু নয় বিরলতম। বিজ্ঞানের ছাত্র বিট্টু এই কাজে তাকে সাহায্য করার জন্য ৩০০০০টাকা ব্যয় করে একটি মেশিন তৈরি করেছিলেন, তবে তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সুতরাং সবটাই নিজের হাতে করা।
বিট্টুর এই প্রচেষ্টার জন্য হল্যান্ডের একটি সংস্থায় চাকরির প্রস্তাব এসেছে। বিট্টু অবশ্য এদেশেই কাজ করতে চান। বিট্টু একটি প্রেরণার উৎস। তাঁকে অনুসরণ করার দায়িত্ব এখন সমগ্র দেশবাসীর। আমরা কি সেই পথে হাঁটতে রাজি? আমাদের অভিনন্দন রইলো সুরেন্দ্র সিং চৌধুরীর প্রতি।
তথ্যসূত্র বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন।














