
এদেশের আপামর জনসাধারণের কাছে দুবেলা দুমুঠো অন্ন হলো প্রধান আহার্য। দক্ষিণী মানুষদের দৈনন্দিন খাবারের পাতে তন্ডুলজাত উপকরণেরই প্রাধান্য। ইডলি,ধোসা,আপ্পাম, ইডিয়াপ্পাম – সবতেই তন্ডুল হি কেবলম্। পাশাপাশি রয়েছে চিত্রান্না, পুলিহোরা,থায়ির সদম…। সবই হলো চালের বাহারি খাদ্য সম্ভার। দক্ষিণের নদী ব- দ্বীপ এলাকায় বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন করা হয়। তামিলনাড়ু , অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা রাজ্যে ধান চাষ অত্যন্ত জনপ্রিয়। এহেন এক পরিস্থিতিতে খরা পীড়িত তেলেঙ্গানা রাজ্যের কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে ধান উৎপাদনের ওপর রাশ টানার অনুরোধ করা হয়েছে কৃষকদের কাছে। বলা বাহুল্য এই আকস্মিক ঘোষণা শুনে তেলেঙ্গানা রাজ্যের কৃষিজীবীদের মধ্যে প্রবল সংশয় জেগেছে। সরকারের পরামর্শ মেনে বিকল্প ফসল চাষের ব্যাপারে কৃষকেরা দ্বিধান্বিত।
প্রশ্ন উঠেছে ,কেন এমন ফরমান জারি করা হয়েছে রাজ্য কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে? আসলে ধান হলো একটি আর্দ্র ফসল, এর জলের চাহিদা অনেকটাই বেশি। উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় জলের জোগান নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। খরার কারণে জলের জোগানে টান পড়ায় ধানের পরিবর্তে কম আর্দ্র ফসল বেছে নেবার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি আধিকারিকরা যাতে জল সম্পদের সাশ্রয় হয়।
ভক্ষ্য ফসলের সাথে সাথে ধান হলো পশুখাদ্যের প্রধান জোগানদার। ধানের খড় গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য। ধানের চাষ বন্ধ করে দেওয়া হলে সুলভ মূল্যে পশুখাদ্যের জোগানে টান পড়বে। সবুজ সতেজ ঘাসে ঢাকা জমিগুলো সব শুকিয়ে বাদামি রঙের হয়ে গেছে। এই অবস্থায় সরকারের তরফে পশুখাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
বানরদের উৎপাত ও পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ কৃষি শ্রমিকের ঘাটতি নতুন ফসল চাষের পথে আরো একটি বড়ো বাধা। রাসায়নিক সারের অত্যধিক মূল্যের কারণে কৃষকদের অনেকেই জৈব কৃষিকে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। অর্গানিক কৃষিতে সড়গড় হয়ে উঠতে সময় লাগবে। এই শূন্যতা পূরণ হবে কী ভাবে? কৃষি অ্যাপ ব্যবহার করতে না পারায় অনেক সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কৃষকরা সরকার ঘোষিত সহযোগী মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে ফসল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এরফলে খরাগ্রস্থ এলাকার কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কৃষকেরা চাইছেন সরকার আরও আন্তরিক ভাবে যেন তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ায় নাহলে এই পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করা সত্যিই খুব কঠিন হবে ।
মৌসুমি বায়ুর দেশ ভারতবর্ষে খরার দাপট বাড়ছে। এদেশের কৃষিব্যবস্থা দীর্ঘ অবহেলার শিকার অথচ দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে এদেশের কৃষি সমাজের গুরুত্ব অপরিসীম। জলের অভাবে আজ ধান চাষ বন্ধ করতে বলা হচ্ছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল, ঘোরালো হয়ে উঠলে কীভাবে তার মোকাবেলা করা হবে সেই বিষয়ে আরও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটাতে হবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের পেছনে আমাদের ভূমিকাকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি। কোন্ পথে চলবো আমরা? এখন সেটাই দেখার।
তথ্যসূত্র: বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন










