একটা গান শুনলাম। অভয়া আন্দোলনের উপর। গানের মূল কথা হচ্ছে অভয়া আন্দোলনে বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও অভয়ার মায়ের সমালোচনা। শুনলাম বামপন্থীরা এই গান তৈরী করেছেন। আরো শুনলাম তৃণমূলের বিভিন্ন মঞ্চেও এই গান বাজছে। আমার প্রাথমিক অনুভূতি হয়েছে ধরণী দ্বিধা হও।
৯ই আগষ্ট ২০২৪ আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ করে খুন করা হয় তরুণী চিকিৎসককে। নানাজন নানাভাবে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন, কিন্তু অভয়ার মা বাবা প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন গভীর যন্ত্রণা ও শূন্যতা থেকে। একমাত্র মেয়ে ধর্ষিত ও খুন। এর বিচার চাই। বিচার ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বিভিন্নজন চেয়েছেন। কিন্তু অভয়ার মা বাবা একমাত্র মেয়ের করুণ পরিণতির বিচার চেয়ে পথে নেমেছেন। সন্তান হারানো বিশেষ করে একমাত্র সন্তানের মৃত্যু মানবসমাজে সবচেয়ে যন্ত্রণার মধ্যে একটি যন্ত্রণা। খুব মানসিকভাবে শক্ত মানুষও দিনের শেষে রাতে ঘুমোতে যায়, তখন মাথায় একটি বিষয়ই থাকে। সে নেই। নিদ্রাহীন রাতের শেষে আবার পরেরদিনের প্রস্তুতি। মিটিং, মিছিলে দেখতে পায় তাকে। কিন্তু শেষে বুঝতে পারে সে নেই। সবটাই মিথ্যা। সে আর ফিরবে না। শূন্য বুকে ফিরে আসবে না। হাহাকাই সার।
একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর পর দেখা গেছে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন মহিলা উচ্চপদের চাকরী ছেড়েছেন। সকালে উঠে রান্না করেন। দুপুরে সেই খাবার কাকেদের খাওয়ান। ভাবেন তার সন্তান খাচ্ছে। তারপর হবিষ্যি করতেন। এ কখনো স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করাই যায় না।দুঃসহ এক সন্তান হারানোর যন্ত্রণা।
অভয়ার মার যন্ত্রণা আরো আরো গভীরে। মেয়েকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন। সেই মেয়ে হঠাৎ ধর্ষিত হয়ে খুন। শুধু কি তাই তারপর আত্মহত্যার গল্প, তথ্যপ্রমাণ লোপ, মুখ বন্ধ করার জন্য টাকার অফার। শুধু মেয়ের মৃত্যু নয়, সেই মৃত্যু যন্ত্রণার উপর নুন ছড়িয়ে দেওয়া। তারপরও মেয়ের বিচারের দাবীতে পথে নামা। সব প্রতিবাদে পথে নামা, আদালত থেকে সিবিআই সর্বত্র দৌড়ে বেড়ানো। কি করেন নি। যেখানেই প্রতিবাদ সেখানেই তিনি। এবং শাসকদলের ট্রোল ও ক্রোধকে উপেক্ষা করেই ছুটে বেড়িয়েছেন। তারপরও বিচার হয়নি। এক পরাজয়ের যন্ত্রণা! মেয়ে হারানোর শূন্যতা ও যন্ত্রণার সাথে যুক্ত হয় হেরে যাওয়ার যন্ত্রণা। এই নির্বাচনী সময়ে তাই সে আঁকড়ে ধরতে চায় এদেশের সবচেয়ে বৃহৎ দলকে। আমাদের চোখে সে দলটা ফ্যাসিষ্ট। কিন্তু ওনার চোখে, এই দলটাকে ধরে যদি সিবিআইয়ের ফাইলটি খোলা যায়।
আসলে অভয়ার মাকে সমালোচনা করতে হলে ওনার অবস্থাটাও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই বিচার করতে হবে। ওনার যন্ত্রণা হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হবে। তারপর তো “গান” কিংবা বিপ্লবী “পোষ্ট”।
উনি কি কিছু ভুল করছেন না? করতেই পারেন। আমার তা বিচার করার যোগ্যতা ও ক্ষমতা কোনটাই নেই।
আপনি যেটা ভালো বুঝবেন, স্বস্তি পাবেন তাই করুন, অভয়ার মা। আমার কিছু বলার নেই। কারণ আপনার মতো যন্ত্রণা আমি পাইনি। যদি কিছু আপত্তিও থাকে আমি প্রকাশ্যে বলবো না। আমি বা আমরা অভয়ার কান্ডের বিচার চেয়ে পথে থাকবো। ভিন্ন ভাবে হলেও রাজপথে থাকবো।
আপনি আপনার মতো মেয়ের বিচার চেয়ে লড়াই চালিয়ে যান। কখনো যদি প্রয়োজন পড়ে আমাদের বলবেন, পাশে থাকবো।











