কাজের চাপে একটা দিন দেরি হয়ে গেল। লেখাটা কাল দেওয়ার ছিল। স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশাসক মানেই যে স্টিরিওটাইপ ছবিটা ভেসে ওঠে সেটা এমন একটা লোকের ছবি যে ফ্রাস্টেটেড, ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের কলিগদের সাথে নিজের তুলনা করে যে হীনমন্যতায় ভোগে এবং সেই ইনফরিয়ারিটি কমপ্লেক্স এর জন্য যখনই সুযোগ পায়, অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করে, আলগা গাম্ভীর্য বজায় রাখার চেষ্টা করে, রোজগার বাড়ানোর তাগিদে টেবিলের তলা দিয়ে খাম নেয় সাপ্লায়ারদের কাছ থেকে, তার নিজস্ব ইকোসিস্টেম যাতে বজায় থাকে তার তাগিদে সাধারণ প্রশাসন তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছে মাথা নুইয়ে চলে ইত্যাদি ইত্যাদি। এইটা যদি থিসিস হয় তাহলে এন্টিথিসিস হিসেবে মূর্তমান এমন একজন ব্যক্তিত্ব এর কথা বলা যায় যার আজকে মৃত্যুদিন।
ডঃ অনিরুদ্ধ কর স্যার তখন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের পিপি ইউনিট এর মেডিক্যাল অফিসার l জাতীয় জনসংখ্যা দিবসে বিতর্ক সভায় অংশ নেওয়ার জন্য এক তরুণ ছাত্র কে স্যার ডেকে পাঠালেন
স্যারের সাথে প্রথম মোলাকাতের সময় এই অধম লেখক কলেজের ছাত্র, একটু আধটু ডিবেট করে, একটু আধটু এস এফ আই করে। ম্যালথাস বনাম মার্ক্স। এই নিয়ে দুই অসম বয়সী বামপন্থী মেতে গেল। সেই দিন থেকেই অগ্রজের প্রতি অনুজের শ্রদ্ধা ভক্তি ভালোবাসার এক যাত্রাপথের শুরু। স্যার অবসর নেন রাজ্যের সর্বোচ্চ পদ স্বাস্থ্য অধিকর্তা এর পদের দায়িত্ব সুনামের সাথে পালন করার পর।
মাঝের যাত্রা পথে স্যারের সাথে সেই তরুণের অসংখ্যবার মোলাকাত হয়েছে, আলাপ হয়েছে, সংলাপ হয়েছে, এমন কি বামফ্রন্ট বিদায় নেওয়ার প্রেক্ষিতে প্রলাপ ও। কিন্তু সেই শ্রদ্ধা ভক্তি ভালোবাসায় এতটুকু চির ধরে নি। থিসিস, এন্টি থিসিস মিলিয়ে সিনথেসিস হয়েছে।
অবসরের পর নানান কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখার পর এই অসীম সাহসী অকৃতদার মানুষটি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই অবস্থায় সেদিনের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সেই তরুণ দায়িত্ব নিয়েছে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবে এমন একটি জেলার যে চেয়ার একদিন অলংকৃত করেছিলেন স্যার। প্রথম দিন সেই চেয়ারে বসে তাই সেই তরুণের, সময়ের নিয়ম মেনে যার চুলেও পাক ধরেছে তার মেরুদন্ড বেয়ে একটা শিহরণ বয়ে গিয়ে ছিল।
একা একজন মানুষ একটা ক্যাডারের ভাবমূর্তি পাল্টে দিতে পারে এমন অবিশ্বাস্য যাত্রাপথের বহু বহু সাক্ষী আছেন এখনো জীবিত যারা প্রমাণ করে দিতে পারেন যে সেদিনের সেই গুণমুগ্ধ তরুণের এই লেখাটা কোনো অতিশয়োক্তি দোষে দুষ্ট নয়। বহু ব্যবহারে আজ অনুপ্রেরণা শব্দটা এই বাংলায় একটা প্রহসনে পরিনত হয়েছে। তবুও বলতে হয় স্বাস্থ্য প্রশাসক তথা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ক্যাডারের শেষ আইকন সেই মেরুদন্ড টান করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি। লাস্ট অফ দ্যা মোহিক্যান্স। স্যার প্রণাম নেওয়া পছন্দ করতেন না। করতে গেলেই বুকে জড়িয়ে ধরতেন। তাই আজকের দিনে স্যারকে সেলাম। স্যালুট।
২২ আগস্ট ২০২৬











স্যারকে শ্রদ্ধা জানাই, একবার আমার সুযোগ হয়েছিল স্যারের ক্লাস করার, বিষয়টা সম্ভবত TB ছিল, সদ্য পাস করে ও Psychiatry তে একটি ডিপ্লোমা নিয়ে BMOH এর কাজ, হ্যাঁ, ভালবেসেই করতাম, 1 বছর 10 মাসে সে ভালবাসা কমেনি, কিন্তু national health program গুলো, বিশেষত TBটা, মানে RNTCP (তৎকালীন) বড়ো আপদ লাগত, ওইদিনের ক্লাসের পর মনে হওয়া শুরু হয়, এই RNTCP এর মতো organized program আর বোধহয় নেই।
খুবই সুন্দর লেখা। শ্রদ্ধা পূর্ণ 🙏♥️
আগের লেখা, আবারো পড়লাম।এসব লেখা যতবারই পড়ি , আপ্লুতা আর মুগ্ধতা য় ভরে যায়।
হে মহা জীবন,এখনকার দিনে এমন শিক্ষক বা গুরু শিক্ষক আবিলতা স্নেহ সন্মান ভালোবাসা র মনি কোঠায় কোথায় আর এতোটুকুও জায়গা,। যান্ত্রিক দলাইমলাই ছাড়া।