ফিফা ফ্রেন্ডলিতে দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি: খুব ভালো করেই জানা আছে এভাবে ব্যবসায়ী, দালাল আর বিদেশিদের পকেটে গরীব দেশের মানুষের কোটি কোটি টাকা জলাঞ্জলি দিয়ে তিনদিনের ইভেন্ট করে লজ্জাজনক ১৩৮ তম স্থানে থাকা ভারতীয় ফুটবলের কোন উন্নতি সম্ভব নয়। এই টাকায় ফুটবল খেলার মাঠ ও ছোটদের কোচিং ক্যাম্পগুলি ভালো করে তোলা; তাদের উন্নত পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও পুষ্টির ব্যবস্থা; গ্রাম – পাড়া থেকে অল্প বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংগ্রহ করে দায়িত্ব নিয়ে তাদের আবাসিক কোচিং ক্যাম্পে দক্ষ কোচদের অধীনে প্রশিক্ষণ; সাব – জুনিয়র ও জুনিয়র দলগুলিকে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স প্রভৃতি ফুটবলের উন্নত দেশগুলিতে প্রশিক্ষণ ও সেখানকার দলগুলির সঙ্গে খেলার ব্যবস্থা; দেশে নেহরু কাপের মত টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা এবং বিদেশের ভাল টুর্নামেন্টে জাতীয় দল ও ক্লাবগুলিকে খেলতে পাঠানো; দেশের ফুটবল লীগ গুলিকে ভালোভাবে চালানো; দুঃস্থ ফুটবলারদের আর্থিক সহায়তা; ফুটবলারদের চিকিৎসা ও বীমার ব্যবস্থা ইত্যাদি পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই দেশের ফুটবলের মান বাড়ত। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা তো দূরঅস্ত, সদিচ্ছাটুকু কোথায় ভারতীয় ফুটবল দখল করে রাখা রাজনৈতিক নেতা – মন্ত্রী – আমলা – ব্যবসায়ী – কর্মকর্তাদের?
তথাপি বিশ্বের ৪৪ স্থানাধিকারী পানামা, পঞ্চম স্থনাধিকারী ব্রাজিল এবং ২০ স্থানাধিকারী উরুগুয়ের জাতীয় দলের ভারতে আগমন ফুটবলপ্রেমী আমাদের উত্তেজিত করে। প্রথম দলের সব খেলোয়াড় না থাকলেও ভিনিসিয়াস জুনিয়র সহ বেশ কিছু বিশ্বকাপ খেলা দক্ষ খেলোয়াড় ও প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় এবং কোচ হিসাবে কার্লো আনচেলত্তি, দিয়োগো ফোরলানের মত বিশ্ববরেণ্য ফুটবল ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি আমাদের উৎসাহিত করে। তাছাড়া এগুলি অন্তত ফিফা অনুমোদিত খেলা। মেসিকে এনে ঘোরানোর মত ফাটকা নয়। তাই আমরা আগ্রহ নিয়ে দেখি।
ব্যাঙ্গালুরুতে পানামার বিরুদ্ধে খালিদ জামালের ভারত যথেষ্ট ভাল খেলে। অস্ট্রেলিয়াবাসী ভারতীয় অ্যাংলো – ইন্ডিয়ান মায়ের সন্তান দক্ষ স্ট্রাইকার রায়ান উইলিয়ামস একটি সুন্দর গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন। এরপর অতীতের ছায়া, ফর্ম ও ফিটনেস হারানো ভারতের গোলকিপার অধিনায়ক গুরপ্রীত সিং সাঁধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানামার একটি দূর পাল্লার শট থেকে গোল হজম করেন। কলকাতায় ব্রাজিলের বিরুদ্ধেও ভারত ভালো লড়াই করা সত্ত্বেও ৪ – ০ তে হারে। এখানেও গুরপ্রীতের জন্য প্রথমার্ধে বাজে দুটি গোল হয়। উরুগুয়ের দিন ভেজা মাঠে প্রথমার্ধে ভারত ভাল খেলে অভিষেক থাপার একটি চমৎকার সুযোগসন্ধানী গোলে ১ – ১ সমতা ফেরায়। দ্বিতীয়ার্ধে ভারত উরুগুয়ের সঙ্গে আর পেরে ওঠে না। আরও পাঁচ গোল খায়। ফল ৬ – ১। অন্তত তিনটি গোল গুরপ্রীতের দোষে। বিশাল কেথ, প্রভসুখন সিং দের মত দক্ষ গোলকিপার থাকা সত্ত্বেও এআইএফএফ কেন গুরপ্রীতকে জ্ঞানেশ কুমারের মত রক্ষাকবচ দিয়ে রেখেছে আমাদের অজানা।
মারাদোনা ও মেসি: দিয়েগো মারাদোনা ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ অবধি চারটি ফিফা বিশ্বকাপে খেলেছেন। ‘ ৮২ র স্পেন বিশ্বকাপে পাঁচটি ম্যাচ খেলে দুটি গোল সহ দারুণ খেলে সাড়া ফেলে দেন। ‘ ৮৬ র মেক্সিকো বিশ্বকাপকে মাতিয়ে সাতটি ম্যাচ খেলে পাঁচ গোল দিয়ে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেন। ‘ ৯০ এর ইতালি বিশ্বকাপে প্রবল মার ও মার্কিং এর মধ্যেও অসাধারণ খেলে আর্জেন্টিনাকে রানার্স করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ৯৪ এর বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন। দুটি ম্যাচে একটি গোল দেন। এরপর মাদক গ্রহণের অভিযোগে তাঁকে চিরকালের জন্য নির্বাসিত করে দেওয়া হয়। মারাদোনার খেলার বৈশিষ্ট্য ছিল নিজে অ্যাটাকিং মিডিও হলেও সারা মাঠ জুড়ে খেলতেন; সহ খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ধারাবাহিকভাবে তাতিয়ে যেতেন; খর্বাকৃতি হলেও অসামান্য স্কিল, স্ট্রেন্থ, স্ট্যামিনা, ফিটনেস, ব্যালান্স, ফুটবল বোধ ও চাতুর্যের জন্য তাঁকে রোখা অসম্ভব হয়ে উঠত। দেখা যেত মারাদোনা অনায়াস ড্রিবল করতে করতে চার – পাঁচ জন খেলোয়াড়কে একদিকে টেনে নিয়ে গিয়ে মাপা পাশ বাড়াতেন এবং সেটি থেকে বুরুচাগা, ভালদানো বা কানিজিয়া রা গোল করতেন। আবার গোল না হলে নিজেই বিপক্ষ রক্ষণকে ভাঙচুর করে কিংবা ডেড বল সিচুয়েশন থেকে কম্পাসের মত মাপা কিকে গোল দিয়ে দিতেন।
লিওনেল মেসিও প্রায় সমগোত্রের দক্ষ খেলোয়াড়। তিনি ২০০৬ থেকে ২০১৮ অবধি চারটি বিশ্বকাপে ১৯ টি ম্যাচে ছয়টি গোল দিয়েও ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে রানার্স করা ছাড়া বিশ্বকাপে খুব একটা সাফল্য পাননি। ফরোয়ার্ড পজিশনে তাঁকে বিপক্ষ ডিফেন্ডাররা কড়া ম্যান মার্কিং ও জোরালো ট্যাকল করে নিষ্প্রভ করে দেয়। ২০২২ এর কাতার বিশ্বকাপ থেকে তিনি কৌশল বদলান। অনেকটা নেমে বল সংগ্রহ করে কখনও প্রান্ত দিয়ে, কখনও মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করতে শুরু করেন এবং হাতেনাতে ফল পান। ‘২২ এ চ্যাম্পিয়ন এবং ‘২৬ এ রানার্স এবং ১৪ টি ম্যাচ খেলে ১৫ গোল।
এবং সিজেপি: তার আগে সংক্ষেপে মোদিজীর একটু গুণগান করা প্রয়োজন। ভারতীয় রাজনীতিতে ও দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে এত সময় ধরে এত দাপটের সঙ্গে কেউ থাকতে পারেন নি। জহরলাল নেহরুর আগষ্ট ১৯৪৭ থেকে মে ১৯৬৪ অবধি ১৬ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রিত্ব সাফল্য ও ব্যর্থতায় ভরা। জানুয়ারি ১৯৬৬ থেকে মে ১৯৭৭ এবং জানুয়ারি ১৯৮০ থেকে অক্টোবর ১৯৮৪ ইন্দিরা গান্ধীর ১৬ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রিত্ব বিশাল বিশাল সাফল্য ও কর্মকাণ্ডর পাশাপাশি স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ, গণরোষে পতন, প্রত্যাবর্তন এবং শেষমেষ নিজ দেহরক্ষীর দ্বারা খুন হওয়ার মত ঘটনায় ভরা। নরেন্দ্র মোদির অক্টোবর ২০০০ থেকে মে ২০১৪ অবধি ১৩ বছরের বেশি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রিত্ব এবং মে ২০১৪ থেকে এখন অবধি ১২ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রিত্ব আদানি, আম্বানি সহ বড় বড় ব্যবসায়ীদের রাষ্ট্র ও জনগণের টাকা ও শ্রমসম্পদ এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ ও আত্মসাৎ করে অতি অতি ধনী হয়ে যাওয়া এবং গাল ভরা সব প্রকল্প ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে না, অথচ আম আদমির অনেকেই মনে করেন মোদিজী অনেক কিছু করে চলেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, বক্তব্য, বোলচালের এটিই বৈশিষ্ট্য। তাঁকে নিয়ে এক অতিমানব ও স্বপ্নের ফেরিওয়ালা রূপী কল্পকথা পশ্চাদপদ ধর্মভীরু ভারতীয়দের মধ্যে প্রচার করে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। বিজেপির ভাষায় মোদি জাদু। মোদি হায় তো মামকিন হায়। নমোর ক্যারিশমা ইত্যাদি।
তিনি কখনও রেল স্টেশনে চা বিক্রি করেছেন কিংবা কুমির শিকার করেছেন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি, অথচ মানুষের মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়েছে। যতদূর জানা যায় তিনি কখনও বিদ্যালয়ের চৌকাঠ মারান নি, অথচ তিনি আকাশবাণী, দূরদর্শন সহ বিভিন্ন মঞ্চে আম জনতাকে মন কি বাত এবং ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা পে চর্চায় নানা রকমের উপদেশ দেন। তাঁর যে ডিগ্রির কথা বলা হয় পৃথিবীর কোথাও পড়ানো হয় নি। এ নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন করেছিলেন তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। খুঁজে পাওয়া যায়নি দলের মধ্যে ও বাইরে যাঁরা তাঁর বিরোধিতা করেছেন। তিনি অত্যন্ত ভোগী, কিন্তু মানুষের কাছে প্রচারিত তিনি ত্যাগী। তাঁর বিলাসী জীবনযাপন ও নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণে জনগণের অর্থ নিঃশেষিত, অথচ প্রচারিত তিনি সর্বস্বত্যাগী সন্ন্যাসী। গুজরাট থেকে আরম্ভ করে সেদিন অবধি তাঁর ঘনিষ্ঠরাই তাঁর নারী প্রীতির অভিযোগ তুলেছিলেন, সব ধামা চাপা পড়ে গেছে। রাফেল কেলেঙ্কারি থেকে ব্যাঙ্ক, এলআইসি, বিএসএনএল প্রভৃতি কেলেঙ্কারি, আদানি – আম্বানিদের যাবতীয় সুবিধাপ্রাপ্তি নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠলেও সব ধামা চাপা পড়ে গেছে। যেমন ধামা চাপা পড়ে গেছে প্রবহমান মণিপুরের রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ থেকে অপারেশন সিঁদুরের ব্যর্থতা। নোট বন্দী থেকে আরম্ভ করে অর্থনীতির যাবতীয় ব্যর্থতাকে সাফল্য বলে চালানো হচ্ছে। আর তাঁর বিদেশ নীতি তো সর্বকালীন বিপর্যয়।
কিন্তু তাঁর দক্ষতা হচ্ছে সহযোগী ব্যবসায়ী – আমলা – রাজনীতিক – সশস্ত্র বাহিনীদের নিয়ে এমন এক কার্যকর একনায়কতন্ত্র গড়ে তোলা যেখানে দেশের মানুষ অত্যন্ত দুঃখ – কষ্ট – অভাবে থাকলেও হীরক রাজার দেশের মত সর্বক্ষণ মোদির জয়ধ্বনি করতে হচ্ছে। কোন প্রতিবাদ, বিতর্ক, প্রশ্ন নিষিদ্ধ। এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখিয়ে বা ঘুষ দিয়ে বিরোধী দলগুলিকে ভেঙ্গে; সেনা বাহিনী থেকে আমলাতন্ত্র, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আদালত সর্বত্র নিজের লোক বসিয়ে গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে ধরে এবং পেটোয়া নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচনগুলিতে কারচুপির মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে কুক্ষিগত করা ও ক্ষমতার কেন্দ্রিভবন। এই কাজে তাঁর দোসর অমিত শাহ। পুতিন ও শি জিনপিংয়ের মত মোদি অমর হতে চান এবং ২০৪৭ এও ক্ষমতায় থাকবেন ঘোষণা করেন।
এভাবে কংগ্রেসের আত্মা বলে পরিচিত গুজরাত থেকে কংগ্রেসকে উৎখাত করে সারা দেশে তাঁর ধর্মীয় মৌলবাদী, মধ্যযুগীয় বর্বর এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী এক শক্তিশালী ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে ফেলেছেন যেখানে দেশের মানুষ অসহায় এবং ডান – মধ্যপন্থী – বাম সমস্ত বিরোধী দলগুলি বোতলবন্দী।
সেখানে বিজ্ঞান এবং সমাজতত্বের নিয়ম মেনে উঠে এল নতুন শক্তি। সিজেপির নেতৃত্বে মোদির এই একনায়কতন্ত্রী, দুর্নীতিগ্রস্ত, মিথ্যাচারী, জনবিরোধী, ফ্যাসিবাদী অপশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে উঠে এলেন দেশের ছাত্র – যুব – তরুণ দল। স্বেচ্ছায় কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিলেন দেশ গড়ার।
সিজেপির উত্থান এবং নিট সহ সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলিতে নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার সঙ্গে সরকারের ক্ষতিকর শিক্ষানীতি, শিক্ষার বেসরকারি ও বাণিজ্যিকীকরণ এবং দেশের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার করুণ হাল নিয়ে ৬ জুন থেকে ২৫ জুলাই অবধি দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান, সংসদ অভিযান সহ শান্তিপূর্ণ গণ আন্দোলন, তাতে সরকারের ভয়ংকর দমনমূলক আচরণ এবং আন্দোলনে আম জনতার ব্যাপক সমর্থন ও উপস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা আদায় করে ছাড়া নিয়ে আগের দুটি প্রবন্ধে বিস্তারিত বলা হয়েছে।
এবারের বিষয় আরও বৃহৎ ও সাংঘাতিক। মোদি – অমিত শাহ নিয়ম পাল্টে কাশ্মীরে ৩৭০ বাতিল ও রাম জন্মভূমি অধিগ্রহণে তাঁদের সহযোগী আমলা জ্ঞানেশ কুমার কে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক পদে বসিয়ে এবং চিরকালীন রক্ষাকবচ দিয়ে বিনিময়ে তাকে দিয়ে একের পর এক কারচুপি করিয়ে গত লোকসভা নির্বাচন থেকে পরপর নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রভৃতি খুঁড়োর কলের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেন। বিরোধীরা এতদিন বলে এলেও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার অন্তর্তদন্তে বিষয়টি সামনে আসে। সিজেপির সফল আন্দোলনের ফলে উদ্দীপ্ত বিরোধীরা জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবি তে সোচ্চার হন। এরপর সিজেপিও সেই দাবি করে এবং ঘোষণা করে জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে তাঁরা ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে আন্দোলন শুরু করবেন। সোনম ওয়াংচুক থেকে নেহা বড়া তাঁদের সমর্থন করেন। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমুল, আরজেডি, এসপি, শিব সেনা …. এইসব সুবিধাবাদী দুর্নীতিগ্রস্ত আপোষকামী দলগুলিকে মানুষ যেমন অপছন্দ করে, বিজেপিও পাত্তা দেয় না যতই রাহুল গান্ধী মারাদোনা – মেসির মত সিজেপির বিজেপির ডিফেন্স ভাঙ্গা কে কাজে লাগিয়ে নিজেকে অ্যাঞ্জেল ডি ‘ মারিও হওয়ার চেষ্টা করুন। কিন্তু সিজেপি র ঘোষণার পরপরই দেশজুড়ে সারা পড়ে যায় এবং মোদি – শাহর বুকে কাঁপন ধরে যায়। তাঁরা যন্তর মন্তর কে ঘিরে দিল্লিতে দুর্ভেদ্য দুর্গ তৈরি করেন এবং প্রতিটি মিছিল থেকে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করেন।
মারাদোনা – মেসির পথে সিজেপি: সিজেপির বুদ্ধিমান নেতৃত্ব জানতেন যে এবারের লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে। বারেসি, মালদিনি, কোস্তাকুরতা ও তাসত্তি কে নিয়ে এসি মিলানের সেই কিংবদন্তি ডিফেন্সের মত মোদি – অমিত শাহ পুলিশ – আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে এবার ডিফেন্স সাজাবেন। তাই তাঁরা নিজেদের অর্ধের হাফ – লাইনের বাম প্রান্তে মুম্বাই এর শিবাজী পার্কে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করে বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের সমর্থন অর্জন করলেন, প্রচারও পেলেন। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলিকে সুযোগ দিলেন দিল্লিতে মোদি – অমিত শাহের ডিফেন্স কে ব্যস্ত রাখার। এরপর তাঁরা চলে গেলেন নিজেদের অর্ধের হাফ – লাইনের মাঝামাঝি ব্যাঙ্গালুরুতে। সেখানে প্রকাশ রাজ, ধ্রুব রাঠি দের নিয়ে জাতীয় পতাকা তুললেন। তারপর বিপক্ষের বুক চিরে গোল লক্ষ্য করে হঠাৎ দৌড়ের মত তিনদিন আগে ঘোষণা করলেন যন্তর মন্তর ২.০। চলো দিল্লি, দিল্লি চলো।
যন্তর মন্তর ২.০: যন্তর মন্তর ২.০ তে আগামী দিনগুলিতে কি হবে এখনও আমরা জানিনা। তবে ৫৬” ছাতি যে ভয়ে কাঁপছে এটকু বলা যায়। দিল্লির প্রাণ ভোমরা মেট্রোর ৫৭ টি স্টেশন ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোন রাজ্য থেকে দিল্লিতে ট্রেন আসতে দেওয়া হচ্ছে না। বিমানবন্দর ও দিল্লি সীমান্তে কড়া নজরদারি। ইতিমধ্যে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী, কমান্ডো মোতায়েন, ব্যারিকেডের পর ব্যারিকেড, ড্রোন, অঘোষিত জরুরি অবস্থা। দেশের তরুণদের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন কে আটকাতে মোদি সরকারের যুদ্ধ ঘোষণা।
যাঁদের সামান্য আরশোলা, পরজীবী, পোকা মাকড় বলে বিদ্রূপ করা হয়েছিল তাঁদের নিয়ে সূর্যকান্তদের আদিখ্যেতা। আবার সিজেপির কাঁধে বন্দুক রেখে নিজের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টায় পশ্চিমবঙ্গের চোর, অপরাধী, জিহাদি, স্বঘোষিত আসল বাম ও বিপ্লবীদের জনবিরোধী নেত্রী ও তার ডাকাত আত্মজ দিল্লিতে উপস্থিত হয়েছেন।
আরশোলারা কোন ফুটো ফাটা দিয়ে ঢুকে পড়বে কেউ জানেনা যদিও গৃহমন্ত্রী সব ফুটো বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছেন।
তবে এটা বলার বোধহয় সময় এসেছে যে স্বাধীনতার ৮০ বছরে কংগ্রেস, বাম, সমাজবাদী, বিজেপি, তৃণমুল প্রমুখদের আত্মসর্বস্ব, দুর্নীতিময়, পচনশীল রাজনীতিকে নস্যাৎ করে তাজা রক্তে টগবগ তরুণদের প্রত্যয়ী বুকে আম্বেদকর ও গান্ধীর চেতবাণী নিয়ে দেশজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য ও অনুশীলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
০১.১০.২০২৬










